০৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগান থেকে বদলাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত ফিরোজা বেগমের মৃত্যু পশ্চিমা আধিপত্য: বিশ্বকল্যাণের নেতৃত্ব, নাকি বৈষম্যের স্থায়ী কাঠামো? ভারতের প্রথম ভূ-সমলয় কক্ষপথের উপযোগী পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ পেঙ্গুইনের সঙ্গে বিরোধের পর সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ করবে হার্পারকলিন্স পাঞ্জাবে ভূগর্ভস্থ পানির ভয়াবহ সংকট, যতটা মজুত তার চেয়ে ৫২ শতাংশ বেশি উত্তোলন দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত পাহাড়ের নিচের সুড়ঙ্গ থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি ইসরায়েলের ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা: এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা বিতর্কিত স্কারবরো শোলের আকাশে ফিলিপাইনের বিমান তাড়াল চীনা যুদ্ধসজ্জিত প্রশিক্ষণ বিমান চীন-ভারতের সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা, সংঘাত নয় সহাবস্থানের পথ খুঁজছে দুই দেশ

শ্রেণিকক্ষে এআই ব্যবহারের খবর পেয়ে মেয়র মামদানির দ্বারস্থ নিউইয়র্কের অভিভাবকেরা

নিউইয়র্কের একটি স্কুলের অভিভাবকদের অনেকেই জানতেন না, তাদের ছোট সন্তানদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর অনেক অভিভাবক বিস্মিত, হতাশ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয়ে যায় এবং স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করার দাবি তোলে।

পাঁচ বছরের শিশুর প্রতিদিন এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন

অভিভাবক ক্রেইগ গ্যারেট জানান, একটি স্কুল সভায় শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে প্রতিদিন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে কথা বলছে।

গ্যারেট বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি একদিকে আতঙ্কিত, অন্যদিকে হতবাক ও হতাশ হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, ওই সভায় উপস্থিত অনেক অভিভাবকের জন্য ঘটনাটি ছিল নিজেদের অবস্থান নতুন করে ভাবার মতো একটি মুহূর্ত।

এই অভিজ্ঞতার পর গ্যারেট নিউইয়র্ক শহরের অভিভাবকদের একটি জোটে যোগ দেন। সংগঠনটি শিশুদের শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এক বছরের জন্য এআই স্থগিতের দাবি

অভিভাবকদের এই জোট নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কাছে শহরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছরের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার স্থগিত রাখার দাবি জানায়।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অভিভাবকদের অবস্থান এক নয়। কেউ কেউ শ্রেণিকক্ষে এর ব্যবহার বন্ধ বা স্থগিত করার পক্ষে থাকলেও অন্য একটি অংশ মনে করে, শিশুদের ছোট বয়স থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন।

সমর্থকদের যুক্তি—এআই শেখা ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে থাকা অভিভাবকদের যুক্তি হলো, শিশুদের অল্প বয়স থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করলে ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য তারা এগিয়ে থাকবে।

তাদের মতে, বিশ্ব দ্রুত এমন একটি অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে। ফলে শিশুদের প্রযুক্তিটির সঙ্গে পরিচিত করা মানে তাদের শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি-ভাবনাতেও এমন একটি বিশ্বের কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে মানুষের পাশাপাশি মানবসদৃশ রোবটও শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনকি ধৈর্যশীল মানবসদৃশ এক শিক্ষকের ধারণাও সামনে এসেছে, যে শিশুদের শেখানোর কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার করবে।

সমালোচকদের ভয়—শিশুর চিন্তাশক্তির ক্ষতি হতে পারে

তবে সমালোচকদের উদ্বেগও কম নয়। তাদের আশঙ্কা, শিশুদের খুব অল্প বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল করে তুললে তাদের নিজস্ব চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী ও সহযোগী অধ্যাপকের মতে, গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ছোট শিশুদের নিজেদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে ওঠার পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ, শিশু যে দক্ষতাগুলো নিজে অর্জন করার সুযোগ পায়নি, সেগুলোর কাজও যদি প্রযুক্তি তার হয়ে করে দেয়, তাহলে তার নিজের দক্ষতা তৈরির প্রক্রিয়াটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

মূল প্রশ্ন এআই থাকবে কি না, তা নয়

এই বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসলে শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচিত করা উচিত কি না, তা নয়। কারণ ভবিষ্যতে তারা কোনো না কোনোভাবে এই প্রযুক্তির মুখোমুখি হবেই।

