০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
ঘুমের মধ্যে ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন? তীব্র তাপপ্রবাহে সুতি উৎপাদনে ধসের আশঙ্কা, বিপাকে বস্ত্রশিল্প কাতারে শোক জানাতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সঙ্গে নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের শোকবার্তা: বাংলাদেশের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানিতে গভীর সমবেদনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল— কীভাবে পৌঁছালো এই চার দল, তাদের বিস্তারিত বিবরণ ও বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন, কারাবন্দিদের চিকিৎসায় ঘাটতিতে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মোড়ে, উপসাগজজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা; হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন: নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা, নজরে দেশ-বিদেশ  ই২০ পেট্রোল বিতর্কে মুখ খুলল মার্সিডিজ-বেঞ্জ ইন্ডিয়া, সৌরভ যোশীর অভিযোগের পর জারি পরামর্শ ব্যাংককের পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭, হাসপাতালে বহু আহত

শৈশবের সঞ্চয় থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগ: মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে চাওয়া সেই শিশুর গল্প

ছোটবেলায় প্রতিদিনের সামান্য হাতখরচ জমিয়ে মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে চেয়েছিলেন ডেভিড নগ। বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। কয়েক মাস ধরে ৫০ সেন্ট করে জমিয়ে তিনি ৫০ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। সেই ছোট্ট বয়সের সঞ্চয় আর অন্যের আনন্দকে নিজের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতাই পরবর্তী জীবনে তার অর্থ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছোটবেলার শিক্ষা, বড় জীবনের পথ

ডেভিড নগ বর্তমানে আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আরকি ফাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার বিশ্বাস, অর্থ শুধু জমিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার একটি মাধ্যম।

তিনি জানান, ছোটবেলায় তার পরিবার ছিল মিতব্যয়ী। তবে প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনের উন্নতিতে তারা কখনো পিছপা হতেন না। এই মূল্যবোধই তাকে অর্থের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আস্থা

ডেভিড নগের মতে, সম্পদ তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য ও নিয়মিত বিনিয়োগ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে বিনিয়োগ ধরে রাখাকে নিজের অন্যতম সেরা আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।

তার বিনিয়োগ কৌশল তিনটি ভাগে সাজানো। স্বল্প সময়ের প্রয়োজনের জন্য নিরাপদ অর্থ, নিয়মিত আয় দেয় এমন সম্পদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকা বিনিয়োগ—এই তিন দিক বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন।

ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা

জীবনের শুরুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ভুলও করেছেন ডেভিড নগ। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া জনপ্রিয় কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তিনি।

তার মতে, বাজারের ওঠানামা অনুমান করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো সম্পদ বেছে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগে থাকা। সময়ের সঙ্গে সম্পদের বৃদ্ধি অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সঞ্চয়ের অভ্যাস থেকে সফলতার গল্প

১৮ বছর বয়সে প্রথমবার বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন ডেভিড নগ। অল্প অর্থ দিয়েই শুরু হলেও সেই অভিজ্ঞতা তাকে আর্থিক জগতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। পরে তিনি বৈশ্বিক আর্থিক খাতে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

তার জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল যখন তার বিনিয়োগ সম্পদের মূল্য প্রথমবার এক মিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়ায়। তবে তার কাছে এটি শুধু অর্থের পরিমাণ ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও পরিকল্পনার ফল ছিল।

সম্পদ ও জীবনের ভারসাম্য

ডেভিড নগ মনে করেন, সফলতার পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ভারসাম্য মানে হলো প্রয়োজনের সময় কাজে মনোযোগী থাকা এবং অবসরের সময় পুরোপুরি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকা।

শৈশবের ছোট্ট সঞ্চয়ের অভ্যাস থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দর্শন—ডেভিড নগের গল্প দেখায়, অর্থ ব্যবস্থাপনায় ছোট সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে ছোটবেলায় সঞ্চয় করা শিশুটিই আজ বড় বিনিয়োগ দর্শনের উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমের মধ্যে ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় কেন?

শৈশবের সঞ্চয় থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগ: মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে চাওয়া সেই শিশুর গল্প

১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ছোটবেলায় প্রতিদিনের সামান্য হাতখরচ জমিয়ে মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে চেয়েছিলেন ডেভিড নগ। বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। কয়েক মাস ধরে ৫০ সেন্ট করে জমিয়ে তিনি ৫০ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। সেই ছোট্ট বয়সের সঞ্চয় আর অন্যের আনন্দকে নিজের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতাই পরবর্তী জীবনে তার অর্থ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছোটবেলার শিক্ষা, বড় জীবনের পথ

ডেভিড নগ বর্তমানে আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আরকি ফাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার বিশ্বাস, অর্থ শুধু জমিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করার একটি মাধ্যম।

তিনি জানান, ছোটবেলায় তার পরিবার ছিল মিতব্যয়ী। তবে প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনের উন্নতিতে তারা কখনো পিছপা হতেন না। এই মূল্যবোধই তাকে অর্থের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আস্থা

ডেভিড নগের মতে, সম্পদ তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য ও নিয়মিত বিনিয়োগ। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে বিনিয়োগ ধরে রাখাকে নিজের অন্যতম সেরা আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন।

তার বিনিয়োগ কৌশল তিনটি ভাগে সাজানো। স্বল্প সময়ের প্রয়োজনের জন্য নিরাপদ অর্থ, নিয়মিত আয় দেয় এমন সম্পদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকা বিনিয়োগ—এই তিন দিক বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন।

ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা

জীবনের শুরুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ভুলও করেছেন ডেভিড নগ। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া জনপ্রিয় কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তিনি।

তার মতে, বাজারের ওঠানামা অনুমান করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো সম্পদ বেছে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগে থাকা। সময়ের সঙ্গে সম্পদের বৃদ্ধি অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সঞ্চয়ের অভ্যাস থেকে সফলতার গল্প

১৮ বছর বয়সে প্রথমবার বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন ডেভিড নগ। অল্প অর্থ দিয়েই শুরু হলেও সেই অভিজ্ঞতা তাকে আর্থিক জগতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। পরে তিনি বৈশ্বিক আর্থিক খাতে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

তার জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল যখন তার বিনিয়োগ সম্পদের মূল্য প্রথমবার এক মিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়ায়। তবে তার কাছে এটি শুধু অর্থের পরিমাণ ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও পরিকল্পনার ফল ছিল।

সম্পদ ও জীবনের ভারসাম্য

ডেভিড নগ মনে করেন, সফলতার পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে ভারসাম্য মানে হলো প্রয়োজনের সময় কাজে মনোযোগী থাকা এবং অবসরের সময় পুরোপুরি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকা।

শৈশবের ছোট্ট সঞ্চয়ের অভ্যাস থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দর্শন—ডেভিড নগের গল্প দেখায়, অর্থ ব্যবস্থাপনায় ছোট সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মায়ের জন্য ঘড়ি কিনতে ছোটবেলায় সঞ্চয় করা শিশুটিই আজ বড় বিনিয়োগ দর্শনের উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।