০৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যে বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাবে বাড়ছে দাবানলের শঙ্কা বাংলাদেশে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ ফরিদপুরে সবজি ব্যবসায়ী হত্যা: ১৪ বছর পর তিনজনের মৃত্যুদণ্ড সত্যজিৎ রায়ের প্রশংসায় ক্রিস্টোফার নোলান, ‘ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা’ পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির তাণ্ডব: আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি, আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা যুক্তরাজ্যে ধনীদের সংখ্যা কমছে: আর্থিক সংকটের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে মিলিয়নিয়ার, কারণ কী? জাপানের কুমামোতোতে শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, ভবন ধস-আগুন, আরও বড় কম্পনের সতর্কতা লেনদেনের কূটনীতি নয়, টেকসই শান্তির জন্য চাই রাজনৈতিক সমঝোতা সুপ্রিম নেতা মোজতাবা খামেনির খোঁজে সিআইএ-মোসাদের গোপন অভিযান, আড়ালে ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘পাকিস্তান যুদ্ধজয়ীর মতো’ সংবর্ধনা, লোকসভায় বিজেপিকে কটাক্ষ কংগ্রেসের

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: উৎপাদন ব্যাহত, বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কায় শিল্পকারখানা

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে টানা এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর তিন শতাধিক ডাইং কারখানা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং সময়মতো বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

গ্যাসের চাপ নেমেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে

গাজীপুরের মৌচাক এলাকার সাদমা গ্রুপের পাঁচটি কারখানায় প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পোশাক, নিটিং, ডাইং ও অ্যাকসেসরিজ কারখানা রয়েছে।

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে গ্যাসের চাপ ০.৫০ থেকে ১ পিএসআইয়ের মধ্যে থাকছে। অথচ ডাইং কারখানার বয়লার সচল রাখতে অন্তত ৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। ৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময় শ্রমিক ও অপারেটরদের বসে থাকতে হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, বাড়ছে উদ্বেগ

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে অনেক কারখানা ডিজেলের ওপর নির্ভর করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইন

Titas Gas faces major challenge in service delivery with 7% system loss |  The Business Standard

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সংযোগ লাইনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে অন্তত আরও তিন দিন সময় লাগবে। এরপরও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ফিরে পেতে কয়েক দিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে নিবন্ধিত ছোট-বড় মোট ২ হাজার ১৭৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫৪টি পোশাক কারখানা। এছাড়া নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানসহ জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছোট-বড় কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যার অধিকাংশই গ্যাসনির্ভর।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শুধু উৎপাদনেই নয়, শ্রমিক, রপ্তানি এবং সামগ্রিক শিল্প কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাবে বাড়ছে দাবানলের শঙ্কা

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: উৎপাদন ব্যাহত, বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কায় শিল্পকারখানা

০১:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে টানা এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর তিন শতাধিক ডাইং কারখানা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং সময়মতো বিদেশি ক্রয়াদেশের পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

গ্যাসের চাপ নেমেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে

গাজীপুরের মৌচাক এলাকার সাদমা গ্রুপের পাঁচটি কারখানায় প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পোশাক, নিটিং, ডাইং ও অ্যাকসেসরিজ কারখানা রয়েছে।

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে গ্যাসের চাপ ০.৫০ থেকে ১ পিএসআইয়ের মধ্যে থাকছে। অথচ ডাইং কারখানার বয়লার সচল রাখতে অন্তত ৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। ৩ থেকে ৪ পিএসআই গ্যাস থাকলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময় শ্রমিক ও অপারেটরদের বসে থাকতে হচ্ছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, বাড়ছে উদ্বেগ

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে অনেক কারখানা ডিজেলের ওপর নির্ভর করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

এছাড়া নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হলে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইন

Titas Gas faces major challenge in service delivery with 7% system loss |  The Business Standard

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সংযোগ লাইনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে অন্তত আরও তিন দিন সময় লাগবে। এরপরও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ফিরে পেতে কয়েক দিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে নিবন্ধিত ছোট-বড় মোট ২ হাজার ১৭৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫৪টি পোশাক কারখানা। এছাড়া নিবন্ধনবিহীন প্রতিষ্ঠানসহ জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছোট-বড় কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যার অধিকাংশই গ্যাসনির্ভর।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শুধু উৎপাদনেই নয়, শ্রমিক, রপ্তানি এবং সামগ্রিক শিল্প কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।