বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ক্রমশ উন্নতি করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা এখনও তেমন দৃঢ় নয়। প্রযুক্তি নেতারা যেমন এটিকে “নতুন বৈদ্যুতিক শক্তি” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, তেমনি সাধারণ মানুষ এখনও এটির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে সন্দিহান। অনেকেই মনে করছেন, এআই মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের অভাবে এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এআই প্রযুক্তির গ্রহণ সীমিত
সংস্থাগুলোর জরিপে দেখা গেছে যে এআই বাস্তব জীবনে ততটা কার্যকর প্রভাব ফেলছে না। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার শুরু করলেও তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা থাকলেও, জনমতের সমর্থন না থাকায় এর বাস্তব গ্রহণ সীমিত। এতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো আরও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিলেও সাধারণ মানুষ এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জনমতের উদ্বেগ
গবেষণায় জানা গেছে, জনসাধারণের একটি বড় অংশ মনে করছে যে এআই প্রযুক্তি মানুষের চাকরি বা সৃজনশীল কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি করতে পারে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের মানুষ এবং কম আয়ের মানুষ উভয়েই এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নীতি প্রণয়ন
বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যামাজন এবং এআই স্টার্টআপগুলো এ প্রযুক্তিকে আরও প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব আনতে হলে কেবল প্রযুক্তি উন্নয়ন নয়, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ, নীতি এবং জনমতের সমর্থনও জরুরি। মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব দেখা না দিলে প্রযুক্তি শুধুই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এআই-এর ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তি মানুষের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারে যদি এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়। অন্যথায়, জনমতের নেতিবাচক প্রভাব প্রযুক্তির প্রসারণকে ধীর করে দিতে পারে। তাই এআই-এর সফলতা কেবল প্রযুক্তির উৎকর্ষে নয়, বরং মানুষের জীবন ও সমাজে এর ব্যবহারিক প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















