০৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় উত্তেজনা, দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সমুদ্রে মাইন বসানোর চেষ্টা করা কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাগুলো “আত্মরক্ষার অংশ” হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে হামলা

Iran attacks prompt Red Sea rethink as box shipping exits Strait of Hormuz  :: Lloyd's List

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছের একটি এলাকা। এই অঞ্চলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে এবং এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।

এর আগে স্থানীয় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি তেহরান।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা

মার্কিন পক্ষ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তারা সংযম দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

MFA spokesman Esmaeil Baqaei - Page 2

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা এখনো কাছাকাছি নয়।

তিনি জানান, আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সমঝোতার আলোচনায় যেসব বিষয়

চলমান আলোচনায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে পরে তিনি আলোচকদের দ্রুত সিদ্ধান্তে না যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

Marco Rubio imposter using AI to call high-level officials | FOX 5 DC

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, খুব দ্রুত একটি চুক্তি হতে পারে। কিন্তু ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে চাপ

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এটি আরও পরিশোধন করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরি হতে পারে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই ইউরেনিয়াম হয় দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ইরানের সমন্বয়ে তা ধ্বংস করতে হবে।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে গেছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় উত্তেজনা, দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

১০:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সমুদ্রে মাইন বসানোর চেষ্টা করা কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলাগুলো “আত্মরক্ষার অংশ” হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে হামলা

Iran attacks prompt Red Sea rethink as box shipping exits Strait of Hormuz  :: Lloyd's List

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছের একটি এলাকা। এই অঞ্চলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে এবং এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।

এর আগে স্থানীয় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি তেহরান।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা

মার্কিন পক্ষ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও তারা সংযম দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

MFA spokesman Esmaeil Baqaei - Page 2

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা এখনো কাছাকাছি নয়।

তিনি জানান, আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সমঝোতার আলোচনায় যেসব বিষয়

চলমান আলোচনায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে পরে তিনি আলোচকদের দ্রুত সিদ্ধান্তে না যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

Marco Rubio imposter using AI to call high-level officials | FOX 5 DC

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, খুব দ্রুত একটি চুক্তি হতে পারে। কিন্তু ইরান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে চাপ

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এটি আরও পরিশোধন করলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরি হতে পারে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই ইউরেনিয়াম হয় দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, অথবা ইরানের সমন্বয়ে তা ধ্বংস করতে হবে।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে গেছেন ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।