০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সূক্ষ্ম সংকট: প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে কীভাবে ইউক্রেনের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যেই ইউরোপীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক মডেল প্রকৃতি ও পাখির টানে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বিল অডি খোলা পানিতে সাঁতার কতটা নিরাপদ, বৃষ্টির পর বাড়ে যে ভয় রাশিয়ার বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের বিতর্কে ইতালির কোচের দৌড় থেকে ছিটকে পিরলো আঠা-লেবেল ছাড়াই কাগজের প্যাকেজিং, বদলে যেতে পারে পুনর্ব্যবহারের ভবিষ্যৎ বালিতে বিদেশিদের দৌড় ক্লাবে স্থানীয়দের বাদ দেওয়ার অভিযোগ, দুই ডাচ নাগরিক নিষিদ্ধ আসামে ভয়াবহ বন্যা, ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ জাপানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, পরিচয় সংকটে ফুজিসাওয়া আয়ারল্যান্ডের উপকূলে বিশাল হাঙরের অবিশ্বাস্য কাছাকাছি দেখা মিলছে

বিক্রি বাড়ায় ছয় মাসে বাটা শুর ৮৬ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি

দেশের শীর্ষ বহুজাতিক জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। বিক্রি বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের ফলে জানুয়ারি-জুন সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাটার নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৮৭ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।

বিক্রিতে ঈদের ইতিবাচক প্রভাব

প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাটার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন পণ্যের সংযোজন, হালনাগাদ নকশা এবং ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কোম্পানির মতে, বিক্রির গতি বাড়ার পাশাপাশি কার্যকর পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনাও মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

৯ মাসে ১৩ কোটি টাকা মুনাফা বাটা শুর, শেষ প্রান্তিকে করেছে লোকসান | প্রথম আলো

নগদ প্রবাহেও বড় উন্নতি

বাটার পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ টাকা ৪৬ পয়সা।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মুনাফা বৃদ্ধি, মজুত পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক দেনা ও অন্যান্য পরিশোধযোগ্য দায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার কারণে নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।

সম্পদের অবস্থান আরও শক্তিশালী

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি)ও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ২১৫ টাকা ৮ পয়সা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ১৮৮ টাকা ৭২ পয়সা। এটি কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ানো

বাটা বাংলাদেশের মুনাফা কমেছে ২৬ শতাংশ | The Daily Star

এপ্রিল-জুন সময়ে বাটা শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। অথচ ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে তাদের ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৮৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়।

গত বছরের চিত্র ছিল ভিন্ন

২০২৫ সালে বাটা শুর বার্ষিক মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯৬ শতাংশ কমে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় নেমে আসে। ওই বছর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। তবে প্রথম প্রান্তিকে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা করায় পুরো বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি অল্প ব্যবধানে লাভজনক অবস্থানে থাকতে সক্ষম হয়।

মুনাফা কমে গেলেও পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর সঙ্গে ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ যোগ হয়ে মোট নগদ লভ্যাংশ দাঁড়ায় ২৪৮ শতাংশ। যদিও ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৪৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সূক্ষ্ম সংকট: প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়ে কীভাবে

বিক্রি বাড়ায় ছয় মাসে বাটা শুর ৮৬ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধি

১১:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেশের শীর্ষ বহুজাতিক জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। বিক্রি বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের ফলে জানুয়ারি-জুন সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাটার নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে হয়েছে ৩৬ টাকা ৮৭ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।

বিক্রিতে ঈদের ইতিবাচক প্রভাব

প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বাটার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন পণ্যের সংযোজন, হালনাগাদ নকশা এবং ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কোম্পানির মতে, বিক্রির গতি বাড়ার পাশাপাশি কার্যকর পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনাও মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

৯ মাসে ১৩ কোটি টাকা মুনাফা বাটা শুর, শেষ প্রান্তিকে করেছে লোকসান | প্রথম আলো

নগদ প্রবাহেও বড় উন্নতি

বাটার পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ টাকা ৪৬ পয়সা।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মুনাফা বৃদ্ধি, মজুত পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং বাণিজ্যিক দেনা ও অন্যান্য পরিশোধযোগ্য দায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার কারণে নগদ প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে।

সম্পদের অবস্থান আরও শক্তিশালী

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি)ও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে এটি দাঁড়িয়েছে ২১৫ টাকা ৮ পয়সা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ১৮৮ টাকা ৭২ পয়সা। এটি কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ানো

বাটা বাংলাদেশের মুনাফা কমেছে ২৬ শতাংশ | The Daily Star

এপ্রিল-জুন সময়ে বাটা শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। অথচ ২০২৫ সালের একই প্রান্তিকে তাদের ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৮৯৮ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়।

গত বছরের চিত্র ছিল ভিন্ন

২০২৫ সালে বাটা শুর বার্ষিক মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৯৬ শতাংশ কমে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় নেমে আসে। ওই বছর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানে ছিল। তবে প্রথম প্রান্তিকে ৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা করায় পুরো বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি অল্প ব্যবধানে লাভজনক অবস্থানে থাকতে সক্ষম হয়।

মুনাফা কমে গেলেও পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর সঙ্গে ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ যোগ হয়ে মোট নগদ লভ্যাংশ দাঁড়ায় ২৪৮ শতাংশ। যদিও ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৪৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছিল।