রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অগ্রসর হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি বর্তমান রূপে পাস হলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক কয়েকটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
তবে ট্রাম্প বলেছেন, বিলটিতে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। তাঁর মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, ইরানের ক্ষেত্রেও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা যুক্ত করে বিলটি সংশোধন করা প্রয়োজন। যদিও তিনি মন্তব্য করেন, এমন পরিবর্তন হয়তো অপরিহার্য নয়, কিন্তু প্রয়োজন হলে তা যুক্ত করা উচিত।
কী রয়েছে প্রস্তাবিত বিলে
মার্কিন সিনেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছে। এর লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো।
![]()
প্রস্তাবিত আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের মতো রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই শুল্ক প্রত্যাহারের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।
কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
চীনের পর ভারত বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ছাড় দেওয়া হয়। এরপর ২০২৬ সালের জুনে ভারতের রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
![]()
বাণিজ্য আলোচনায় অনিশ্চয়তা
বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। লক্ষ্য, ভারতীয় পণ্যের ওপর সামগ্রিক শুল্ক কমিয়ে আনা। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল কার্যকর হলে সেই আলোচনা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
এদিকে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে সিনেটে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এরপর এটি প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সেখানে অনুমোদন পেলেই বিলটি কার্যকর হওয়ার পথ খুলবে।
রিপাবলিকানদের পাশাপাশি অনেক ডেমোক্র্যাট রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে থাকলেও প্রেসিডেন্টকে এত ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে দলটির একাংশ আপত্তি তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয় নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আনা এই বিলের চূড়ান্ত পরিণতি এখন নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















