০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গার্দিওলার বিদায় মঞ্চে মাইকেল জর্ডানের আবেগঘন বার্তা, কেঁদে ফেললেন ম্যানসিটি কোচ চীনের মহাকাশে ইতিহাস, প্রথমবারের মতো হংকংয়ের নারী নভোচারীর যাত্রা আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন এখন বিয়ের খাঁচায় বন্দি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: স্বপ্নের মেগা প্রকল্পে ধাক্কা, বাস্তবতার মুখে নতুন হিসাব ৪৫০ টাকার বিরোধে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত, রাজশাহীতে চাঞ্চল্য আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন থামিয়ে দিচ্ছে বাল্যবিয়ে, বন্ধ স্কুলে বাড়ছে হতাশা খরার জমিতে কাস্টার্ড আপেলের জয়, কৃষকদের আয়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষাবন্দি জীবন, বিয়েই এখন অনেকের একমাত্র ভবিষ্যৎ দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাব বন্ধের শঙ্কা, উত্তাল বিতর্কে ক্ষমতা-ঐতিহ্য-অভিজাত সংস্কৃতি লাওসের গুহায় এক সপ্তাহ ধরে আটকা ৭ গ্রামবাসী, চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান

আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন এখন বিয়ের খাঁচায় বন্দি

আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার কিশোরীর জীবন বদলে গেছে ভয়, অনিশ্চয়তা আর জোরপূর্বক বিয়ের চাপে। শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে অনেকেই এখন এমন এক জীবনের মুখোমুখি, যেখানে নিজের স্বপ্ন দেখাও যেন অপরাধ।

দেশটির এক তরুণী আলিয়া, নিরাপত্তার কারণে যার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, নিজের গ্রাম ছেড়ে রাজধানী কাবুলে পালিয়ে আসেন শুধুমাত্র বিয়ে এড়াতে। পরিবারের চাপ থেকে বাঁচতে তিনি এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। আফগানিস্তানের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নারী পুরুষ অভিভাবক ছাড়া দূরপাল্লার ভ্রমণ করতে পারেন না। তবুও ঝুঁকি নিয়েই তিনি কাবুলে পৌঁছান।

স্বপ্ন থেকে বাস্তবের দূরত্ব

AFP via Getty Images Afghan boys in white hats sit on a rug on the floor and study the Quran at a madrasa, an Islamic school in Argo district, Badakhshan province on May 12, 2026.

আলিয়ার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন এখন প্রায় অসম্ভব। তিনি একটি ইংরেজি ভাষার কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, কারণ মেয়েদের জন্য এখন এ ধরনের ছোটখাটো কোর্স বা ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র ছাড়া আর কোনো শিক্ষার সুযোগ নেই। তবে এগুলো কখনোই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার বিকল্প নয়।

আলিয়া বলেন, আগে তার পরিবার তাকে লেখাপড়ায় উৎসাহ দিত। কিন্তু এখন তার বাবা-মাও মনে করেন, বিয়েই মেয়েদের ভবিষ্যৎ। কারণ স্কুল নেই, বিশ্ববিদ্যালয় নেই, চাকরির সুযোগও নেই। ফলে মেয়েদের জন্য বিয়েই যেন একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোরপূর্বক বিয়ের ভয়

আরেক তরুণী শামার জীবনও একইভাবে বদলে গেছে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিবার তাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন তিনি দুই সন্তানের মা। নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি যেন ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে গেছেন। তার কাছে জীবন এখন শুধুই সন্তানদের ঘিরে।

BBC/Imogen Anderson Two women sit in the dark wearing hijabs and face masks to protect their identity

শামার মা কামিলা বলেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়া ছাড়া তার আর কোনো পথ ছিল না। তিনি আশঙ্কা করতেন, অবিবাহিত মেয়েকে নিয়ে সমাজ ও শাসকগোষ্ঠীর চাপ বাড়তে পারে। অথচ তিনি নিজে নিরক্ষর হওয়ায় সবসময় চেয়েছিলেন মেয়েরা যেন শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

অপেক্ষা, কিন্তু কোনো আশার আলো নেই

আফগানিস্তানের বহু কিশোরী এখন প্রতিদিন অপেক্ষা করছে স্কুল খুলে দেওয়ার ঘোষণার জন্য। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অনেকের বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কখনোই তারা স্কুলে ফিরতে পারবে না।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখের বেশি মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার পর আর কোনো শিক্ষা পাবে না। এমনিতেই দেশটিতে নারীদের সাক্ষরতার হার বিশ্বের অন্যতম কম।

নারীদের জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে

Taliban bans women's voices, bare faces from public in new restrictive laws  - National | Globalnews.ca

শুধু শিক্ষাই নয়, আফগান নারীদের ওপর আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। অনেক এলাকায় নারীদের চলাফেরা, কাজ করা বা প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে জনজীবন থেকে নারীদের উপস্থিতি প্রায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি এমন কিছু আইন কার্যকর করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়েকে আরও সহজ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে জোরপূর্বক ও অল্প বয়সে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হতাশার মধ্যে প্রশ্ন

