০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত অন্তত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয়

চিনিগুঁড়া চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত মাসে যে চাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই চালের দাম বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।

নওগাঁর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

বুধবার নওগাঁ পৌর এলাকার খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানেই আতপ চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে খোলা বাজারে মানভেদে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

একই সময়ে কাটারি ও জিরাশাইলসহ অন্যান্য চিকন চালের দামও বেড়েছে। এসব চাল বর্তমানে ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ফুরফুরে চিনিগুঁড়া চাল (Chinigura Rice)

বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ৫০ কেজির একেকটি চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম গত এক মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে, ফলে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।

পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, করপোরেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়ানোর পর খোলা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ক্রেতাদের বাড়ছে দুর্ভোগ

মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। নওগাঁর চকবাড়িয়া এলাকার শ্রমজীবী আব্দুর রহিম জানান, আগে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনলেও এখন এক কেজি চাল কেনার আগে হিসাব করতে হয়। তাঁর ভাষায়, সন্তানদের জন্য কিংবা অতিথি এলে পোলাও রান্না করাও কঠিন হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে গেলে প্রায় প্রতিদিনই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। এত অল্প সময়ে চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

চালের দামে 'চালবাজি'

বাজারে কথা বলা আরও কয়েকজন ক্রেতাও অভিযোগ করেন, এত দ্রুত দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের ধারণা, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের বাজার ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তাদের নির্ধারিত মূল্য পুরো বাজারকে প্রভাবিত করছে। এতে ছোট ও মাঝারি চালকলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনিগুঁড়া চালের দাম যে হারে বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারা বাজারে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, সুগন্ধি চালের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত করপোরেট ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তাদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণের কারণে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে মোম্বাসা, মোম্বাসা থেকে উগান্ডা—যেভাবে সুধীর রুপারেলিয়া গড়লেন ১.৩ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য

চিনিগুঁড়া চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা

১২:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত মাসে যে চাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই চালের দাম বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা।

নওগাঁর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র

বুধবার নওগাঁ পৌর এলাকার খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানেই আতপ চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে খোলা বাজারে মানভেদে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

একই সময়ে কাটারি ও জিরাশাইলসহ অন্যান্য চিকন চালের দামও বেড়েছে। এসব চাল বর্তমানে ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ফুরফুরে চিনিগুঁড়া চাল (Chinigura Rice)

বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ৫০ কেজির একেকটি চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম গত এক মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে, ফলে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।

পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, করপোরেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়ানোর পর খোলা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। তাঁর মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ক্রেতাদের বাড়ছে দুর্ভোগ

মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। নওগাঁর চকবাড়িয়া এলাকার শ্রমজীবী আব্দুর রহিম জানান, আগে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনলেও এখন এক কেজি চাল কেনার আগে হিসাব করতে হয়। তাঁর ভাষায়, সন্তানদের জন্য কিংবা অতিথি এলে পোলাও রান্না করাও কঠিন হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে গেলে প্রায় প্রতিদিনই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। এত অল্প সময়ে চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

চালের দামে 'চালবাজি'

বাজারে কথা বলা আরও কয়েকজন ক্রেতাও অভিযোগ করেন, এত দ্রুত দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের ধারণা, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের বাজার ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তাদের নির্ধারিত মূল্য পুরো বাজারকে প্রভাবিত করছে। এতে ছোট ও মাঝারি চালকলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনিগুঁড়া চালের দাম যে হারে বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারা বাজারে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, সুগন্ধি চালের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত করপোরেট ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তাদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণের কারণে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।