জ্বালানি খাতের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান বিপি যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগর অঞ্চলে তাদের তেল ও গ্যাস ব্যবসা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে কোম্পানিটির প্রায় ৬০ বছরের উৎপাদন কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, সামগ্রিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা আরও কার্যকর ও লাভজনক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্পদ ও কার্যক্রম পর্যালোচনার পর উত্তর সাগরের ব্যবসা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৬০ বছরের কার্যক্রমের সমাপ্তি
উত্তর সাগরে বিপির কার্যক্রম কয়েক দশক ধরে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। বর্তমানে সেখানে কোম্পানিটির পাঁচটি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুটি উত্তর সাগরের কেন্দ্রীয় অংশে এবং তিনটি শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত।

এই কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ১০০ কর্মী যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসাটি নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুনর্গঠনের কৌশল
বিপি জানিয়েছে, তাদের চলমান পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী মেগ ও’নিল বলেন, উত্তর সাগরের এই ব্যবসাটি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে আরও ভালোভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ভবিষ্যতেও দেশটি কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস নিয়ে বিতর্ক

উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলন নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছেই। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস নীতিতে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের কথা বলেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন, জ্বালানি শিল্পের প্রতিনিধিরা এবং ক্ষমতাসীন দলের কিছু আইনপ্রণেতা উত্তর সাগরে আরও বেশি অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়
বিশ্লেষকদের মতে, বিপির এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যবসা বিক্রির ঘটনা নয়; এটি উত্তর সাগরের জ্বালানি শিল্পে একটি বড় পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অঞ্চলে এখন মালিকানা ও বিনিয়োগ কাঠামোতে নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 















