০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিছানায় পড়ে থাকা থেকে ‘বাড্ডি’, মৃত্যুর মুখ থেকে উঠে মায়েদের ও প্রবীণদের ব্যায়ামের প্রেরণা ১০৮টি অবিশ্বাস্য কাস্টম পিসি: এক্সবক্স থেকে ড্রাগন, স্পেসশিপ থেকে কাঠের ডেস্ক অ্যারিজোনায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন গতি, তাইওয়ানের সঙ্গে ‘স্পার্ক’ গবেষণা কেন্দ্র চালু যুদ্ধের অন্ধকারে হারানো চার্চিলের ছবি, নাৎসি সহযোগীর হাতে পৌঁছানোর রহস্য পরিবার নিয়ে শরতের উৎসবে জমবে সিঙ্গাপুরে লণ্ঠনযাত্রা, হানফু সাজ ও চাঁদ দেখার আয়োজন এক অ্যাপেই বাস, ফেরি, সাইকেল ভাড়া—ভ্রমণ ও যাতায়াতে নতুন সুবিধা গ্র্যাবের লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: রুশ কূটনীতিককে তলব ব্রিটেনের ন্যাটোর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরছেন ইউক্রেনীয় নেতারা, দেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন আরও বহু সেনাকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে নৌকা উদ্ধার, ৮০ জনের বেশি অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ?

অটিজমে আক্রান্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের আহ্বান ডেনিস ফুয়ার

সন্তানকে বড় করার অভিজ্ঞতা একজন মাকে যেমন বদলে দেয়, তেমনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা হলে সেই অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা। সিঙ্গাপুরের সংসদ সদস্য ও অটিজম রিসোর্স সেন্টারের সভাপতি ডেনিস ফুয়ার জীবনের এমনই অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এক আলোচনায়। অটিজমে আক্রান্ত ছেলেকে বড় করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো করে গড়ে তুলতে হবে।

সন্তান পালনের অভিজ্ঞতা থেকেই সামাজিক আন্দোলনে

ডেনিস ফুয়ার ব্যক্তিগত যাত্রায় মাতৃত্ব ও সামাজিক অধিকার নিয়ে কাজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। নিজের সন্তানের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজন শুধু শৈশবের শিক্ষা ও চিকিৎসা নয়; তাদের পুরো জীবনকে ঘিরেই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

তার মতে, শিশুর বয়স ১৮ বছর পার হওয়ার পর অনেক পরিবার হঠাৎ এক ধরনের শূন্যতার মুখে পড়ে। বিদ্যালয়জীবনের পর কোথায় শিক্ষা চলবে, কীভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হবে, কোথায় এবং কীভাবে তারা স্বাধীনভাবে বসবাস করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট নয়।

১৮ বছর পেরোলেই কেন তৈরি হয় বড় সংকট

অটিজমে আক্রান্ত অনেক মানুষের জন্য ১৮ বছর বয়সের পরের সময়টি যেন একটি অদৃশ্য দেয়ালের সামনে দাঁড়ানোর মতো। শৈশবে নানা ধরনের সহায়তা পাওয়া গেলেও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সেই সহায়তার ধারাবাহিকতা অনেক সময় থাকে না।

ফলে পরিবারগুলোকে নতুন করে খুঁজতে হয় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সহায়তার ব্যবস্থা। ডেনিস ফুয়া মনে করেন, এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার পরিবর্তে মানুষের পুরো জীবনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত সহায়তা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

কর্মক্ষেত্রে আরও সুযোগ চান তিনি

অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ডেনিস ফুয়া। তার মতে, অটিজমে আক্রান্ত বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে কেবল সহায়তা পাওয়ার ব্যক্তি হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের দক্ষতা, সামর্থ্য ও অবদান রাখার সুযোগও তৈরি করতে হবে।

নিয়োগদাতাদের উদ্দেশে তার বার্তা হলো, কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিবেশে কিছু পরিবর্তন আনা গেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অনেক মানুষই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়েও আলোচনায় প্রশ্ন এসেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য যেসব কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কিছু যদি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি নিয়ে নেয়, তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কীভাবে রক্ষা করা হবে—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডেনিস ফুয়ার দৃষ্টিতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য নতুন ধরনের কাজ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।Autistic children denied schooling amid lack of federal funding

বাবা-মা না থাকলে কী হবে সন্তানের?

অটিজমে আক্রান্ত সন্তানদের বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার একটি হলো—তারা যখন আর থাকবেন না, তখন সন্তানের কী হবে?

এই প্রশ্নটি শুধু আবেগের নয়, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিকল্পনারও বিষয়। একজন মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রয়োজনও বদলায়। তাই শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা এবং সামাজিক সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন ডেনিস ফুয়া।

ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তাই হতে পারে সমাধান

সব অটিজমে আক্রান্ত মানুষের প্রয়োজন এক নয়। কারও জন্য কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারও জন্য দৈনন্দিন কাজে সহায়তা, আবার কারও জন্য প্রয়োজন নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাসের ব্যবস্থা।

তাই সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা না করে ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী সহায়তার মডেল তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শুধু নীতিমালা নয়, বদলাতে হবে সমাজের মানসিকতাও

ডেনিস ফুয়ার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো অন্তর্ভুক্তির ধারণা। একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে সমাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও পরিচর্যাকারীদের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের মানসিক ও বাস্তব চাপও কমাতে হবে।

