০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাহুল গান্ধী বললেন তিনি জিমের সদস্য হবেন: মোহাম্মদ দীপকের সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী বৈঠক নড়াইলে সংঘর্ষে পিতা-পুত্রসহ ৪ জনের মৃত্যু, উত্তপ্ত গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে হঠাৎ আগুন: হাজারীবাগে গ্যাস লিক ফাটল, এক পরিবারের সবাই দগ্ধ  শুল্কে ধাক্কা, মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিপূর্ণ: অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে বাধা স্থানীয় নির্বাচন সময়মতো হবে: ফখরুলের আশ্বাস প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা বিরোধী লবি কার্যক্রম জোরালো হলো এআই প্রযুক্তিতে জনমতের আস্থা কমেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৯ আহত ট্রাম্পের আগাছানাশক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ‘মাহা মমস’, ভেঙে যাচ্ছে সমর্থনের জোট চুয়াডাঙ্গায় যুবদলের নেতা ছুরিকাঘাতে আহত

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 119

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গর্ভজাত মীরজাফরের কন্ঠাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। শা খানম মীর কাশেমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকায় তাঁহারই নিকটে বাস করিতেন। আলিবন্দী খাঁ মীরজাফরের কার্য্যদক্ষতায় সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে সেনাপতির পদ প্রদান করেন। মীরজাফর মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধের সময় অসামান্য বীর্য্যবত্তা দেখাইয়া আপনার সুনাম প্রচার করিয়াছিলেন; কিন্তু আলিবদ্দীর ভ্রাতৃ- জামাতা আতাউল্লা খাঁর সহিত পরামর্শ করিয়া বঙ্গরাজ্য বিভাগ করিয়া লইবার ইচ্ছা করায় আলিবদ্দী তাঁহাকে পদচ্যুত করিতে বাধ্য হন। পরে আলিবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র নওয়াজেস্ মহম্মদ খাঁর অনুরোধে তাঁহাকে পুনর্ব্বার সেনাপতি পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন।

তাহার পর সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নেতা হইয়া, মীরজাফর ইংরেজদিগের সহিত যোগদানপূর্ব্বক সিরাজের সর্ব্বনাশ সাধনের পর মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। মসনদে বসিয়া তিনি ইংরেজদিগের দুর্ব্যবহারে অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া উঠেন এবং তাঁহাদিগের হস্ত হইতে আপনাকে মুক্ত করিয়া স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা করেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের সেই ইচ্ছা অধিকতর বলবতী ছিল। কিন্তু ইংরেজেরা মীরজাফরকে বলপূর্ব্বক পদচ্যুত করিয়া তাঁহার জামাতা মীরকাশেমকে সিংহাসন প্রদান করেন।

আবার মীরকাশেমের সহিত মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, তাঁহারা পুনর্ব্বার মীরজাফরকেই নবাব মনোনীত করিতে বাধ্য হন। এই সময়ে মীরজাফর নন্দকুমারকে স্বীয় দেওয়ান করিবার জন্য পীড়া- পীড়ি করিয়া অনেক কষ্টে কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যগণের মৃত করিয়া লন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন নন্দকুমারের পরামর্শা- হুসারে কার্য্য করিতেন। ক্রমে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে, হিজরী ১১৭৮ অব্দের ১৪ই সাবান (১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে) বৃহস্পতি- বার তিনি কুষ্ঠরোগে ৭৪ বৎসর বয়সে পরলোকগত হন।

তাঁহার মৃত্যুর পূর্ব্বে নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত আনাইয়া তাঁহার মুখে প্রদান করাইয়াছিলেন এবং তাহাই তাঁহার শেষ জলপান। মীরজাফরের সমাধির পশ্চিমে তাঁহার অন্ততম জামাতা ইস্মাইল খাঁর সমাধি; তাহার পশ্চিমে মীরজাফরবংশীর দ্বিতীর নবাব নজম উদ্দৌলা শায়িত। মীরজাফরের মৃত্যুর পর নজম উদ্দৌলা নিজামতী প্রাপ্ত হন। মীরজাফর জীবিত থাকিতেই তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের মৃত্যু হইয়াছিল; কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যেরা মীরণের পুত্রগণের আবেদন না শুনিয়া নজম উদ্দৌলাকেই মসনদ প্রদান করেন।

রাহুল গান্ধী বললেন তিনি জিমের সদস্য হবেন: মোহাম্মদ দীপকের সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী বৈঠক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪৮)

১১:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গর্ভজাত মীরজাফরের কন্ঠাকে বিবাহ করিয়াছিলেন। শা খানম মীর কাশেমের প্রতি সন্তুষ্ট থাকায় তাঁহারই নিকটে বাস করিতেন। আলিবন্দী খাঁ মীরজাফরের কার্য্যদক্ষতায় সন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে সেনাপতির পদ প্রদান করেন। মীরজাফর মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধের সময় অসামান্য বীর্য্যবত্তা দেখাইয়া আপনার সুনাম প্রচার করিয়াছিলেন; কিন্তু আলিবদ্দীর ভ্রাতৃ- জামাতা আতাউল্লা খাঁর সহিত পরামর্শ করিয়া বঙ্গরাজ্য বিভাগ করিয়া লইবার ইচ্ছা করায় আলিবদ্দী তাঁহাকে পদচ্যুত করিতে বাধ্য হন। পরে আলিবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র নওয়াজেস্ মহম্মদ খাঁর অনুরোধে তাঁহাকে পুনর্ব্বার সেনাপতি পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন।

তাহার পর সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নেতা হইয়া, মীরজাফর ইংরেজদিগের সহিত যোগদানপূর্ব্বক সিরাজের সর্ব্বনাশ সাধনের পর মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। মসনদে বসিয়া তিনি ইংরেজদিগের দুর্ব্যবহারে অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া উঠেন এবং তাঁহাদিগের হস্ত হইতে আপনাকে মুক্ত করিয়া স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা করেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের সেই ইচ্ছা অধিকতর বলবতী ছিল। কিন্তু ইংরেজেরা মীরজাফরকে বলপূর্ব্বক পদচ্যুত করিয়া তাঁহার জামাতা মীরকাশেমকে সিংহাসন প্রদান করেন।

আবার মীরকাশেমের সহিত মনোবিবাদ উপস্থিত হইলে, তাঁহারা পুনর্ব্বার মীরজাফরকেই নবাব মনোনীত করিতে বাধ্য হন। এই সময়ে মীরজাফর নন্দকুমারকে স্বীয় দেওয়ান করিবার জন্য পীড়া- পীড়ি করিয়া অনেক কষ্টে কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যগণের মৃত করিয়া লন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন নন্দকুমারের পরামর্শা- হুসারে কার্য্য করিতেন। ক্রমে অন্তিম সময় উপস্থিত হইলে, হিজরী ১১৭৮ অব্দের ১৪ই সাবান (১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে) বৃহস্পতি- বার তিনি কুষ্ঠরোগে ৭৪ বৎসর বয়সে পরলোকগত হন।

তাঁহার মৃত্যুর পূর্ব্বে নন্দকুমার কিরীটেশ্বরীর চরণামৃত আনাইয়া তাঁহার মুখে প্রদান করাইয়াছিলেন এবং তাহাই তাঁহার শেষ জলপান। মীরজাফরের সমাধির পশ্চিমে তাঁহার অন্ততম জামাতা ইস্মাইল খাঁর সমাধি; তাহার পশ্চিমে মীরজাফরবংশীর দ্বিতীর নবাব নজম উদ্দৌলা শায়িত। মীরজাফরের মৃত্যুর পর নজম উদ্দৌলা নিজামতী প্রাপ্ত হন। মীরজাফর জীবিত থাকিতেই তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র মীরণের মৃত্যু হইয়াছিল; কলিকাতা কাউন্সিলের সভ্যেরা মীরণের পুত্রগণের আবেদন না শুনিয়া নজম উদ্দৌলাকেই মসনদ প্রদান করেন।