কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশাল তথ্যকেন্দ্রগুলো চালাতে প্রয়োজন হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে এবার নিজেদের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।
১৮ মাস পর্যন্ত সময় কমানোর লক্ষ্য
ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্পেসএক্স নিজস্ব কারখানায় গ্যাস টারবাইনের ব্লেড ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করবে। তাঁর দাবি, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই এসব যন্ত্রাংশ ঢালাই ও উৎপাদন করা গেলে গ্যাস টারবাইন চালু করার সময় সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে।
মাস্কের ভাষায়, এই উদ্যোগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ বর্তমানে গ্যাস টারবাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরিতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং বিশ্বজুড়ে এসব যন্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
টেক্সাসের বাস্ট্রপে স্পেসএক্স ইতোমধ্যে টারবাইনের ব্লেড ও ভ্যান তৈরির জন্য একটি বিশেষ কারখানা গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ একাই যথেষ্ট নয়
মাস্ক জানিয়েছেন, স্পেসএক্স ও টেসলা দ্রুতগতিতে বিশাল সৌর প্যানেল উৎপাদন কারখানা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে কেবল সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক বছরের বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তিনি।
তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বড় পরিসরে ব্যবহারযোগ্য হওয়ার আগের সময়টিতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এআইয়ের চাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিপুল কম্পিউটিং ব্যবস্থা চালাতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রচুর বিদ্যুৎ। ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে।
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকছে। এআই অবকাঠামোর জন্য গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে গ্যাস টারবাইনের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বিশ্ববাজারে এগুলোর সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পুরোনো উড়োজাহাজের ইঞ্জিনকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইনে রূপান্তরের কথা ভাবছে।
স্পেসএক্সের তথ্যকেন্দ্রেও গ্যাস টারবাইন
স্পেসএক্স ইতোমধ্যে মিসিসিপি ও টেনেসিতে নিজেদের বিশাল তথ্যকেন্দ্র চালাতে চলমান গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করছে। তবে এসব স্থাপনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ে অভিযোগও উঠেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে স্পেসএক্স দ্রুত তথ্যকেন্দ্র ও কম্পিউটিং অবকাঠামো বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এআই অবকাঠামোতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আগামী দুই প্রান্তিকেও কাছাকাছি মাত্রায় ব্যয় অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা।
ফলে স্পেসএক্সের জন্য শুধু শক্তিশালী কম্পিউটার ও তথ্যকেন্দ্র তৈরি করাই নয়, সেগুলো চালানোর মতো নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রাংশ তৈরির দিকে স্পেসএক্সের এই নতুন পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















