মালয়েশিয়ার ৪৫ বছর বয়সী এক বাবার ইচ্ছে ছিল, ১০ বছরের ছেলের মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা নিজের চোখে দেখা। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর কয়েক দিন বাকি থাকতেই হঠাৎ মৃত্যু হয় তাঁর। বাবাকে আর প্রতিযোগিতার মঞ্চে দেখতে না পেলেও শেষ বিদায়ে নিজের কৃতিত্বের মধ্য দিয়েই বাবাকে শ্রদ্ধা জানাল ছোট্ট ছেলে।
হঠাৎ থেমে গেল জীবন
গত ২৮ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আকস্মিকভাবে মারা যান চেন জুনইউয়ান। বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
ছেলের মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা ছিল মৃত্যুর কয়েক দিন পর। সেখানে ছেলের পারফরম্যান্স দেখার কথা ছিল বাবার। কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। বাবার শেষকৃত্যে স্বজনদের সামনে ছেলেটি মনোযোগ দিয়ে মার্শাল আর্ট পরিবেশন করে।
বাবার মৃত্যুর পরও ছেলের শ্রদ্ধা
শেষকৃত্যে ছেলের এই পরিবেশন ছিল বাবার প্রতি এক আবেগঘন বিদায়। যে মঞ্চে বাবাকে দর্শক হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল, সেই পরিবেশনই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল বাবাকে উৎসর্গ করা শেষ শ্রদ্ধা।
পরিবারের এই কঠিন সময়ে আরও একটি মানবিক সিদ্ধান্ত নেন মৃতের স্ত্রী লিন ওয়েনইউন। তিনি স্বামীর অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তাঁর মৃত্যুর পরও অন্য অসুস্থ মানুষ নতুন জীবন পাওয়ার সুযোগ পান। তাঁর অঙ্গদানে প্রায় ১০ জন রোগী উপকৃত হতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
পরিবারের পাশে সহায়তার হাত
স্বজন হারানোর পাশাপাশি পরিবারের সামনে তৈরি হয় আর্থিক অনিশ্চয়তাও। পরিবারের দুর্দশার খবর জানার পর মালাক্কা শহরের সংসদ সদস্য খু পুয়ে তিয়ং পরিবারটিকে ১০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রতি মাসে আরও এক হাজার রিঙ্গিত করে সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও পরিবারটি সহায়তা পাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
একজন বাবার আকস্মিক চলে যাওয়া যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনো সহায়তাই পূরণ করতে পারবে না। তবে শেষ বিদায়ে ছেলের সেই মার্শাল আর্ট পরিবেশন হয়ে থাকল বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক স্মরণীয় প্রতীক।
মালয়েশিয়ায় বাবার মৃত্যু, শেষকৃত্যে ছেলের মার্শাল আর্ট পরিবেশন এবং পরিবারের প্রতি সহায়তার এই ঘটনা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
মৃত্যুর আগে ছেলের মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা দেখতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুর পর বাবার শেষকৃত্যেই ১০ বছরের ছেলে মার্শাল আর্ট পরিবেশন করে জানাল শেষ শ্রদ্ধা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