বরং প্রশ্ন হলো, শিশুরা নিজেরা কীভাবে চিন্তা করতে হয় তা শেখার আগেই শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করা উচিত কি না।

নিউইয়র্কের অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক তাই শুধু একটি শহরের স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তাশক্তি, শেখার পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিশুদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময় নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগান থেকে বদলাবে খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক

শ্রেণিকক্ষে এআই ব্যবহারের খবর পেয়ে মেয়র মামদানির দ্বারস্থ নিউইয়র্কের অভিভাবকেরা

০৬:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কের একটি স্কুলের অভিভাবকদের অনেকেই জানতেন না, তাদের ছোট সন্তানদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর অনেক অভিভাবক বিস্মিত, হতাশ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কার্যালয়ে যায় এবং স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করার দাবি তোলে।

পাঁচ বছরের শিশুর প্রতিদিন এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথন

অভিভাবক ক্রেইগ গ্যারেট জানান, একটি স্কুল সভায় শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। সেখানেই তিনি জানতে পারেন, তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে প্রতিদিন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে কথা বলছে।

গ্যারেট বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি একদিকে আতঙ্কিত, অন্যদিকে হতবাক ও হতাশ হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, ওই সভায় উপস্থিত অনেক অভিভাবকের জন্য ঘটনাটি ছিল নিজেদের অবস্থান নতুন করে ভাবার মতো একটি মুহূর্ত।

এই অভিজ্ঞতার পর গ্যারেট নিউইয়র্ক শহরের অভিভাবকদের একটি জোটে যোগ দেন। সংগঠনটি শিশুদের শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এক বছরের জন্য এআই স্থগিতের দাবি

অভিভাবকদের এই জোট নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির কাছে শহরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছরের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার স্থগিত রাখার দাবি জানায়।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অভিভাবকদের অবস্থান এক নয়। কেউ কেউ শ্রেণিকক্ষে এর ব্যবহার বন্ধ বা স্থগিত করার পক্ষে থাকলেও অন্য একটি অংশ মনে করে, শিশুদের ছোট বয়স থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা প্রয়োজন।

সমর্থকদের যুক্তি—এআই শেখা ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে থাকা অভিভাবকদের যুক্তি হলো, শিশুদের অল্প বয়স থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করলে ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য তারা এগিয়ে থাকবে।

তাদের মতে, বিশ্ব দ্রুত এমন একটি অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে। ফলে শিশুদের প্রযুক্তিটির সঙ্গে পরিচিত করা মানে তাদের শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি-ভাবনাতেও এমন একটি বিশ্বের কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে মানুষের পাশাপাশি মানবসদৃশ রোবটও শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারে। এমনকি ধৈর্যশীল মানবসদৃশ এক শিক্ষকের ধারণাও সামনে এসেছে, যে শিশুদের শেখানোর কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার করবে।

সমালোচকদের ভয়—শিশুর চিন্তাশক্তির ক্ষতি হতে পারে

তবে সমালোচকদের উদ্বেগও কম নয়। তাদের আশঙ্কা, শিশুদের খুব অল্প বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল করে তুললে তাদের নিজস্ব চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী ও সহযোগী অধ্যাপকের মতে, গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি ছোট শিশুদের নিজেদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে ওঠার পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ, শিশু যে দক্ষতাগুলো নিজে অর্জন করার সুযোগ পায়নি, সেগুলোর কাজও যদি প্রযুক্তি তার হয়ে করে দেয়, তাহলে তার নিজের দক্ষতা তৈরির প্রক্রিয়াটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

মূল প্রশ্ন এআই থাকবে কি না, তা নয়

এই বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসলে শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচিত করা উচিত কি না, তা নয়। কারণ ভবিষ্যতে তারা কোনো না কোনোভাবে এই প্রযুক্তির মুখোমুখি হবেই।

বরং প্রশ্ন হলো, শিশুরা নিজেরা কীভাবে চিন্তা করতে হয় তা শেখার আগেই শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করা উচিত কি না।

নিউইয়র্কের অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক তাই শুধু একটি শহরের স্কুলে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তাশক্তি, শেখার পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিশুদের প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময় নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন।