ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্ত্রর-মন্তরে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, দিল্লি পুলিশ একটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি এনে বিক্ষোভস্থলের বাইরে রেখে দিয়েছে। দলটির দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কী—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে সিজেপির অভিযোগ
সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, যন্ত্রর-মন্তরের বিক্ষোভস্থলের সামনে একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়ি এনে রাখা হয়েছে। পোস্টে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলা হয়, কেন এই গাড়িটি এখানে আনা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কী দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে?
দলটি আরও দাবি করে, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ওই গাড়ির ক্ষতির দায় চাপানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই গাড়িটি যেভাবে সেখানে আনা হয়েছে, সেটি আগে থেকেই নথিভুক্ত করে রাখার আহ্বান জানানো হয়। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইন্টারনেট সেবা বন্ধের অভিযোগ

বুধবার রাতে যন্ত্রর-মন্তর এবং মধ্য দিল্লির আরও কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্সে প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি আরও কঠোর অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে?
একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভস্থলে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, নিরীহ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের নির্দেশ এলে তা কার্যকর না করতে। তাঁর বক্তব্য, এটি নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
২০ জুন থেকে চলমান আন্দোলন
সিজেপি গত ২০ জুন থেকে যন্ত্রর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির পর আন্দোলন আরও জোরদার হয় এবং টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
দলটির অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আন্দোলনের দাবিগুলো কী
বিক্ষোভকারীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হচ্ছে।

সোনম ওয়াংচুকের শর্ত
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেন এবং এরপর থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন পালন করছেন। বুধবার তিনি জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা এফআইআর দায়ের না করার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে সফদরজং হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের পর বর্তমানে তিনি গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের পাল্টা দাবি
দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্ত্রর-মন্তরের কাছে সংঘর্ষে দুইজন এসিপিসহ মোট পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পাথর নিক্ষেপ করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া করে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনকারীদের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
যন্ত্রর-মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে সিজেপির অভিযোগ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধের দাবি এবং পুলিশের পাল্টা বক্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















