মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তার অজুহাতে বাধ্যতামূলক সামুদ্রিক বীমা কিনতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। জাহাজ আটক বা চলাচলে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব সংগ্রহ করছিল বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানের দুটি সামুদ্রিক প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের অভিযোগে আটটি জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করছিল।
সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র
নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার মধ্যেই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এই পথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের বৈদেশিক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোকে সীমিত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এই সংকটের চাপ আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















