বিশ্বখ্যাত নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান গ্রিক মহাকাব্য ‘ওডিসি’কে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন। বিশাল পরিসরের এই চলচ্চিত্রে যুদ্ধ, অভিযান ও দেবতার গল্পের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও অপেক্ষার গভীরতা।
মহাকাব্যের নতুন ব্যাখ্যায় নোলানের ভাবনা
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, নোলান মনে করেন ‘ওডিসি’ এমন এক গল্প, যা হাজার বছর ধরে মানুষের সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছে। এত পরিচিত একটি কাহিনিকে নতুন করে উপস্থাপন করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, আধুনিক দর্শকের কাছে গল্পটিকে নতুন অনুভূতি ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
নোলানের চলচ্চিত্রে শুধু বীর যোদ্ধা ওডিসিউসের দীর্ঘ যাত্রা নয়, বরং তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা মানুষদের জীবনও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। স্ত্রী পেনেলোপির অপেক্ষা, নিজের অবস্থান ধরে রাখার সংগ্রাম এবং ছেলে টেলেমাকাসের বাবাকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ভালোবাসা, পরিবার ও অপেক্ষার গল্প
নোলান এই কাহিনিকে শুধু অভিযানভিত্তিক গল্প হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে এটি একটি দীর্ঘ সম্পর্কের গল্প, যেখানে সময়, দূরত্ব ও পরিবর্তনের মধ্যেও ভালোবাসার শক্তি ফুটে ওঠে। নির্মাতা ও তাঁর স্ত্রী এমা থমাসের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতাও এই ভাবনার সঙ্গে কিছুটা মিলে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ম্যাট ডেমন ও অ্যান হ্যাথওয়ের অভিনয়ে নতুন মাত্রা
ওডিসিউস চরিত্রে ম্যাট ডেমন এবং পেনেলোপি চরিত্রে অ্যান হ্যাথওয়ের অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। নোলানের মতে, পেনেলোপি এমন এক চরিত্র, যার মধ্যে রাজকীয় শক্তি ও গভীর মানবিক অনুভূতি একসঙ্গে রয়েছে।

ম্যাট ডেমনের চরিত্র ওডিসিউস প্রচলিত নায়কদের মতো নয়। তিনি কৌশলী, বুদ্ধিমান এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মতো অনুভূতিশীল। নোলান মনে করেন, এই চরিত্রে একজন এমন অভিনেতা প্রয়োজন ছিল, যিনি দর্শকের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি অসাধারণ শক্তির প্রকাশ ঘটাতে পারেন।
প্রযুক্তি ও বিশাল আয়োজনের নতুন দৃষ্টান্ত
নোলান দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন এমন একটি মহাকাব্যিক গল্পকে বড় পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরার প্রযুক্তিগত সুযোগ আগে পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এবার তিনি আধুনিক নির্মাণ কৌশল ব্যবহার করে প্রাচীন কাহিনিকে নতুন অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ওডিসি’ তাই শুধু একটি প্রাচীন কাহিনির পুনর্নির্মাণ নয়, বরং পরিবার, ভালোবাসা, হারানো সময় এবং ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার এক মানবিক চলচ্চিত্র হিসেবে দর্শকদের সামনে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















