০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত সিএনজি, শিল্প ও আবাসিক খাত, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে সরবরাহ কমেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হরমুজ সংকটে ইউরিয়ার দাম বেড়েছে, তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি ময়মনসিংহে গ্যাসসংকটে সিএনজি চালকদের মহাসড়ক অবরোধ, আড়াই ঘণ্টায় স্থবির জনজীবন ময়মনসিংহে নিখোঁজ যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার, মাটি খুঁড়ে মিলল মাথাবিহীন মরদেহ ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর নিট-ইউজি আন্দোলনে নতুন অভিযোগ, দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত বাড়ির গ্রীষ্মকালীন বিশৃঙ্খলা সামলাতে ব্যবসায়িক কৌশল, পরিবারের কাজের তালিকায় মিলল নতুন সমাধান জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগ, এক ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত চালকবিহীন গাড়ির যুগ আসছে আরও দ্রুত, দাবি ফক্সকনের বৈদ্যুতিক গাড়ি বিভাগের প্রধান অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকদের জন্য বড় সুযোগ, ক্ষতিপূরণ দাবি করতে সময় হাতে আর মাত্র কয়েক দিন 

বিপণনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন দিগন্ত খুলছে, বললেন মাস্টারকার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কথাই তুলে ধরেছেন মাস্টারকার্ডের প্রধান বিপণন ও যোগাযোগ কর্মকর্তা জিল ক্রেমার। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

জিল ক্রেমারের ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ে ভয় বা দ্বিধায় না থেকে এর ইতিবাচক সম্ভাবনাগুলো আগে দেখা উচিত। তিনি মনে করেন, নতুন এই প্রযুক্তি বিপণন পেশাজীবীদের এমন অনেক সুযোগ করে দিতে পারে, যা আগে সম্ভব ছিল না। তাই এটি কীভাবে কৌশল নির্ধারণ, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

প্রতিষ্ঠানের শক্তি আসে ব্র্যান্ডের প্রতি সবার দায়বদ্ধতা থেকে

Mastercard Taps Accenture's Jill Kramer as Global CMO - MIT Sloan  Management Review Middle East

গত বছরের শেষ দিকে মাস্টারকার্ডে যোগ দেওয়া ক্রেমার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তি হলো ব্র্যান্ডকে শুধু বিপণন বিভাগের বিষয় হিসেবে না দেখে পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মী ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব অনুভব করেন।

তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে নিতে হলে বর্তমান অবস্থান মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হয়। পরিকল্পনা ছাড়া পরিবর্তন নয়, বরং সুপরিকল্পিত অগ্রযাত্রাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতা এনে দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে সৃজনশীলতার চালিকাশক্তি

ক্রেমার বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈশ্বিক নানা চাপের মধ্যে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সব ধরনের কার্যকর উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই উপকরণগুলোর অন্যতম।

তাঁর মতে, শুধু সময় সাশ্রয় বা কর্মীসংখ্যার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করলে প্রযুক্তির প্রকৃত সম্ভাবনা বোঝা যাবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কী করা সম্ভব, যা আগে করা যেত না।

Jill Kramer (@Jill_Kramer) / Posts / X

গবেষণা ও কৌশল নির্ধারণে নতুন সম্ভাবনা

সম্প্রতি জাপানে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্রেমার জানান, সীমিত সময়ের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় স্থানীয় সংস্কৃতি, বাজার এবং ভোক্তাদের আচরণ নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আলোচনা হয়েছে আরও গভীর, তথ্যসমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত।

তিনি বলেন, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৌশল তৈরির প্রতিটি ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সৃজনশীল চিন্তার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং বিপণনের মানও অনেক উঁচুতে পৌঁছাবে।

বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করলে আরও কার্যকর, উদ্ভাবনী এবং অর্থবহ যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিতর্ক চললেও, সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বিপণন জগতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত সিএনজি, শিল্প ও আবাসিক খাত, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিতে সরবরাহ কমেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট

বিপণনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন দিগন্ত খুলছে, বললেন মাস্টারকার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা

১২:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক থাকলেও, বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কথাই তুলে ধরেছেন মাস্টারকার্ডের প্রধান বিপণন ও যোগাযোগ কর্মকর্তা জিল ক্রেমার। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করে তোলার জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

জিল ক্রেমারের ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ে ভয় বা দ্বিধায় না থেকে এর ইতিবাচক সম্ভাবনাগুলো আগে দেখা উচিত। তিনি মনে করেন, নতুন এই প্রযুক্তি বিপণন পেশাজীবীদের এমন অনেক সুযোগ করে দিতে পারে, যা আগে সম্ভব ছিল না। তাই এটি কীভাবে কৌশল নির্ধারণ, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

প্রতিষ্ঠানের শক্তি আসে ব্র্যান্ডের প্রতি সবার দায়বদ্ধতা থেকে

Mastercard Taps Accenture's Jill Kramer as Global CMO - MIT Sloan  Management Review Middle East

গত বছরের শেষ দিকে মাস্টারকার্ডে যোগ দেওয়া ক্রেমার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তি হলো ব্র্যান্ডকে শুধু বিপণন বিভাগের বিষয় হিসেবে না দেখে পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মী ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব অনুভব করেন।

তাঁর মতে, একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে নিতে হলে বর্তমান অবস্থান মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হয়। পরিকল্পনা ছাড়া পরিবর্তন নয়, বরং সুপরিকল্পিত অগ্রযাত্রাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতা এনে দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে সৃজনশীলতার চালিকাশক্তি

ক্রেমার বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বৈশ্বিক নানা চাপের মধ্যে বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সব ধরনের কার্যকর উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই উপকরণগুলোর অন্যতম।

তাঁর মতে, শুধু সময় সাশ্রয় বা কর্মীসংখ্যার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করলে প্রযুক্তির প্রকৃত সম্ভাবনা বোঝা যাবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কী করা সম্ভব, যা আগে করা যেত না।

Jill Kramer (@Jill_Kramer) / Posts / X

গবেষণা ও কৌশল নির্ধারণে নতুন সম্ভাবনা

সম্প্রতি জাপানে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্রেমার জানান, সীমিত সময়ের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় স্থানীয় সংস্কৃতি, বাজার এবং ভোক্তাদের আচরণ নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আলোচনা হয়েছে আরও গভীর, তথ্যসমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত।

তিনি বলেন, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৌশল তৈরির প্রতিটি ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সৃজনশীল চিন্তার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং বিপণনের মানও অনেক উঁচুতে পৌঁছাবে।

বিপণনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করলে আরও কার্যকর, উদ্ভাবনী এবং অর্থবহ যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিতর্ক চললেও, সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বিপণন জগতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন এই শীর্ষ কর্মকর্তা।