ভারতের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: এ জার্নি অব লাভ ইন ইন্ডিয়া’ এবার ভারতে প্রকাশ করবে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। আগামী ১০ নভেম্বর বইটি প্রকাশিত হবে।
এর আগে বইটির ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশের দায়িত্বে ছিল পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া। তবে সম্পাদনা নিয়ে মতবিরোধের পর প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশনা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপরই বইটির ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশের দায়িত্ব নেয় হার্পারকলিন্স।
পাঁচ দশকের ভারতের রাজনৈতিক যাত্রার অন্তরঙ্গ বর্ণনা
হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, বইটিতে সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত জীবন, ভালোবাসা, পরিচয়, দায়িত্ববোধ ও ভারতে নিজের অবস্থান খুঁজে পাওয়ার দীর্ঘ যাত্রার পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের অন্তরঙ্গ বিবরণ উঠে আসবে।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, গত পাঁচ দশকে ভারতের পরিবর্তনের একজন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা এই স্মৃতিকথা দেশের ইতিহাস ও রাজনীতির একটি বিরল অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরবে।
বইটির আন্তর্জাতিক প্রকাশক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আলফ্রেড এ নফ জানিয়েছিল, বিশ্বজুড়ে বইটি ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে।
সম্পাদনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক
বইটির ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা এটিকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেন।
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং মোদি সরকারের সময়ে চীনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগসংক্রান্ত কিছু অংশ বই থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তবে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভারতে বইটির প্রকাশক তারা নয় এবং লেখক সম্পাদনা সংক্রান্ত পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
প্রকাশক আরও বলেছে, পাণ্ডুলিপি যাচাই করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লেখককে সম্পাদনার পরামর্শ দেওয়া তাদের অধিকার ও দায়িত্বের অংশ। প্রতিষ্ঠানটি বইটি প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী এবং প্রস্তুত ছিল বলেও জানায়।
১০ নভেম্বর প্রকাশ
হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ‘বিলংগিং’ সোনিয়া গান্ধীর জীবনের পাশাপাশি ভারতের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেবে। ১০ নভেম্বর বইটি ভারতের পাঠকদের হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক জীবন, নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ ভূমিকার কারণে স্মৃতিকথাটিকে ইতোমধ্যেই দেশটির অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক বই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















