গাজা সিটির একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটক করেছে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী। মঙ্গলবারের এই অভিযানের সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের বিশেষ বাহিনী ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ওই হামাস কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। অভিযানটি গাজা সিটির হামাস-নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় পরিচালিত হয়।
আটক কর্মকর্তা মঈন আল-আরাবিদ
অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর হামাস পরিচালিত গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মঈন আল-আরাবিদ নামের এক হামাস কর্মকর্তা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আহত অবস্থায় আটক হয়েছেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী নিহত এবং কয়েকজন সন্তান আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামাস তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা জানায়নি। তবে আল-আরাবিদকে সংগঠনটির নিরাপত্তা বিভাগের একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভিযানের প্রশংসা করে একে সাহসী অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, আটক হামাস নেতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় জিম্মি করা ইসরায়েলিদের গোপনে রাখা ও স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য আটক ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তাদের ভাষ্য, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযান ঘিরে বিমান হামলা
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিশেষ বাহিনীকে স্থলভাগে সুরক্ষা দিতে বিমানবাহিনী বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্থলবাহিনীর জন্য তৈরি হওয়া হুমকি দূর করা। অভিযানে কোনো ইসরায়েলি সেনা আহত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের কাতিবা এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান অন্তত ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এলাকাটি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ।
স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া মধ্য গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক শিশু এবং গাজা সিটির উত্তরের জাবালিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ফলে মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ছয়জনে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত যুদ্ধবিরতি গাজায় ব্যাপক আকারের যুদ্ধ কিছুটা থামালেও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েলের দাবি, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে হামাসের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল বারবার তা লঙ্ঘন করছে এবং যুদ্ধ বন্ধের বৃহত্তর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে।
মঙ্গলবার হামাস মধ্যস্থতাকারী ও গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি উদ্যোগের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ ধরনের অভিযান ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
গাজা সিটিতে হামাসের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে আটকের দাবি এবং একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় শিশুদের নিহত হওয়ার ঘটনা যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিস্থিতিকেই সামনে এনেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















