ইউরোপীয় ফুটবলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং তাদের উচ্চমূল্যে বিক্রির ক্ষেত্রে জার্মান ক্লাব আরবি লেইপজিগ আবারও আলোচনায়। এবার আইভরি কোস্টের তরুণ উইঙ্গার দিয়োমান্দেকে ঘিরে এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিক্রির রেকর্ড গড়তে পারে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মারকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিয়োমান্দের সম্ভাব্য ট্রান্সফার মূল্য ১২০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি হতে পারে। যদি সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে লেইপজিগ নিজেদের আগের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ডও ভেঙে ফেলবে।
লেইপজিগের সফল ব্যবসায়িক মডেল
ইউরোপের অনেক ক্লাব যেখানে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে তারকা ফুটবলার কিনে, সেখানে লেইপজিগের কৌশল ভিন্ন। তারা তুলনামূলক কম দামে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ায়, তাদের উন্নতির সুযোগ দেয় এবং পরে বিপুল অঙ্কে বিক্রি করে।
এই মডেলের কারণেই লেইপজিগকে ইউরোপের অন্যতম সফল “সেলার ক্লাব” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেনফিকা ও পোর্তোর পাশাপাশি খেলোয়াড় বিক্রিতে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ক্লাবটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।

দিয়োমান্দে হতে পারেন নতুন রেকর্ডধারী
গত মৌসুমে লেগানেস থেকে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে দিয়োমান্দেকে দলে আনে লেইপজিগ। সে সময় অনেকেই এই মূল্যকে বেশি বলে মনে করেছিলেন। তবে ক্লাবটির পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘমেয়াদি।
মাত্র এক মৌসুমেই দিয়োমান্দের বাজারমূল্য ছয় থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সম্ভাব্য ট্রান্সফার সম্পন্ন হলে লেইপজিগের বিনিয়োগের বিপরীতে এটি হবে অসাধারণ আর্থিক সাফল্যের উদাহরণ।
আগের সফল ট্রান্সফারগুলো
এর আগে ডিফেন্ডার ইয়োশকো গভার্দিওলকে ডিনামো জাগরেব থেকে ৩৬ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে দুই মৌসুম পর ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৯০ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করেছিল লেইপজিগ।
একই ধরনের সাফল্য এসেছে বেঞ্জামিন সেস্কোকে ঘিরেও। রেড বুল সালজবুর্গ থেকে ৩১ মিলিয়ন ইউরোতে আনার পর তাকে দুই মৌসুমের মধ্যে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বিক্রি করা হয়।
এছাড়া ডমিনিক সোবোসলাইকে লিভারপুলে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করেও বড় মুনাফা করেছে ক্লাবটি।
শুধু এই কয়েকজনই নন, জাভি সিমন্স, ক্রিস্টোফার এনকুনকু, নাবি কেইতা, টিমো ভের্নার, ওপেন্ডা, দায়ো উপামেকানো, ইব্রাহিমা কোনাতে এবং দানি ওলমোর মতো ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও লেইপজিগ একই ধরনের উন্নয়ন ও পুনর্মূল্যায়নের কৌশল অনুসরণ করেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কঠিন আলোচনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিয়োমান্দেকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ রয়েছে। তবে লেইপজিগ এমন একটি ক্লাব, যাদের খেলোয়াড় বিক্রির আর্থিক চাপ নেই। ফলে দর-কষাকষিতে তারা সর্বোচ্চ মূল্য আদায়ের চেষ্টা করে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ আলোচনায়ও যেতে প্রস্তুত থাকে।
দিয়োমান্দের সম্ভাব্য ট্রান্সফারও সেই কৌশলেরই আরেকটি উদাহরণ হতে পারে। মাত্র এক মৌসুমের ব্যবধানে একজন খেলোয়াড়ের মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে ইউরোপীয় ট্রান্সফার বাজারে আবারও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের পথে এগোচ্ছে লেইপজিগ।



















