ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা পাল্টা জবাব দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
নতুন করে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি হামলা
গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ধারাবাহিক হামলা চলছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও সেতুসহ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইরান ও তাদের মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে স্মরণীয় জবাব দেবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ
সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের একটি তেল স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় পানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। অনেক মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান এই পথের নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমাধানের আশা কমছে
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক হামলার পর রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে থাকায় সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়ার কথা জানিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















