যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও প্রতিরক্ষা খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের সামনে কঠিন আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দেশটির অর্থনীতিবিদদের একটি শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে ঋণ বাড়ানোর সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে সরকারকে কর বাড়ানো অথবা অন্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ক্ষমতায় আসার পর গত এক সপ্তাহে বার্নহাম জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে বিদ্যুতের বিল কমানোর উদ্যোগ এবং ইংল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকায় বাসভাড়া সর্বোচ্চ দুই পাউন্ডে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এর ফলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বাড়বে।

প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক স্টিফেন মিলার্ড বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, সে বিষয়টি আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই সরকারকে বিভিন্ন বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিতে চাপ
লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মজীবী মানুষের ওপর আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও জাতীয় বিমা চাঁদা বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বার্নহামও সেই প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কর্মসূচি চালু রাখতে হলে করব্যবস্থায় সংস্কার আনা কিংবা সরকারি ব্যয়ের কিছু অংশ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, পেনশন এবং স্থানীয় করব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো বিষয় সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে পেনশনের বর্তমান ব্যবস্থা সরকারের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময় মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এরপর তা ধীরে ধীরে কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যের দিকে ফিরতে পারে।
তবে সুদের হার দ্রুত কমার সম্ভাবনাও দেখছে না প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ধারণা, ২০২৮ সালের আগে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পথে নাও যেতে পারে।
ঋণের বোঝা কমাতে কঠিন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু বর্তমান অবস্থায় অর্থনীতি ধরে রাখলেই সরকারের ঋণের বোঝা কমবে না। চলতি শতাব্দীতে বড় ধরনের প্রতিটি সংকট যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের অনুপাত বাড়িয়েছে। কিন্তু আগের বাড়তি ঋণের চাপ আর পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তারা আর্থিক শৃঙ্খলার নিয়ম মেনে চলবে এবং একই সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।
বার্নহাম সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা, অন্যদিকে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ঋণের চাপ সামলানো। এই পরিস্থিতিতে কর না বাড়ানোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















