যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের এক বিচারপতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। একটি পুরোনো ফৌজদারি মামলার রায় দিতে গিয়ে তিনি সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পুরোনো মামলার রায়ে নতুন বিতর্ক
হাওয়াই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি টড এডিনস একটি দীর্ঘ রায়ে ১৯৯০ সালের একটি অপরাধ মামলার পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপস্থাপিত চুল ও আঁশ সংক্রান্ত প্রমাণ পরে ভুল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল বলে প্রশ্নের মুখে পড়ে।
রায়ের একটি বড় অংশে এডিনস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যের সংবিধান নাগরিক অধিকার রক্ষায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ
বিচারপতি এডিনস অভিযোগ করেন, বর্তমান সর্বোচ্চ আদালতের কিছু সিদ্ধান্ত নাগরিক অধিকার দুর্বল করেছে এবং অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের বর্ণবৈষম্যবিরোধী আইনি অগ্রগতির সঙ্গে বর্তমান কিছু ব্যাখ্যার পার্থক্য রয়েছে। তার মতে, সংবিধানের পুরোনো ব্যাখ্যার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আধুনিক সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।
অঙ্গরাজ্যের সংবিধানের ভূমিকা
এডিনসের বক্তব্য ছিল, যখন জাতীয় পর্যায়ে অধিকার সুরক্ষার ব্যাখ্যা নিয়ে পরিবর্তন আসে, তখন অঙ্গরাজ্যের সংবিধান নাগরিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
তিনি বলেন, হাওয়াইয়ের আদালত নিজস্ব সংবিধান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সেটিকে কোনো ধরনের বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

আইনি মহলে প্রতিক্রিয়া
এই রায় প্রকাশের পর আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, কোনো অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত সমালোচনা সাধারণ ঘটনা নয়।
অন্যদিকে, কিছু আইন বিশ্লেষক বিচারপতির বক্তব্যকে আদালতের স্বাভাবিক সংযমের সীমা অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
আগের বিরোধের প্রেক্ষাপট
এই বিতর্কের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত হাওয়াইয়ের একটি অস্ত্র বহন সংক্রান্ত নিয়ম বাতিল করেছিল। সেই সিদ্ধান্তও অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় আদালতের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয় হয়ে উঠেছিল।
হাওয়াইয়ের সর্বোচ্চ আদালতে টড এডিনস ২০২০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও অঙ্গরাজ্যের বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















