০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যেভাবে দিন বদলে যায়

সকালে সম্পাদক সাহেবের ফোনে ঘুম ভাঙলো জাহিদের। ফোনটা রিসিভ করলো সে। সম্পাদক সাহেব জাহিদ’কে বললো,আজকে তোমার সিনিয়র স্যার আসবেন না। আজকে তুমি একটু তাড়াতাড়ি অফিসে এসো।ও…হ্যাঁ ,আর তোমার কলিগকেও ফোন করে জানিয়ে দিও।

 

 

জাহিদের সম্পাদক বেশ সিনিয়র সাংবাদিক। খুব ভালো মানুষ। তাই জাহিদ তার সম্পাদকের কথা সবসময় মেনে চলার চেষ্টা করেন।সে ফোনের দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখলো তখন সকাল ১১ টা ১৫ বাজে। বেশকিছু দিন ধরে জাহিদের মা বাসায় নেই। মা বাসায় না থাকলে বাসাটা মনে হয় যেন এক ধুধু মরুভূমি প্রান্তর। তার নিজেকে খুব একা মনে হয়। মা বাসায় না থাকায় খাওয়া দাওয়াতেও একটু কষ্ট করতে হচ্ছে তার।

এইতো সপ্তাহখানেক আগে ঈদের ছুটি কাটিয়ে জাহিদ অফিসে এসেছে। তার সম্পাদক তাকে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলে পাইকারি বাজারে জিনিসের দাম এবং সুপার মার্কেট গুলোতে জিনিসপত্রের দামগুলো কেমন এসব নিয়ে,যাতে করে ঈদের পর বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দাম কেমন নিউজটি পরে যেন সবাই ধারণা পেতে পারেন।

 

সম্পাদক সাহেব সবসময়ই তাকে কাজে উৎহাসিত করেন। কোন কাজ না হলে মন খারাপ করতে বারণ করেন।সম্পাদক সাহেব প্রতিদিন জাহিদকে কোন না কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে বলেন। তিনি বলেন ভুল হোক তবুও তুমি লিখে যাও। লিখতে লিখতেই একদিন তুমি শিখে যাবে। সম্পাদক সাহেব জাহিদকে বলেন জীবনে কখনই নিজেকে ছোট ভাববে না। সে সম্পাদক সাহেবের কথা মনযোগ দিয়ে শোনেন।আর কেনই বা শুনবে না? সাংবাদিকতার হাতেখরি তো তিনিই জাহিদকে শিখিয়েছেন। সম্পাদক সাহেবের কাছে থেকেই তো সে জেনেছে জীবনের মানে কি।

সম্পাদক সাহেব হয়তো চান যে জাহিদ জীবনে ভালো কিছু করুক।তাই তো তিনি জাহিদকে উৎসাহিত করেন। তিনি সবসময়ই জ্ঞানের ও সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। সম্পাদক সাহেব জাহিদকে তার জীবনের একটি গল্প বলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন।প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছেন,মানুষদের সাথে মিশেছেন এমনকি তাকে অনেক বাঁধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে।তবুও তিনি সাংবাদিকতা করে গেছেন।

সম্পাদক সাহেব বলেন,সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি ১০০ টাকা বেতনের চাকুরী করেছেন। তার বাবা চেয়েছিলেন তিনি যেন ডাক্তারি লাইনে পড়ালেখা করেন। ১০০ টাকা বেতনের চাকুরীতে ছেলে ঠিকমত চলতে পারবে কিনা, সেজন্য তার বাবা তাকে আলাদা করে টাকা পাঠাতেন। বাবা যেন এক ভরসার নাম। বাবা থাকা মানে মাথার উপরে যেন এক বটবৃক্ষের ছায়া।

 

সম্পাদকের কথা শুনে জাহিদ ভাবলো, মা বাসায় নেই। অফিসে আসবো বলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা কতই না কষ্ট করে রান্না করে আমাকে খাইয়েছে। এই পৃথিবীতে মা-বাবার চাইতে আপন আর কেউ নেই। মা-বাবাই হচ্ছে জীবনে প্রকৃত বন্ধু। বাবা-মাকে কিছু বলার আগেই কিভাবে যেন তারা সন্তানের মন বুঝে যান। সৃষ্টা সন্তানদের মন বোঝার ক্ষমতাটা যেন একমাত্র বাবা-মাকেই দিয়েছেন। দিন দিন জাহিদ যত সম্পাদকের কথা শোনে ততোই যেন মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যেভাবে দিন বদলে যায়

