১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয়

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে বাংলাদেশ, সুদের হারভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসার ভাবনা

বাংলাদেশের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যমান সুদের হারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে নতুন কাঠামোয় যাওয়ার বিষয়টি ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।

মূল্যস্ফীতিকে সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতির ভাবনা

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান মুদ্রানীতি, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনায় বলা হয়, সরকারের এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ও সময়োপযোগী মুদ্রানীতি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মুদ্রানীতিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বাংলাদেশও একই ধরনের কাঠামোর দিকে ধীরে ধীরে এগোতে পারে।

তবে এই পরিবর্তন একবারে না করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারের সক্ষমতা এবং মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে কাঠামো পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নতুন মুদ্রানীতি কাঠামো কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিকে আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে মুদ্রানীতি পরিচালনার নতুন কাঠামো তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব, নীতিনির্ধারণের পদ্ধতি এবং নীতির বাস্তবায়ন কাঠামোর সঙ্গে আইনি ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা'

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে শুধু মুদ্রানীতির কাঠামো পরিবর্তন নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মতামত দেন।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব কতটা পড়বে—এসব বিষয়ে কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যাও চান।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা

বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধান হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং কমিটির সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, মইনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত অংশ নেন।

এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এর বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

মুদ্রানীতির কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সুদের হারভিত্তিক কাঠামো থেকে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মুদ্রানীতি পরিচালনার পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও সুস্পষ্টভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

মুদ্রানীতির এই সম্ভাব্য পরিবর্তন কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং এর জন্য আইন ও নীতিগত কাঠামোয় কী ধরনের সংশোধন প্রয়োজন হবে, সেটিই এখন সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের ভাবনা সামনে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে বাংলাদেশ, সুদের হারভিত্তিক নীতি থেকে সরে আসার ভাবনা

০৮:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যমান সুদের হারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতিকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে নতুন কাঠামোয় যাওয়ার বিষয়টি ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।

মূল্যস্ফীতিকে সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতির ভাবনা

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান মুদ্রানীতি, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়। পরে কমিটির সদস্যরা উপস্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনায় বলা হয়, সরকারের এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ও সময়োপযোগী মুদ্রানীতি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মুদ্রানীতিতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বাংলাদেশও একই ধরনের কাঠামোর দিকে ধীরে ধীরে এগোতে পারে।

তবে এই পরিবর্তন একবারে না করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারের সক্ষমতা এবং মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বিবেচনা করে ধাপে ধাপে কাঠামো পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নতুন মুদ্রানীতি কাঠামো কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটিকে আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে মুদ্রানীতি পরিচালনার নতুন কাঠামো তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব, নীতিনির্ধারণের পদ্ধতি এবং নীতির বাস্তবায়ন কাঠামোর সঙ্গে আইনি ব্যবস্থার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা'

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে শুধু মুদ্রানীতির কাঠামো পরিবর্তন নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মতামত দেন।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব কতটা পড়বে—এসব বিষয়ে কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যাও চান।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা

বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধান হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং কমিটির সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, মইনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত অংশ নেন।

এ সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, অর্থ মন্ত্রণালয় ও এর বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

মুদ্রানীতির কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সুদের হারভিত্তিক কাঠামো থেকে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্য করে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মুদ্রানীতি পরিচালনার পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও সুস্পষ্টভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

মুদ্রানীতির এই সম্ভাব্য পরিবর্তন কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং এর জন্য আইন ও নীতিগত কাঠামোয় কী ধরনের সংশোধন প্রয়োজন হবে, সেটিই এখন সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের ভাবনা সামনে এসেছে।