তাইওয়ান ইস্যু এবং উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া পরস্পরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও স্পর্শকাতর দুটি ইস্যুতে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সাং-লাক জানান, দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার দুটি রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চীনের দেওয়া এক বিবৃতির পর তিনি বেইজিংয়ের কাছে ‘গুরুতর আপত্তি’ জানিয়েছেন।
কোরিয়ার একতা নিয়ে চীনের অবস্থান
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষের মতে, কোরীয় উপদ্বীপের ভবিষ্যৎ এবং দুই কোরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি তাদের নিজস্ব জাতীয় নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে দুটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে দেখার বিষয়ে চীনের প্রকাশ্য অবস্থান সিউলের কাছে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের প্রতিবাদ
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি শিল্প আয়োজনে ‘তাইওয়ান প্যাভিলিয়ন’ নামে একটি প্রদর্শনী রাখা নিয়ে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীন এ ঘটনায় সিউলের কাছে গুরুতর প্রতিবাদ জানায়।
এর প্রতিবাদে মূল ভূখণ্ড চীনের শিল্পীরা ওই আয়োজন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। ফলে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি অনুষ্ঠানও দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে চলে আসে।
সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় নতুন চাপ
চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাইওয়ান এবং কোরীয় একতার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জাতীয় প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য আবারও সেই সম্পর্কের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তাইওয়ান প্রশ্নে চীন তার সার্বভৌমত্বের দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। একইভাবে কোরীয় উপদ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করতে অনিচ্ছুক। ফলে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগের পাশাপাশি এসব ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সতর্কতাও বাড়ছে।
চীন-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক, তাইওয়ান প্রশ্ন ও দুই কোরিয়ার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















