১১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের যুদ্ধে মৃত্যু কি শুধু সংখ্যা, নাকি মানুষের মূল্যও বহন করে? যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নিহতের পর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ওয়াশিংটন-তেহরান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে হরিদ্বারে হিন্দু নারী বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ায় মুসলিম যুবককে মারধর, গলায় কুকুরের লিশ পরানোর অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে রিজভীর বক্তব্য: আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আদালত ও ইসির স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল: মেসির জাদু নাকি ইয়ামাল-রদ্রির আধিপত্য, কৌশলের লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী? সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা: কেন ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রকৃত নায়ক ছিলেন রেফারি সিমন মারচিনিয়াক জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে রাজনীতি টিকবে না, সংবিধান সংস্কারে সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেগ, মেসি ও ইতিহাসের হাতছানি: স্পেনের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ফেনীতে এক মিনিটের টর্নেডো: ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি কোয়েটা ও জিয়ারাতে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প, তাৎক্ষণিক কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন পরীক্ষা: আইসিসিকে দুর্বল করার রাজনীতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলা, যা রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সামরিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের বিচার করতে পারবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আদর্শকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক শুধু একজন কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়; এটি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং টিকে থাকার প্রশ্নও।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। সে সময় করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার উদ্যোগ নেন। একই প্রক্রিয়ায় হামাসের এক শীর্ষ কমান্ডারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে এবং তালেবান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, অভিযুক্তের পরিচয় বা ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং অভিযোগের প্রকৃতিই ছিল তার পদক্ষেপের ভিত্তি।

এই সিদ্ধান্তের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটর প্রকাশ্যে সতর্ক করেছিলেন যে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে করিম খান ব্যক্তিগতভাবে এর পরিণতি ভোগ করবেন। পরে দেখা গেল, সেই সতর্কবার্তার বাস্তব প্রতিফলন যেন ধীরে ধীরে সামনে আসছে। এখন তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে অপসারণের আলোচনা জোরদার হয়েছে।

অবশ্য অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। আইসিসির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিচারিক ব্যবস্থায় অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং সেখানে অসদাচরণ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তবুও বিতর্ক থেমে নেই। বরং এখন এমন একটি প্রক্রিয়ার দিকে এগোনো হচ্ছে, যেখানে অভিযোগের সত্যতা এবং প্রধান কৌঁসুলিকে অপসারণ—এই দুটি পৃথক প্রশ্নকে একই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

এই পদ্ধতি উদ্বেগজনক। কারণ এতে এমন একটি নজির তৈরি হতে পারে, যেখানে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে, তবে শুধু একজন কৌঁসুলি নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগও খুব সীমিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিসির বিরুদ্ধে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা আরও বিস্তৃত একটি রাজনৈতিক অভিযানের অংশ বলেই মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আদালতের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। করিম খান, তার দুই উপপ্রধান এবং কয়েকজন বিচারক সেই তালিকায় রয়েছেন। তাদের ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবায়ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে।

এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশ্যেই আইসিসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। আদালটিকে আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন সামনে এনে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে।

How the ICC warrant against Netanyahu is testing democracies - Geneva  Solutions

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়—এমন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এই প্রশ্নে কৌশলগত সমন্বয়ের ইঙ্গিতও সামনে এসেছে। ফলে আইসিসিকে ঘিরে বিরোধ আর কেবল আইনগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যতের অংশ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট মিলও এখানে চোখে পড়ে। উভয় পক্ষই এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ চায়, যেখানে তাদের সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের কার্যকর বিচারিক ক্ষমতা সীমিত থাকে। সে অর্থে করিম খানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক শুধু একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার সুযোগ, যা প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে চেয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে। তারা কি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আদালতের বিচারিক নীতিকে সম্মান করবে, নাকি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিচারিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার পথ বেছে নেবে? যদি দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শক্তি কখনোই সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেনি; তার শক্তি এসেছে আইনের প্রতি আস্থা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকে। সেই আস্থা ক্ষুণ্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পুরো ধারণাই।

করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ ও ন্যায্য তদন্ত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তাহলে আইসিসির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। আজকের সিদ্ধান্ত তাই কেবল একজন কৌঁসুলির ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; এটি নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান থাকবে, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের যুদ্ধে মৃত্যু কি শুধু সংখ্যা, নাকি মানুষের মূল্যও বহন করে?

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন পরীক্ষা: আইসিসিকে দুর্বল করার রাজনীতি

০৫:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলা, যা রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সামরিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের বিচার করতে পারবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আদর্শকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক শুধু একজন কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়; এটি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং টিকে থাকার প্রশ্নও।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। সে সময় করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার উদ্যোগ নেন। একই প্রক্রিয়ায় হামাসের এক শীর্ষ কমান্ডারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে এবং তালেবান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, অভিযুক্তের পরিচয় বা ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং অভিযোগের প্রকৃতিই ছিল তার পদক্ষেপের ভিত্তি।

এই সিদ্ধান্তের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটর প্রকাশ্যে সতর্ক করেছিলেন যে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে করিম খান ব্যক্তিগতভাবে এর পরিণতি ভোগ করবেন। পরে দেখা গেল, সেই সতর্কবার্তার বাস্তব প্রতিফলন যেন ধীরে ধীরে সামনে আসছে। এখন তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে অপসারণের আলোচনা জোরদার হয়েছে।

অবশ্য অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। আইসিসির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিচারিক ব্যবস্থায় অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং সেখানে অসদাচরণ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তবুও বিতর্ক থেমে নেই। বরং এখন এমন একটি প্রক্রিয়ার দিকে এগোনো হচ্ছে, যেখানে অভিযোগের সত্যতা এবং প্রধান কৌঁসুলিকে অপসারণ—এই দুটি পৃথক প্রশ্নকে একই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

এই পদ্ধতি উদ্বেগজনক। কারণ এতে এমন একটি নজির তৈরি হতে পারে, যেখানে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে, তবে শুধু একজন কৌঁসুলি নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগও খুব সীমিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিসির বিরুদ্ধে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা আরও বিস্তৃত একটি রাজনৈতিক অভিযানের অংশ বলেই মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আদালতের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। করিম খান, তার দুই উপপ্রধান এবং কয়েকজন বিচারক সেই তালিকায় রয়েছেন। তাদের ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবায়ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে।

এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশ্যেই আইসিসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। আদালটিকে আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন সামনে এনে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে।

How the ICC warrant against Netanyahu is testing democracies - Geneva  Solutions

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়—এমন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এই প্রশ্নে কৌশলগত সমন্বয়ের ইঙ্গিতও সামনে এসেছে। ফলে আইসিসিকে ঘিরে বিরোধ আর কেবল আইনগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যতের অংশ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট মিলও এখানে চোখে পড়ে। উভয় পক্ষই এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ চায়, যেখানে তাদের সামরিক বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের কার্যকর বিচারিক ক্ষমতা সীমিত থাকে। সে অর্থে করিম খানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক শুধু একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার সুযোগ, যা প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে চেয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সামনে। তারা কি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আদালতের বিচারিক নীতিকে সম্মান করবে, নাকি রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিচারিক সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার পথ বেছে নেবে? যদি দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শক্তি কখনোই সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেনি; তার শক্তি এসেছে আইনের প্রতি আস্থা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকে। সেই আস্থা ক্ষুণ্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পুরো ধারণাই।

করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ ও ন্যায্য তদন্ত হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তাহলে আইসিসির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। আজকের সিদ্ধান্ত তাই কেবল একজন কৌঁসুলির ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; এটি নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান থাকবে, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে।