মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বোজম্যান শহর এক সময় ছিল শান্ত, ছোট এবং প্রকৃতিনির্ভর একটি জনপদ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটির চিত্র আমূল বদলে গেছে। ধনীদের আগমন, দ্রুত বাড়তে থাকা আবাসন ব্যয় এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার সংকট এখন বোজম্যানের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
দ্রুত বদলে যাওয়া এক শহর
করোনা মহামারির পর থেকেই বোজম্যানে নতুন বাসিন্দার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন আসা মানুষের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এর ফলে বাড়ি কেনা ও ভাড়া—দুই ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময়ের শান্ত শহর এখন নির্মাণকাজ, নতুন আবাসন প্রকল্প এবং বাইরের রাজ্যের মানুষের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
‘ইয়েলোস্টোন’ সিরিজের প্রভাব
অনেকের মতে, জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটক ‘ইয়েলোস্টোন’ বোজম্যান ও আশপাশের এলাকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। নাটকে মন্টানার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খামারজীবন এবং পাহাড়ি পরিবেশ তুলে ধরা হয়, যা বহু মানুষকে এই অঞ্চলে বসবাসের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।
এর সঙ্গে মহামারির সময় বড় শহর ছেড়ে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা ও শান্ত পরিবেশে থাকার প্রবণতাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আবাসনের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়।

আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, চাপে সাধারণ মানুষ
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম ও ভাড়াও দ্রুত বেড়েছে। অনেক স্থানীয় পরিবার আর নিজেদের শহরে বাড়ি কিনতে বা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারছেন না। কেউ কেউ শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন, আবার অনেকেই অতিরিক্ত কাজ করে কিংবা অন্যদের সঙ্গে বাসা ভাগাভাগি করে জীবন চালাচ্ছেন।
একসময়ের ছোট ব্যবসার জায়গায় এখন বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ, দামী দোকান এবং পর্যটককেন্দ্রিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।
মোবাইল হোম পার্কেও অনিশ্চয়তা
সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন মোবাইল হোম পার্কে বসবাসকারী মানুষরা। জমির ভাড়া বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা প্রতিবাদে সংগঠিত হন। তাদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে ভবিষ্যতে বসবাসের সুযোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
অনেকের মতে, বছরের পর বছর ধরে একই জায়গায় থাকা মোবাইল বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াও বাস্তবে সম্ভব নয়। ফলে ভাড়া বাড়লেও বিকল্প থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরুণদের দাবি, পরিবর্তন দরকার
স্থানীয় তরুণ রাজনৈতিক নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের অভিযোগ, দ্রুত উন্নয়নের সুফল মূলত ধনী ও বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন, অথচ দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা নিজেদের শহরেই টিকে থাকার লড়াই করছেন।
বোজম্যানের বর্তমান বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে, জনপ্রিয়তা ও বিনিয়োগ একটি শহরের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিলেও, পরিকল্পিত নীতি না থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য সেই পরিবর্তন বড় সংকটও তৈরি করতে পারে।
মন্টানার বোজম্যান শহরে ধনীদের আগমন ও আবাসন সংকটের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন। কীভাবে বদলে যাচ্ছে শহর, জানুন এক নজরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