আলিয়া এখনো নিজের স্বপ্ন ছাড়তে চান না। তিনি বলেন, যদি পরিবার জোর না করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত তিনি বিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবেন। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভেতরে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

অন্যদিকে নোরা নামের আরেক তরুণীর প্রশ্ন, “আমরা কেন আফগানিস্তানে জন্ম নিলাম?” এই প্রশ্নই যেন আজকের আফগান কিশোরীদের অসহায় বাস্তবতাকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্দিওলার বিদায় মঞ্চে মাইকেল জর্ডানের আবেগঘন বার্তা, কেঁদে ফেললেন ম্যানসিটি কোচ

আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন এখন বিয়ের খাঁচায় বন্দি

১২:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার দরজা বন্ধ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার কিশোরীর জীবন বদলে গেছে ভয়, অনিশ্চয়তা আর জোরপূর্বক বিয়ের চাপে। শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে অনেকেই এখন এমন এক জীবনের মুখোমুখি, যেখানে নিজের স্বপ্ন দেখাও যেন অপরাধ।

দেশটির এক তরুণী আলিয়া, নিরাপত্তার কারণে যার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, নিজের গ্রাম ছেড়ে রাজধানী কাবুলে পালিয়ে আসেন শুধুমাত্র বিয়ে এড়াতে। পরিবারের চাপ থেকে বাঁচতে তিনি এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। আফগানিস্তানের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নারী পুরুষ অভিভাবক ছাড়া দূরপাল্লার ভ্রমণ করতে পারেন না। তবুও ঝুঁকি নিয়েই তিনি কাবুলে পৌঁছান।

স্বপ্ন থেকে বাস্তবের দূরত্ব

AFP via Getty Images Afghan boys in white hats sit on a rug on the floor and study the Quran at a madrasa, an Islamic school in Argo district, Badakhshan province on May 12, 2026.

আলিয়ার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন এখন প্রায় অসম্ভব। তিনি একটি ইংরেজি ভাষার কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, কারণ মেয়েদের জন্য এখন এ ধরনের ছোটখাটো কোর্স বা ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র ছাড়া আর কোনো শিক্ষার সুযোগ নেই। তবে এগুলো কখনোই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার বিকল্প নয়।

আলিয়া বলেন, আগে তার পরিবার তাকে লেখাপড়ায় উৎসাহ দিত। কিন্তু এখন তার বাবা-মাও মনে করেন, বিয়েই মেয়েদের ভবিষ্যৎ। কারণ স্কুল নেই, বিশ্ববিদ্যালয় নেই, চাকরির সুযোগও নেই। ফলে মেয়েদের জন্য বিয়েই যেন একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোরপূর্বক বিয়ের ভয়

আরেক তরুণী শামার জীবনও একইভাবে বদলে গেছে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিবার তাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এখন তিনি দুই সন্তানের মা। নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি যেন ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে গেছেন। তার কাছে জীবন এখন শুধুই সন্তানদের ঘিরে।

BBC/Imogen Anderson Two women sit in the dark wearing hijabs and face masks to protect their identity

শামার মা কামিলা বলেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়া ছাড়া তার আর কোনো পথ ছিল না। তিনি আশঙ্কা করতেন, অবিবাহিত মেয়েকে নিয়ে সমাজ ও শাসকগোষ্ঠীর চাপ বাড়তে পারে। অথচ তিনি নিজে নিরক্ষর হওয়ায় সবসময় চেয়েছিলেন মেয়েরা যেন শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

অপেক্ষা, কিন্তু কোনো আশার আলো নেই

আফগানিস্তানের বহু কিশোরী এখন প্রতিদিন অপেক্ষা করছে স্কুল খুলে দেওয়ার ঘোষণার জন্য। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অনেকের বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতিতে আর কখনোই তারা স্কুলে ফিরতে পারবে না।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এই নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখের বেশি মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার পর আর কোনো শিক্ষা পাবে না। এমনিতেই দেশটিতে নারীদের সাক্ষরতার হার বিশ্বের অন্যতম কম।

নারীদের জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে

Taliban bans women's voices, bare faces from public in new restrictive laws  - National | Globalnews.ca

শুধু শিক্ষাই নয়, আফগান নারীদের ওপর আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। অনেক এলাকায় নারীদের চলাফেরা, কাজ করা বা প্রকাশ্যে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে জনজীবন থেকে নারীদের উপস্থিতি প্রায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি এমন কিছু আইন কার্যকর করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়েকে আরও সহজ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে জোরপূর্বক ও অল্প বয়সে বিয়ের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

হতাশার মধ্যে প্রশ্ন

আলিয়া এখনো নিজের স্বপ্ন ছাড়তে চান না। তিনি বলেন, যদি পরিবার জোর না করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত তিনি বিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবেন। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভেতরে ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

অন্যদিকে নোরা নামের আরেক তরুণীর প্রশ্ন, “আমরা কেন আফগানিস্তানে জন্ম নিলাম?” এই প্রশ্নই যেন আজকের আফগান কিশোরীদের অসহায় বাস্তবতাকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।