মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে রাজকীয় ক্ষমা দিয়েছে দেশটির পার্ডন বোর্ড। বাকি কারাদণ্ড এখন থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে পারবেন তিনি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দার এই শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দিয়েছেন। গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তরের আগে নাজিবকে পাঁচ কোটি রিঙ্গিত, অর্থাৎ প্রায় এক কোটি বাইশ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে।
দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করছেন নাজিব। তার মূল সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের আগস্টে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এটি মালয়েশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতি মামলা। এই মামলায় বিশ্বজুড়ে বহু ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে পড়েছিল।
এই রাজকীয় ক্ষমা তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নাজিবের প্রভাব এখনো কতটা অটুট, তার ইঙ্গিত দেয়। এর আগেও তিনি একবার রাজকীয় ক্ষমা পেয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো একই সুবিধা পেলেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে নাগরিক সমাজের একাংশে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতিতে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি মামলার পরিণতি কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা নিয়ে আঞ্চলিক তুলনামূলক আলোচনায় এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। প্রতিবেশী দেশের এই নজির পাঠকদের জন্য তুলনামূলক প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
নাজিবের শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার সম্পূর্ণ শর্তাবলি ও সাধারণ মালয়েশীয়দের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















