পানি সংকট, অনুর্বর জমি আর দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে যখন বহু কৃষক চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তখন কাস্টার্ড আপেল চাষ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। কম পানিতে টিকে থাকা এই ফল এখন ভারতের বিভিন্ন খরাপ্রবণ অঞ্চলে কৃষকদের আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের টেকসই কৃষিতে কাস্টার্ড আপেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খরার মধ্যেও বাড়ছে ফলন
দক্ষিণ ভারতের কোলার অঞ্চলের কৃষক অশোকা শিভারেড্ডির জীবনেও কাস্টার্ড আপেল বড় পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিনের পানি সংকটের কারণে একসময় তাকে কৃষিকাজ ছেড়ে শহরে কাজ করতে যেতে হয়েছিল। এলাকায় এত কম বৃষ্টি হতো যে চাষের জন্য গভীর নলকূপ খননেই অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়ে যেত।

পরে আবার নিজের জমিতে ফিরে এসে তিনি এমন একটি ফলের খোঁজ শুরু করেন, যা কম পানিতে টিকে থাকবে এবং অতিরিক্ত কীটনাশকের প্রয়োজন হবে না। তখনই তিনি কাস্টার্ড আপেল চাষ শুরু করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে গাছ লাগানো এবং উন্নত জাত ব্যবহার করে তিনি ফলনের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়াতে সক্ষম হন।
গত বছর তার খামারে প্রায় ২০ টন কাস্টার্ড আপেল উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি বছরে সেই উৎপাদন বেড়ে ২৫ টনে পৌঁছেছে।
উন্নত জাত বদলে দিচ্ছে বাজার
আগের কাস্টার্ড আপেলের বড় সমস্যা ছিল কম পাল্প, বেশি বীজ এবং খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া। অনেক সময় তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই ফলের মান নষ্ট হয়ে যেত। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে গবেষকরা উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন।
বর্তমানে ‘আর্কা সাহান’ জাতটি কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ফল এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে এবং এতে পাল্পের পরিমাণও বেশি। ফলে বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
![]()
গবেষকদের মতে, উন্নত জাত ব্যবহারের ফলে একই জমি থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবহারযোগ্য ফল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি কাস্টার্ড আপেল দিয়ে আইসক্রিম, মিল্কশেক ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরির কাজও বাড়ছে।
রপ্তানিতে বাড়ছে সম্ভাবনা
মহারাষ্ট্রের কৃষক নবনাথ মালহারি কাসপাতে বহু বছর ধরে কাস্টার্ড আপেল নিয়ে গবেষণা করছেন। তার উদ্ভাবিত জাত এখন বিদেশের বাজারেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে তার খামারের কাস্টার্ড আপেল রপ্তানি হচ্ছে।
রপ্তানিকারকদের মতে, এই ফল সংরক্ষণে বিশেষ সতর্কতা দরকার। অতিরিক্ত গরমে ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই সংগ্রহ থেকে পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়।

এখন শুধু তাজা ফল নয়, কাস্টার্ড আপেলের পাল্প ও গুঁড়াও বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে এই খাতে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও সীমিত
চাহিদা বাড়লেও এই খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও সীমিত। কারণ কাস্টার্ড আপেলের গাছ স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী এবং কম যত্নে বেড়ে ওঠে। ফলে অনেক কৃষক এখনও আধুনিক সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন।
তবে কৃষি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াজাত শিল্প আরও বিস্তৃত হলে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। খরা ও পানি সংকটের সময়ে কম খরচে লাভজনক ফল হিসেবে কাস্টার্ড আপেল এখন বহু কৃষকের কাছে নতুন ভরসার নাম হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















