গ্রীষ্মের ছুটিতে পরিবারের নিয়মিত রুটিন ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বাড়িতে শিশুদের সময় কাটানো, কাজের ভারসাম্য রাখা এবং ঘর গোছানো—সবকিছু একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের পরিবারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন এক মা। তাঁর দাবি, শুরুতে অনীহা থাকলেও পরে পরিবারের সবাই সহজেই এই পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
ছোট ছোট কাজেই বড় পরিবর্তন
তিনি জানান, কাজের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে তিনি পরিচিত হন ‘কানবান’ পদ্ধতির সঙ্গে। জাপানে উদ্ভাবিত এই ব্যবস্থাপনা কৌশল মূলত বড় প্রকল্পকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সহজে সম্পন্ন করার ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
বাড়ির সব কাজকে একসঙ্গে না রেখে তিনি আলাদা আলাদা ছোট কাজ হিসেবে ভাগ করেন। যেমন পুরো ঘর পরিষ্কার করার পরিবর্তে টেবিল মুছে ফেলা, পরিষ্কার বাসন গুছিয়ে রাখা বা বই পড়ার মতো নির্দিষ্ট কাজ আলাদা কাগজে লিখে বোর্ডে সাজিয়ে দেন।
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা পরিকল্পনা
দুই সন্তানের স্বভাব ও আগ্রহ ভিন্ন হওয়ায় তাঁদের জন্যও আলাদা ধরনের কাজ নির্ধারণ করা হয়। বড় সন্তানকে সৃজনশীল লেখালেখির মতো কাজ দেওয়া হয়, আর ছোট সন্তানের জন্য রাখা হয় পোষা প্রাণীর দেখাশোনা বা ঘরের ছোটখাটো দায়িত্ব।
এর পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু সময় বই পড়া, পারিবারিক খেলাধুলা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও রাখা হয়, যাতে কাজের পাশাপাশি আনন্দের ভারসাম্য বজায় থাকে।
পর্দায় সময়, তবে নিয়ম মেনে

তিনি জানান, পরিবারের জন্য পর্দায় সময় পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সেই সময় শেষ হলে বোর্ডে লেখা কাজগুলো সম্পন্ন করার নিয়ম করা হয়েছে। এতে শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধও তৈরি হচ্ছে এবং কাজের প্রতি অনীহাও কমেছে।
শুরুতে আপত্তি, পরে সবার সমর্থন
এই পদ্ধতি চালুর শুরুতে সন্তানদের আপত্তি ছিল। তবে তারা দ্রুত বুঝতে পারে, প্রতিটি কাজ খুব অল্প সময়েই শেষ করা সম্ভব। ফলে কাজ শেষ করেও তাদের অবসর সময় এবং বিনোদনের সুযোগ থাকছে। এতে ধীরে ধীরে পুরো পরিবার নতুন এই নিয়মকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে।
ঘর গোছানোর পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও
এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, বাড়ির কাজকে সহজ ধাপে ভাগ করলে শুধু কাজই দ্রুত শেষ হয় না, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির সংস্কৃতিও তৈরি হয়। একই সঙ্গে কর্মব্যস্ত অভিভাবকদের মানসিক চাপও অনেকটাই কমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করলে শিশুদের মনোযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