০৭:২২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

সকালে সম্পাদক সাহেবের ফোনে ঘুম ভাঙলো জাহিদের। ফোনটা রিসিভ করলো সে। সম্পাদক সাহেব জাহিদ’কে বললো,আজকে তোমার সিনিয়র স্যার আসবেন না। আজকে তুমি একটু তাড়াতাড়ি অফিসে এসো।ও…হ্যাঁ ,আর তোমার কলিগকেও ফোন করে জানিয়ে দিও।

 

 

জাহিদের সম্পাদক বেশ সিনিয়র সাংবাদিক। খুব ভালো মানুষ। তাই জাহিদ তার সম্পাদকের কথা সবসময় মেনে চলার চেষ্টা করেন।সে ফোনের দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখলো তখন সকাল ১১ টা ১৫ বাজে। বেশকিছু দিন ধরে জাহিদের মা বাসায় নেই। মা বাসায় না থাকলে বাসাটা মনে হয় যেন এক ধুধু মরুভূমি প্রান্তর। তার নিজেকে খুব একা মনে হয়। মা বাসায় না থাকায় খাওয়া দাওয়াতেও একটু কষ্ট করতে হচ্ছে তার।

এইতো সপ্তাহখানেক আগে ঈদের ছুটি কাটিয়ে জাহিদ অফিসে এসেছে। তার সম্পাদক তাকে একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলে পাইকারি বাজারে জিনিসের দাম এবং সুপার মার্কেট গুলোতে জিনিসপত্রের দামগুলো কেমন এসব নিয়ে,যাতে করে ঈদের পর বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দাম কেমন নিউজটি পরে যেন সবাই ধারণা পেতে পারেন।

 

সম্পাদক সাহেব সবসময়ই তাকে কাজে উৎহাসিত করেন। কোন কাজ না হলে মন খারাপ করতে বারণ করেন।সম্পাদক সাহেব প্রতিদিন জাহিদকে কোন না কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে বলেন। তিনি বলেন ভুল হোক তবুও তুমি লিখে যাও। লিখতে লিখতেই একদিন তুমি শিখে যাবে। সম্পাদক সাহেব জাহিদকে বলেন জীবনে কখনই নিজেকে ছোট ভাববে না। সে সম্পাদক সাহেবের কথা মনযোগ দিয়ে শোনেন।আর কেনই বা শুনবে না? সাংবাদিকতার হাতেখরি তো তিনিই জাহিদকে শিখিয়েছেন। সম্পাদক সাহেবের কাছে থেকেই তো সে জেনেছে জীবনের মানে কি।

সম্পাদক সাহেব হয়তো চান যে জাহিদ জীবনে ভালো কিছু করুক।তাই তো তিনি জাহিদকে উৎসাহিত করেন। তিনি সবসময়ই জ্ঞানের ও সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। সম্পাদক সাহেব জাহিদকে তার জীবনের একটি গল্প বলেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি কতটা পরিশ্রম করেছেন।প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছেন,মানুষদের সাথে মিশেছেন এমনকি তাকে অনেক বাঁধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে।তবুও তিনি সাংবাদিকতা করে গেছেন।

সম্পাদক সাহেব বলেন,সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি ১০০ টাকা বেতনের চাকুরী করেছেন। তার বাবা চেয়েছিলেন তিনি যেন ডাক্তারি লাইনে পড়ালেখা করেন। ১০০ টাকা বেতনের চাকুরীতে ছেলে ঠিকমত চলতে পারবে কিনা, সেজন্য তার বাবা তাকে আলাদা করে টাকা পাঠাতেন। বাবা যেন এক ভরসার নাম। বাবা থাকা মানে মাথার উপরে যেন এক বটবৃক্ষের ছায়া।

 

সম্পাদকের কথা শুনে জাহিদ ভাবলো, মা বাসায় নেই। অফিসে আসবো বলে সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবা কতই না কষ্ট করে রান্না করে আমাকে খাইয়েছে। এই পৃথিবীতে মা-বাবার চাইতে আপন আর কেউ নেই। মা-বাবাই হচ্ছে জীবনে প্রকৃত বন্ধু। বাবা-মাকে কিছু বলার আগেই কিভাবে যেন তারা সন্তানের মন বুঝে যান। সৃষ্টা সন্তানদের মন বোঝার ক্ষমতাটা যেন একমাত্র বাবা-মাকেই দিয়েছেন। দিন দিন জাহিদ যত সম্পাদকের কথা শোনে ততোই যেন মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়।