০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 152

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গর্ভজাত মীরজাফরের কন্ঠাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। শা খানম মীর কাশেমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকায় তাঁহারই নিকটে বাস করিতেন। আলিবন্দী খাঁ মীরজাফরের কার্য্যদক্ষতায় সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে সেনাপতির পদ প্রদান করেন। মীরজাফর মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধের সময় অসামান্য বীর্য্যবত্তা দেখাইয়া আপনার সুনাম প্রচার করিয়াছিলেন; কিন্তু আলিবদ্দীর ভ্রাতৃ- জামাতা আতাউল্লা খাঁর সহিত পরামর্শ করিয়া বঙ্গরাজ্য বিভাগ করিয়া লইবার ইচ্ছা করায় আলিবদ্দী তাঁহাকে পদচ্যুত করিতে বাধ্য হন। পরে আলিবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র নওয়াজেস্ মহম্মদ খাঁর অনুরোধে তাঁহাকে পুনর্ব্বার সেনাপতি পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন।

তাহার পর সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নেতা হইয়া, মীরজাফর ইংরেজদিগের সহিত যোগদানপূর্ব্বক সিরাজের সর্ব্বনাশ সাধনের পর মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। মসনদে বসিয়া তিনি ইংরেজদিগের দুর্ব্যবহারে অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া উঠেন এবং তাঁহাদিগের হস্ত হইতে আপনাকে মুক্ত করিয়া স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা করেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের সেই ইচ্ছা অধিকতর বলবতী ছিল। কিন্তু ইংরেজেরা মীরজাফরকে বলপূর্ব্বক পদচ্যুত করিয়া তাঁহার জামাতা মীরকাশেমকে সিংহাসন প্রদান করেন।

আবার মীরকাশেমের সহিত মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, তাঁহারা পুনর্ব্বার মীরজাফরকেই নবাব মনোনীত করিতে বাধ্য হন। এই সময়ে মীরজাফর নন্দকুমারকে স্বীয় দেওয়ান করিবার জন্য পীড়া- পীড়ি করিয়া অনেক কষ্টে কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যগণের মৃত করিয়া লন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন নন্দকুমারের পরামর্শা- হুসারে কার্য্য করিতেন। ক্রমে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে, হিজরী ১১৭৮ অব্দের ১৪ই সাবান (১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে) বৃহস্পতি- বার তিনি কুষ্ঠরোগে ৭৪ বৎসর বয়সে পরলোকগত হন।

তাঁহার মৃত্যুর পূর্ব্বে নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত আনাইয়া তাঁহার মুখে প্রদান করাইয়াছিলেন এবং তাহাই তাঁহার শেষ জলপান। মীরজাফরের সমাধির পশ্চিমে তাঁহার অন্ততম জামাতা ইস্মাইল খাঁর সমাধি; তাহার পশ্চিমে মীরজাফরবংশীর দ্বিতীর নবাব নজম উদ্দৌলা শায়িত। মীরজাফরের মৃত্যুর পর নজম উদ্দৌলা নিজামতী প্রাপ্ত হন। মীরজাফর জীবিত থাকিতেই তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের মৃত্যু হইয়াছিল; কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যেরা মীরণের পুত্রগণের আবেদন না শুনিয়া নজম উদ্দৌলাকেই মসনদ প্রদান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪৮)

১১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গর্ভজাত মীরজাফরের কন্ঠাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। শা খানম মীর কাশেমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকায় তাঁহারই নিকটে বাস করিতেন। আলিবন্দী খাঁ মীরজাফরের কার্য্যদক্ষতায় সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে সেনাপতির পদ প্রদান করেন। মীরজাফর মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধের সময় অসামান্য বীর্য্যবত্তা দেখাইয়া আপনার সুনাম প্রচার করিয়াছিলেন; কিন্তু আলিবদ্দীর ভ্রাতৃ- জামাতা আতাউল্লা খাঁর সহিত পরামর্শ করিয়া বঙ্গরাজ্য বিভাগ করিয়া লইবার ইচ্ছা করায় আলিবদ্দী তাঁহাকে পদচ্যুত করিতে বাধ্য হন। পরে আলিবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র নওয়াজেস্ মহম্মদ খাঁর অনুরোধে তাঁহাকে পুনর্ব্বার সেনাপতি পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন।

তাহার পর সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নেতা হইয়া, মীরজাফর ইংরেজদিগের সহিত যোগদানপূর্ব্বক সিরাজের সর্ব্বনাশ সাধনের পর মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। মসনদে বসিয়া তিনি ইংরেজদিগের দুর্ব্যবহারে অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া উঠেন এবং তাঁহাদিগের হস্ত হইতে আপনাকে মুক্ত করিয়া স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা করেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের সেই ইচ্ছা অধিকতর বলবতী ছিল। কিন্তু ইংরেজেরা মীরজাফরকে বলপূর্ব্বক পদচ্যুত করিয়া তাঁহার জামাতা মীরকাশেমকে সিংহাসন প্রদান করেন।

আবার মীরকাশেমের সহিত মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, তাঁহারা পুনর্ব্বার মীরজাফরকেই নবাব মনোনীত করিতে বাধ্য হন। এই সময়ে মীরজাফর নন্দকুমারকে স্বীয় দেওয়ান করিবার জন্য পীড়া- পীড়ি করিয়া অনেক কষ্টে কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যগণের মৃত করিয়া লন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন নন্দকুমারের পরামর্শা- হুসারে কার্য্য করিতেন। ক্রমে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে, হিজরী ১১৭৮ অব্দের ১৪ই সাবান (১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে) বৃহস্পতি- বার তিনি কুষ্ঠরোগে ৭৪ বৎসর বয়সে পরলোকগত হন।

তাঁহার মৃত্যুর পূর্ব্বে নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত আনাইয়া তাঁহার মুখে প্রদান করাইয়াছিলেন এবং তাহাই তাঁহার শেষ জলপান। মীরজাফরের সমাধির পশ্চিমে তাঁহার অন্ততম জামাতা ইস্মাইল খাঁর সমাধি; তাহার পশ্চিমে মীরজাফরবংশীর দ্বিতীর নবাব নজম উদ্দৌলা শায়িত। মীরজাফরের মৃত্যুর পর নজম উদ্দৌলা নিজামতী প্রাপ্ত হন। মীরজাফর জীবিত থাকিতেই তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের মৃত্যু হইয়াছিল; কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যেরা মীরণের পুত্রগণের আবেদন না শুনিয়া নজম উদ্দৌলাকেই মসনদ প্রদান করেন।