১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসছে, কিন্তু আমরা কি তার জন্য প্রস্তুত? ঢাকায় কমছে দুপুরের খাবার, বাড়ছে খরচের চাপ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারে ট্যাক্স ছাড়, স্বস্তি ছোট ব্যবসায়ীদের সিলেট সীমান্তে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সোনার খনিতে ভয়াবহ ধস, প্রাণ গেল ৪৯ জনের

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একটি সোনার খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে মাটির নিচে থাকা শ্রমিকরা চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার নতুন প্রকাশিত ভিডিওতে হঠাৎ করে খনির মাটি ধসে পড়ার ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে।

মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা শ্রমিকরা

গত ১৮ আগস্ট দেশটির নানা-মামবেরে অঞ্চলের জামবোয়ে এলাকায় একটি ছোট পরিসরের সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ করে মাটি সরে গিয়ে আশপাশে থাকা মানুষ ও খনির অংশবিশেষ ধসে পড়া মাটির নিচে চলে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা ফ্রেডি মেচুবাতচু কাছ থেকেই ধসের দৃশ্য ধারণ করেন। খনিটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ধসের কারণ নিয়ে তদন্ত

স্থানীয় কৌঁসুলিদের ধারণা, খনির মাটির নিচে থাকা একাধিক সুড়ঙ্গ একসঙ্গে ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে সুড়ঙ্গগুলো ভেঙে পড়েছে, তা জানতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ খনিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে খনির নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, অবৈধভাবে খনন এবং শ্রমিকদের গোপনে নিয়োগ দেওয়ার মতো বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা নিয়ে শুরুতে ছিল বিভ্রান্তি

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক ও খনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। পরে খনি মন্ত্রণালয় ৪৯ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে।

নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নাগরিক, ১৩ জন ক্যামেরুনের এবং দুজন চাদের নাগরিক ছিলেন। আহত সাতজনকে বাবুয়া শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।Gold mine collapse kills at least 100 people in C/Africa - Vanguard News

উদ্ধারকাজে বড় বাধা

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পরও উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন মানুষ খনির ভেতরে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ধসে পড়া মাটির নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তাহীন খনিতে বাড়ছে ঝুঁকি

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ছোট পরিসরে সোনা উত্তোলন হাজারো মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু অনেক খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। খনির দেয়াল ও সুড়ঙ্গ শক্তিশালী করার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়।

এর ফলে সামান্য কাঠামোগত দুর্বলতাও বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে। চলতি বছরের জুনেও ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে আরেকটি খনি ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সোনার খনিতে ভয়াবহ ধস, প্রাণ গেল ৪৯ জনের

০৬:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের একটি সোনার খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে মাটির নিচে থাকা শ্রমিকরা চাপা পড়েন। দুর্ঘটনার নতুন প্রকাশিত ভিডিওতে হঠাৎ করে খনির মাটি ধসে পড়ার ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে।

মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা শ্রমিকরা

গত ১৮ আগস্ট দেশটির নানা-মামবেরে অঞ্চলের জামবোয়ে এলাকায় একটি ছোট পরিসরের সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হঠাৎ করে মাটি সরে গিয়ে আশপাশে থাকা মানুষ ও খনির অংশবিশেষ ধসে পড়া মাটির নিচে চলে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা ফ্রেডি মেচুবাতচু কাছ থেকেই ধসের দৃশ্য ধারণ করেন। খনিটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ধসের কারণ নিয়ে তদন্ত

স্থানীয় কৌঁসুলিদের ধারণা, খনির মাটির নিচে থাকা একাধিক সুড়ঙ্গ একসঙ্গে ধসে পড়ায় এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে সুড়ঙ্গগুলো ভেঙে পড়েছে, তা জানতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ খনিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে খনির নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, অবৈধভাবে খনন এবং শ্রমিকদের গোপনে নিয়োগ দেওয়ার মতো বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা নিয়ে শুরুতে ছিল বিভ্রান্তি

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক ও খনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। পরে খনি মন্ত্রণালয় ৪৯ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে।

নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের নাগরিক, ১৩ জন ক্যামেরুনের এবং দুজন চাদের নাগরিক ছিলেন। আহত সাতজনকে বাবুয়া শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।Gold mine collapse kills at least 100 people in C/Africa - Vanguard News

উদ্ধারকাজে বড় বাধা

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পরও উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন মানুষ খনির ভেতরে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ধসে পড়া মাটির নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তাহীন খনিতে বাড়ছে ঝুঁকি

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ছোট পরিসরে সোনা উত্তোলন হাজারো মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু অনেক খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। খনির দেয়াল ও সুড়ঙ্গ শক্তিশালী করার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়।

এর ফলে সামান্য কাঠামোগত দুর্বলতাও বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে। চলতি বছরের জুনেও ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে আরেকটি খনি ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল।