দিল্লিতে সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের কংগ্রেস দলের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলনেতা রাহুল গান্ধী উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারের জিম মালিক দীপক কুমারের সঙ্গে দেখা করেছেন। দীপক, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামে পরিচিত, গত ২৬ জানুয়ারি কোটদ্বারে এক মুসলিম দোকানিকে উগ্র গোষ্ঠীর হেনস্তা থেকে রক্ষা করার পর দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। সেই ঘটনার পর থেকে দীপককে সমর্থন ও সমালোচনার মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
মোহাম্মদ দীপকের সাহসিকতা
দীপক কুমার কোটদ্বারের একটি দোকানকে রক্ষা করার সময় নিজেকে “মোহাম্মদ দীপক” বলে পরিচয় দেন এবং উগ্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে দাঁড়িয়ে মানবিক সাহসের নজির স্থাপন করেন। এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তাকে নতুনভাবে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসে। দীপককে দেখা যায় যে, তিনি দৃঢ় মনোবল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করেছেন, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বৈঠকে রাহুল গান্ধীর প্রতিশ্রুতি
বৈঠকে রাহুল গান্ধী দীপককে আশ্বস্ত করেন যে তিনি যা করেছিলেন তা সম্পূর্ণ সঠিক ছিল এবং কোনোরকম ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি দীপকের স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন এবং জানিয়ে দেন যে তিনি কোটদ্বারে গিয়ে দীপকের জিমে সদস্য হবেন। দীপক এই প্রতিশ্রুতিতে গভীর আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জানান, রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হবে।
মানবিকতার বার্তা
দীপক বৈঠকের পর বলেন, তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার কাজ মানবিকতার জন্য। রাহুল গান্ধী এই সাক্ষাতকে উদাহরণ হিসেবে দেখান যে প্রতিটি ভারতীয় যুবকের হৃদয়ে ঐক্য ও সাহসের আগুন জ্বালানো উচিত। তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষ সমান। এটাই ভারতীয়তা, এটাই ভালোবাসার দোকান।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ
ঘটনার পর দীপকের জিমে সদস্য সংখ্যা হঠাৎ কমে গেছে এবং কিছু উগ্র উক্তি ও হুমকির বিষয়ও সংবাদে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগী হয়েছে, তবে সামাজিক আলোচনার তীব্রতা এখনও রয়েছে। দীপকের এই সাহসিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে এক নতুন আলোচনা ও অনুপ্রেরণার উদ্রেক করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















