০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
তাই চি হাঁটা: ধীর পদক্ষেপে সুস্থ শরীর, শান্ত মন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনের সহজ পথ সিন্ধু পানি চুক্তি: তথ্যের বদলে প্রচারণা কি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পথ? ঝাড়খণ্ডে পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ দাবি, ১০ আগস্ট বিধানসভা ঘেরাওয়ের ঘোষণা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় সংকট, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে এলপিপির ৭০ কোটি ডলারের অর্ডার অনিশ্চয়তায়: বাংলাদেশের পোশাকশিল্প কি শুধু একটি ক্রেতা হারানোর ঝুঁকিতে, নাকি আস্থার সংকটের মুখে? জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৫৮; সবচেয়ে ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী সোনার দামে এক লাফে ভরিতে ৯,৮৫৬ টাকা বৃদ্ধি, ২২ ক্যারেট এখন ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমান সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে, অপেক্ষা শুধু সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের মাগুরায় সাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার চেষ্টা ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে ক্ষোভ ঢাকার, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৫৮; সবচেয়ে ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জুলাই মাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অনিরাপদ সড়কব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরে দুর্বলতাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে জাতীয় দৈনিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক

জুলাই মাসে নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেখায়, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু যাত্রী বা চালকদের নয়, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকেও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। মাসজুড়ে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন চালক ও আরোহী নিহত হন, যা মোট সড়ক মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেলসংক্রান্ত।

গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

অন্যদিকে, পথচারীরাও বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন। সড়ক পারাপার বা চলাচলের সময় ১০৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এছাড়া ৫১ জন চালক ও পরিবহন-সহকারী নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা মহাসড়কে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৬৯টি দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ১৫৫টি, শহরের সড়কে ৬৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৬১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য স্থানে ঘটেছে সাতটি দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি—১৬৪টি বা ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ১২৩টি, পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে ১০৮টি এবং পেছন থেকে ধাক্কা লেগে ৫৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাকি কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণ ছিল ভিন্ন।

ঝুঁকিতে দুর্বল সড়ক ব্যবহারকারীরা

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি তিন চাকার যানবাহনের যাত্রীরাও বড় ঝুঁকিতে ছিলেন। অটোরিকশা, সিএনজিচালিত যান ও ইজিবাইকের ৯৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এছাড়া নসিমন, ভটভটি ধরনের স্থানীয় যানবাহনের ২৬ জন, বাসের ২১ জন, ট্রাক ও পিকআপের ১৯ জন, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সাতজন এবং সাইকেল ও রিকশার পাঁচজন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫০৩ জন : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন - বাংলাদেশ টাইমস

দেশের আট বিভাগের মধ্যে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন, যা জাতীয় মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এরপর রয়েছে রাজশাহী ও রংপুর। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় জুলাই মাসে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

রেল ও নৌপথেও প্রাণহানি

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুলাই মাসে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

কঠোর আইন প্রয়োগের তাগিদ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়া, মোটরসাইকেলের অনিরাপদ ব্যবহার, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেশের সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।

সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তাই চি হাঁটা: ধীর পদক্ষেপে সুস্থ শরীর, শান্ত মন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনের সহজ পথ

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ, মোট দুর্ঘটনা ৪৫৮; সবচেয়ে ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী

০১:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জুলাই মাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অনিরাপদ সড়কব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরে দুর্বলতাকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে জাতীয় দৈনিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

মানবিক ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক

জুলাই মাসে নিহতদের মধ্যে ৫৭ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেখায়, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু যাত্রী বা চালকদের নয়, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকেও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। মাসজুড়ে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন চালক ও আরোহী নিহত হন, যা মোট সড়ক মৃত্যুর ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেলসংক্রান্ত।

গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

অন্যদিকে, পথচারীরাও বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন। সড়ক পারাপার বা চলাচলের সময় ১০৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এছাড়া ৫১ জন চালক ও পরিবহন-সহকারী নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা মহাসড়কে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৬৯টি দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ১৫৫টি, শহরের সড়কে ৬৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৬১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যান্য স্থানে ঘটেছে সাতটি দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি—১৬৪টি বা ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ১২৩টি, পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে ১০৮টি এবং পেছন থেকে ধাক্কা লেগে ৫৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাকি কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণ ছিল ভিন্ন।

ঝুঁকিতে দুর্বল সড়ক ব্যবহারকারীরা

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহীদের পাশাপাশি তিন চাকার যানবাহনের যাত্রীরাও বড় ঝুঁকিতে ছিলেন। অটোরিকশা, সিএনজিচালিত যান ও ইজিবাইকের ৯৪ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এছাড়া নসিমন, ভটভটি ধরনের স্থানীয় যানবাহনের ২৬ জন, বাসের ২১ জন, ট্রাক ও পিকআপের ১৯ জন, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সাতজন এবং সাইকেল ও রিকশার পাঁচজন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫০৩ জন : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন - বাংলাদেশ টাইমস

দেশের আট বিভাগের মধ্যে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন, যা জাতীয় মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এরপর রয়েছে রাজশাহী ও রংপুর। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় জুলাই মাসে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

রেল ও নৌপথেও প্রাণহানি

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুলাই মাসে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় নয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

কঠোর আইন প্রয়োগের তাগিদ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়া, মোটরসাইকেলের অনিরাপদ ব্যবহার, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেশের সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।

সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।