কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কথাই তুলে ধরেছেন মাস্টারকার্ডের প্রধান বিপণন ও যোগাযোগ কর্মকর্তা জিল ক্রেমার। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক।
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান
জিল ক্রেমারের ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ে ভয় বা দ্বিধায় না থেকে এর ইতিবাচক সম্ভাবনাগুলো আগে দেখা উচিত। তিনি মনে করেন, নতুন এই প্রযুক্তি বিপণন পেশাজীবীদের এমন অনেক সুযোগ করে দিতে পারে, যা আগে সম্ভব ছিল না। তাই এটি কীভাবে কৌশল নির্ধারণ, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
প্রতিষ্ঠানের শক্তি আসে ব্র্যান্ডের প্রতি সবার দায়বদ্ধতা থেকে
গত বছরের শেষ দিকে মাস্টারকার্ডে যোগ দেওয়া ক্রেমার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তি হলো ব্র্যান্ডকে শুধু বিপণন বিভাগের বিষয় হিসেবে না দেখে পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মী ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব অনুভব করেন।
তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে নিতে হলে বর্তমান অবস্থান মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হয়। পরিকল্পনা ছাড়া পরিবর্তন নয়, বরং সুপরিকল্পিত অগ্রযাত্রাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতা এনে দেয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে সৃজনশীলতার চালিকাশক্তি
ক্রেমার বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈশ্বিক নানা চাপের মধ্যে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সব ধরনের কার্যকর উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই উপকরণগুলোর অন্যতম।
তাঁর মতে, শুধু সময় সাশ্রয় বা কর্মীসংখ্যার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করলে প্রযুক্তির প্রকৃত সম্ভাবনা বোঝা যাবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কী করা সম্ভব, যা আগে করা যেত না।

গবেষণা ও কৌশল নির্ধারণে নতুন সম্ভাবনা
সম্প্রতি জাপানে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্রেমার জানান, সীমিত সময়ের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় স্থানীয় সংস্কৃতি, বাজার এবং ভোক্তাদের আচরণ নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আলোচনা হয়েছে আরও গভীর, তথ্যসমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেন, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৌশল তৈরির প্রতিটি ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সৃজনশীল চিন্তার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং বিপণনের মানও অনেক উঁচুতে পৌঁছাবে।
বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করলে আরও কার্যকর, উদ্ভাবনী এবং অর্থবহ যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিতর্ক চললেও, সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বিপণন জগতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















