সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে জনগণের স্বার্থ—এমন বার্তা দিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য অটুট রাখার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক বন্ধন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মতপার্থক্য থাকলেও জোটের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।
ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান
যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে যেমন সবাই একসঙ্গে ছিলেন, তেমনি সামনেও দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করবেন। তিনি শরিক নেতাদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, কোথাও কোনো ঘাটতি থেকে থাকলে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারের কাছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের আগে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মতপার্থক্য থাকলেও লক্ষ্য এক

তারেক রহমান বলেন, সংস্কার কর্মসূচির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, তবে সেটিকে বিভক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সবার লক্ষ্য এক—রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জাতীয় অঙ্গীকার পূরণ করা।
তিনি জানান, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে জোটের ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।
সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা পেয়েছে যেখানে অর্থনীতি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের অনেক ক্ষেত্রেই সংকট ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ খাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের শাসনের প্রভাব এবং গোপন বাধার কারণে প্রত্যাশিত গতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি
তারেক রহমান বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের মানুষ। জনগণ শুধু বিএনপির নয়, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক বিদায়ের নয়, বরং ভবিষ্যতের পথচলার। যারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন, তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি শরিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















