চীনের মহাকাশ অভিযানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথমবারের মতো হংকং থেকে একজন নভোচারী মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছেন। ৪৩ বছর বয়সী লি জিয়াইং রোববার রাতে চীনের শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযানে করে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি এই অভিযানে পে-লোড বিজ্ঞানীর দায়িত্ব পালন করছেন।
লি জিয়াইং পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং তিন সন্তানের মা। তার এই যাত্রাকে হংকংয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে এটি নতুন এক মাইলফলক বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি

চীন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শেনঝৌ-২৩ মিশন সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ২০২৮ সালের মধ্যে পুনরায় চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
চীনের এই অভিযানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের প্রভাব নিয়ে গবেষণায়। বিশেষ করে, মানবদেহে অতি-স্বল্প মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কেমন হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হবে।
এক বছরের বিশেষ গবেষণা
এই মিশনের তিন সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন নভোচারী পুরো এক বছর মহাকাশে অবস্থান করবেন। যদিও কে এই দীর্ঘ সময় তিয়ানগং স্টেশনে থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লি জিয়াইংয়ের সঙ্গে এই অভিযানে রয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মহাকাশ প্রকৌশলী ঝু ইয়াংঝু এবং সাবেক বিমানবাহিনীর পাইলট ঝ্যাং ঝিয়ুয়ান। তিনজনকেই উৎক্ষেপণের আগে চীনের পতাকা হাতে জনতার উচ্ছ্বাসের মধ্যে বিদায় জানানো হয়।

গোবি মরুভূমি থেকে উৎক্ষেপণ
স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের গোবি মরুভূমি থেকে লং মার্চ ২-এফ রকেটের মাধ্যমে শেনঝৌ-২৩ উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মহাকাশযানটি সফলভাবে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই মিশনকে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণায় আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে হংকংয়ের একজন নারী নভোচারীর অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আরও আগ্রহী করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















