মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আগাছানাশক গ্লাইফোসেট উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ। স্বাস্থ্য সচেতন নারীদের একটি বড় অংশ, যারা নিজেদের ‘মাহা মমস’ নামে পরিচয় দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় পরিবেশ ও খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা ভঙ্গ করা হয়েছে।
গ্লাইফোসেট নিয়ে ক্ষোভ কেন
গ্লাইফোসেট বহুল ব্যবহৃত একটি আগাছানাশক, যা নিয়ে বহুদিন ধরেই স্বাস্থ্যঝুঁকার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা এটিকে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই রাসায়নিকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ বা মাহা আন্দোলনের সমর্থকেরা।
অনেক নারী ভোটার আগে ডেমোক্র্যাট শিবির ছেড়ে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন মূলত পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে তার প্রতিশ্রুতির কারণে। কিন্তু নতুন নির্বাহী আদেশ তাদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

মাহা আন্দোলনে ভাঙনের শঙ্কা
স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক জনপ্রিয় কণ্ঠ অ্যালেক্স ক্লার্ক বলেছেন, অনেক নারী মনে করছেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে এবং মাহা আন্দোলন ভুয়া প্রমাণিত হচ্ছে। তার ভাষায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ভোটারদের আবার একত্র করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সামাজিক মাধ্যমে লাখো অনুসারী থাকা স্বাস্থ্যকর খাদ্য আন্দোলনের কর্মী ভানি হরি জানান, এমন ক্ষোভ ও হতাশা তিনি আগে দেখেননি। তবে তিনি স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন কিনা, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে মূলত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘিরে।
সরকারের যুক্তি কী
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্লাইফোসেট ও ফসফরাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ জরুরি। কোরিয়া যুদ্ধের সময়কার প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন ব্যবহার করে এই উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে সমর্থন নয়, বরং সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ।

সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপ
জনস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স গস্টিন এই পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহ হুমকির মুখে রয়েছে—এমন প্রমাণ খুবই সীমিত।
এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসিও এই নির্দেশ বাতিল করতে আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, যারা ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিল, তাদের এখন বাস্তবতা মেনে নিতে হচ্ছে।
ভোট রাজনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, রাসায়নিক ও কীটনাশক কমানোর দাবি তোলা ভোটারদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দূরত্ব বাড়ছে। এই ইস্যু আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