ডেনিস ফুয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন মায়ের গল্প নয়। এটি এমন একটি সমাজ গঠনের প্রশ্ন, যেখানে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন।

অটিজমে আক্রান্ত মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পরিবারকে একা লড়তে না দিয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক সহায়তাকে একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অটিজমে আক্রান্ত মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ বসবাস ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের সংসদ সদস্য ডেনিস ফুয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিছানায় পড়ে থাকা থেকে ‘বাড্ডি’, মৃত্যুর মুখ থেকে উঠে মায়েদের ও প্রবীণদের ব্যায়ামের প্রেরণা

অটিজমে আক্রান্ত সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের আহ্বান ডেনিস ফুয়ার

০৫:৪০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তানকে বড় করার অভিজ্ঞতা একজন মাকে যেমন বদলে দেয়, তেমনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা হলে সেই অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা। সিঙ্গাপুরের সংসদ সদস্য ও অটিজম রিসোর্স সেন্টারের সভাপতি ডেনিস ফুয়ার জীবনের এমনই অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এক আলোচনায়। অটিজমে আক্রান্ত ছেলেকে বড় করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো করে গড়ে তুলতে হবে।

সন্তান পালনের অভিজ্ঞতা থেকেই সামাজিক আন্দোলনে

ডেনিস ফুয়ার ব্যক্তিগত যাত্রায় মাতৃত্ব ও সামাজিক অধিকার নিয়ে কাজ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। নিজের সন্তানের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছে, অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজন শুধু শৈশবের শিক্ষা ও চিকিৎসা নয়; তাদের পুরো জীবনকে ঘিরেই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।

তার মতে, শিশুর বয়স ১৮ বছর পার হওয়ার পর অনেক পরিবার হঠাৎ এক ধরনের শূন্যতার মুখে পড়ে। বিদ্যালয়জীবনের পর কোথায় শিক্ষা চলবে, কীভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হবে, কোথায় এবং কীভাবে তারা স্বাধীনভাবে বসবাস করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট নয়।

১৮ বছর পেরোলেই কেন তৈরি হয় বড় সংকট

অটিজমে আক্রান্ত অনেক মানুষের জন্য ১৮ বছর বয়সের পরের সময়টি যেন একটি অদৃশ্য দেয়ালের সামনে দাঁড়ানোর মতো। শৈশবে নানা ধরনের সহায়তা পাওয়া গেলেও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সেই সহায়তার ধারাবাহিকতা অনেক সময় থাকে না।

ফলে পরিবারগুলোকে নতুন করে খুঁজতে হয় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সহায়তার ব্যবস্থা। ডেনিস ফুয়া মনে করেন, এই বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার পরিবর্তে মানুষের পুরো জীবনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত সহায়তা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

কর্মক্ষেত্রে আরও সুযোগ চান তিনি

অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ডেনিস ফুয়া। তার মতে, অটিজমে আক্রান্ত বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে কেবল সহায়তা পাওয়ার ব্যক্তি হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের দক্ষতা, সামর্থ্য ও অবদান রাখার সুযোগও তৈরি করতে হবে।

নিয়োগদাতাদের উদ্দেশে তার বার্তা হলো, কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিবেশে কিছু পরিবর্তন আনা গেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অনেক মানুষই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়েও আলোচনায় প্রশ্ন এসেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য যেসব কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কিছু যদি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি নিয়ে নেয়, তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কীভাবে রক্ষা করা হবে—এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডেনিস ফুয়ার দৃষ্টিতে, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য নতুন ধরনের কাজ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।Autistic children denied schooling amid lack of federal funding

বাবা-মা না থাকলে কী হবে সন্তানের?

অটিজমে আক্রান্ত সন্তানদের বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার একটি হলো—তারা যখন আর থাকবেন না, তখন সন্তানের কী হবে?

এই প্রশ্নটি শুধু আবেগের নয়, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিকল্পনারও বিষয়। একজন মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রয়োজনও বদলায়। তাই শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা এবং সামাজিক সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন ডেনিস ফুয়া।

ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তাই হতে পারে সমাধান

সব অটিজমে আক্রান্ত মানুষের প্রয়োজন এক নয়। কারও জন্য কর্মসংস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারও জন্য দৈনন্দিন কাজে সহায়তা, আবার কারও জন্য প্রয়োজন নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাসের ব্যবস্থা।

তাই সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা না করে ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী সহায়তার মডেল তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শুধু নীতিমালা নয়, বদলাতে হবে সমাজের মানসিকতাও

ডেনিস ফুয়ার বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো অন্তর্ভুক্তির ধারণা। একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে সমাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও পরিচর্যাকারীদের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের মানসিক ও বাস্তব চাপও কমাতে হবে।

ডেনিস ফুয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন মায়ের গল্প নয়। এটি এমন একটি সমাজ গঠনের প্রশ্ন, যেখানে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বেঁচে থাকার সুযোগ পাবেন।

অটিজমে আক্রান্ত মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পরিবারকে একা লড়তে না দিয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক সহায়তাকে একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার মধ্যে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

অটিজমে আক্রান্ত মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ বসবাস ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের সংসদ সদস্য ডেনিস ফুয়া।