১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যা, নৌকায় ঘর ছাড়ছেন মানুষ পাকিস্তানের পাসপোর্ট বিশ্বের চতুর্থ দুর্বল, ১০১তম অবস্থানে অনলাইন জুয়া বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি ও বিকাশের যৌথ সচেতনতা অভিযান রাবিতে ছাত্রীকে হত্যার হুমকি ও রাকসু কার্যালয়ে হামলা, ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩, ধ্বংসস্তূপে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান সুন্দরবনে বাড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এক দশকে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১২৫ চকবাজারে দুই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ, চালকের মৃত্যু বাংলাদেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ পাকিস্তানি সৌন্দর্যের বাঁধাধরা মানদণ্ডে আমি মানি না: কুবরা খান আবার ফিরছে ‘পাকিস্তান আইডল’, দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল হবে শিগগিরই

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকি, চাপে ভারত

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল এগিয়ে যাওয়ায় ভারতসহ পাঁচটি দেশ বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার সিনেটে প্রক্রিয়াগত ভোটে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ৮৬ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১২টি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ই বিলটি নতুন করে গতি পায়।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতেই উদ্যোগ

বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপরও কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভারত ছাড়াও চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। এসব দেশের রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা কমানোই নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

India To Increase Imports Of Russian Oil, Ignoring US Sanctions On Its  Exports - RUSSIA'S PIVOT TO ASIA

রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ছে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে। ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতীয় শোধনাগারগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে।

চীনের পর ভারতই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এই অবস্থায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল দিল্লির জন্য বাণিজ্য ও জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ভারতের ওপর শুল্কের চাপ

রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ভারত এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ভারতের ওপর মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।

এই সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাতেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দেয়।

জুনে রুশ তেল আমদানি রেকর্ড

Russian oil premium jumps 425% as India increases purchases

ছাড় পাওয়ার পর রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি আরও বেড়ে যায়। ২০২৬ সালের জুনে ভারতের রুশ তেল আমদানি আগের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়।

রুশ তেলের এই আমদানির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো। রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান ছিল এই অর্থ।

নতুন বিল ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করছে

নতুন মার্কিন বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে ভারতকে একদিকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর শুল্কের ঝুঁকিও সামলাতে হবে।

ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রাশিয়ার তেল ছাড়া বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা দিল্লির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সিনেটে বিলটি এগিয়ে যাওয়ার ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন নজর থাকবে বিলটির পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং ভারতকে ঘিরে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যা, নৌকায় ঘর ছাড়ছেন মানুষ

রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকি, চাপে ভারত

১১:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল এগিয়ে যাওয়ায় ভারতসহ পাঁচটি দেশ বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার সিনেটে প্রক্রিয়াগত ভোটে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ৮৬ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১২টি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময়ই বিলটি নতুন করে গতি পায়।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতেই উদ্যোগ

বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপরও কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভারত ছাড়াও চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। এসব দেশের রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা কমানোই নতুন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

India To Increase Imports Of Russian Oil, Ignoring US Sanctions On Its  Exports - RUSSIA'S PIVOT TO ASIA

রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ছে

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে। ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতীয় শোধনাগারগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে।

চীনের পর ভারতই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এই অবস্থায় নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল দিল্লির জন্য বাণিজ্য ও জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ভারতের ওপর শুল্কের চাপ

রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ভারত এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ভারতের ওপর মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।

এই সিদ্ধান্তের পর দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনাতেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দেয়।

জুনে রুশ তেল আমদানি রেকর্ড

Russian oil premium jumps 425% as India increases purchases

ছাড় পাওয়ার পর রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি আরও বেড়ে যায়। ২০২৬ সালের জুনে ভারতের রুশ তেল আমদানি আগের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়।

রুশ তেলের এই আমদানির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো। রাশিয়ার মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান ছিল এই অর্থ।

নতুন বিল ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করছে

নতুন মার্কিন বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হলে ভারতকে একদিকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর শুল্কের ঝুঁকিও সামলাতে হবে।

ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রাশিয়ার তেল ছাড়া বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা দিল্লির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সিনেটে বিলটি এগিয়ে যাওয়ার ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন নজর থাকবে বিলটির পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এবং ভারতকে ঘিরে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।