পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের ঘূর্ণায়মান ঋণ সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সহায়তা কমিয়ে দেওয়াকে দায়ী করেছে দেশটির বিদ্যুৎ বিভাগ। সংস্থাটির দাবি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে সংস্কার কার্যক্রম চললেও সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ায় ঘূর্ণায়মান ঋণের চাপ বাড়ছে।
সরকারি সহায়তা কমায় বাড়ছে ঋণের চাপ
পাকিস্তানের বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্ষতি কমানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সময়ে বাজেট থেকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের ঘাটতি তৈরি হলে তা ধীরে ধীরে জমে ঘূর্ণায়মান ঋণে পরিণত হয়। পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংস্কার চললেও কাটছে না সংকট
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে বিভিন্ন সংস্কার নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরি নিয়ন্ত্রণ, বিল আদায় বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে খাতটির আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
তবে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকলে ঘাটতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া কঠিন বলে মনে করছে বিভাগটি। ফলে সংস্কারের সুফল পাওয়ার পরও ঘূর্ণায়মান ঋণের পরিমাণ কমানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা থেকেই যাচ্ছে।
পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে বাড়ছে উদ্বেগ
ঘূর্ণায়মান ঋণের চাপ শুধু বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় এবং সাধারণ গ্রাহকের ওপরও পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সংকট পাকিস্তানের অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, লোকসান কমানোর সংস্কারের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য না এলে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতের ঋণ সংকট সহজে কাটবে না।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন সরকারি সহায়তা, লোকসান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কার—এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















