০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩ সিঙ্গাপুরে মশা দিয়েই মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ডেঙ্গু কমেছে ৮৭.৬ শতাংশ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে কী বলছে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটন পোস্ট: মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ২ বছরের মেয়ের কলারবোন ভাঙার রহস্য অমীমাংসিত ভারত থেকে রপ্তানি বাড়াবে জাপানের কুবোটা, ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে দামে প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কালিমান্তানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, বৃষ্টি না এলে বাড়তে পারে আগুন-ধোঁয়ার সংকট ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগে অচলাবস্থা আসাম–মেঘালয় উত্তেজনা: হামলায় জড়িত ৫ মুখোশধারী শনাক্ত, গঠিত বিশেষ তদন্ত দল

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: স্বপ্নের মেগা প্রকল্পে ধাক্কা, বাস্তবতার মুখে নতুন হিসাব

এক দশক আগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যখন “ভিশন ২০৩০” ঘোষণা করেছিলেন, তখন সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর পরিকল্পনা বলা হচ্ছিল। মরুভূমির বুক চিরে শত মাইলজুড়ে কাচের শহর, পাহাড়ে স্কি রিসোর্ট, বিশাল কিউব আকৃতির ভবন—সব মিলিয়ে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ২০৩০ সালের মাত্র চার বছর আগে এসে সেই স্বপ্নের অনেক প্রকল্পই এখন সংকোচন, স্থগিত বা বাতিলের মুখে।

তেলের টাকায় গড়া ভবিষ্যৎ

ভিশন ২০৩০–এর মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনা। রাষ্ট্রের বিশাল বিনিয়োগ তহবিল ব্যবহার করে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন ও ক্রীড়াখাতকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের দামের ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ না আসায় সেই পরিকল্পনা বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

Saudi Arabia's Grand Vision Slams Into Financial Reality—and the Iran War -  WSJ

স্বপ্নের শহর থেকে বাস্তবতার পথে

সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প ছিল “দ্য লাইন”। মরুভূমির মধ্যে সোজা রেখার মতো বিস্তৃত আধুনিক শহর গড়ার পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই প্রকল্প আগের চেয়ে অনেক ছোট পরিসরে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে।

পাহাড়ি অঞ্চল ট্রোজেনায় সারা বছর স্কি রিসোর্ট তৈরির পরিকল্পনাও আর বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে না। সেখানে ২০২৯ সালের এশিয়ান শীতকালীন গেমস আয়োজনের কথা থাকলেও সেটি বাতিল হয়েছে। একইভাবে বিশাল “কিউব” প্রকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন থমকে গেল সৌদির গতি

Gallery of Saudi Arabia's 2030 Vision Unveiled through Mega Projects - 5

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বড় বড় প্রকল্প ঘোষণা করে আসছে, কিন্তু বাস্তবায়নে প্রায়ই সমস্যায় পড়েছে। আগের শাসনামলেও নতুন অর্থনৈতিক শহর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, সৌদি নেতৃত্ব বাস্তব চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত বড় পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মানবাধিকার ইস্যুর কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সামাজিক পরিবর্তনের বড় প্রভাব

তবে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ—এমন কথা বলছেন না অনেক পর্যবেক্ষক। সৌদি সমাজে বড় পরিবর্তন এসেছে। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, বিনোদন খাতের প্রসার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে দেশটির নগরজীবনে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রিয়াদসহ বড় শহরগুলোতে এখন তরুণদের জন্য বিনোদনের সুযোগ অনেক বেড়েছে। একসময় যা কল্পনাও করা যেত না, এখন তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সাথে ভালো সম্পর্ক চান - BBC News  বাংলা

নতুন কৌশলে এগোচ্ছে সৌদি

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন বিশাল স্বপ্নের বদলে ছোট কিন্তু বাস্তবসম্মত সাফল্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। “সিনদালাহ” দ্বীপ রিসোর্ট বা ঐতিহাসিক আলউলা উন্নয়ন প্রকল্পের মতো উদ্যোগকে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এখন বুঝতে পারছে যে শুধুমাত্র বড় ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই দীর্ঘমেয়াদে আস্থা তৈরি করবে। এ কারণে এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ধাপে ধাপে উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ভিশন ২০৩০–এর সামনে কঠিন পরীক্ষা

মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা সৌদি আরবকে বদলে দিয়েছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য—এই তিন ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০৩৪ আয়োজনের সুযোগ পাওয়া সৌদির জন্য বড় অর্জন হলেও এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় বড় পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে। অনেক মেগা প্রকল্প হয়তো ভবিষ্যতে কেবল ডিজিটাল নকশাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইডেনের স্কুলে তলোয়ার হামলা, নিহত ১৭ বছরের ছাত্রী; আহত ৩

সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: স্বপ্নের মেগা প্রকল্পে ধাক্কা, বাস্তবতার মুখে নতুন হিসাব

১২:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

এক দশক আগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যখন “ভিশন ২০৩০” ঘোষণা করেছিলেন, তখন সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর পরিকল্পনা বলা হচ্ছিল। মরুভূমির বুক চিরে শত মাইলজুড়ে কাচের শহর, পাহাড়ে স্কি রিসোর্ট, বিশাল কিউব আকৃতির ভবন—সব মিলিয়ে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ২০৩০ সালের মাত্র চার বছর আগে এসে সেই স্বপ্নের অনেক প্রকল্পই এখন সংকোচন, স্থগিত বা বাতিলের মুখে।

তেলের টাকায় গড়া ভবিষ্যৎ

ভিশন ২০৩০–এর মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনা। রাষ্ট্রের বিশাল বিনিয়োগ তহবিল ব্যবহার করে পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন ও ক্রীড়াখাতকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের দামের ওঠানামা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ না আসায় সেই পরিকল্পনা বড় চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

Saudi Arabia's Grand Vision Slams Into Financial Reality—and the Iran War -  WSJ

স্বপ্নের শহর থেকে বাস্তবতার পথে

সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প ছিল “দ্য লাইন”। মরুভূমির মধ্যে সোজা রেখার মতো বিস্তৃত আধুনিক শহর গড়ার পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই প্রকল্প আগের চেয়ে অনেক ছোট পরিসরে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে।

পাহাড়ি অঞ্চল ট্রোজেনায় সারা বছর স্কি রিসোর্ট তৈরির পরিকল্পনাও আর বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে না। সেখানে ২০২৯ সালের এশিয়ান শীতকালীন গেমস আয়োজনের কথা থাকলেও সেটি বাতিল হয়েছে। একইভাবে বিশাল “কিউব” প্রকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন থমকে গেল সৌদির গতি

Gallery of Saudi Arabia's 2030 Vision Unveiled through Mega Projects - 5

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বড় বড় প্রকল্প ঘোষণা করে আসছে, কিন্তু বাস্তবায়নে প্রায়ই সমস্যায় পড়েছে। আগের শাসনামলেও নতুন অর্থনৈতিক শহর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, সৌদি নেতৃত্ব বাস্তব চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত বড় পরিকল্পনা করেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মানবাধিকার ইস্যুর কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সামাজিক পরিবর্তনের বড় প্রভাব

তবে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ—এমন কথা বলছেন না অনেক পর্যবেক্ষক। সৌদি সমাজে বড় পরিবর্তন এসেছে। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, বিনোদন খাতের প্রসার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে দেশটির নগরজীবনে নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রিয়াদসহ বড় শহরগুলোতে এখন তরুণদের জন্য বিনোদনের সুযোগ অনেক বেড়েছে। একসময় যা কল্পনাও করা যেত না, এখন তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের সাথে ভালো সম্পর্ক চান - BBC News  বাংলা

নতুন কৌশলে এগোচ্ছে সৌদি

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন বিশাল স্বপ্নের বদলে ছোট কিন্তু বাস্তবসম্মত সাফল্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। “সিনদালাহ” দ্বীপ রিসোর্ট বা ঐতিহাসিক আলউলা উন্নয়ন প্রকল্পের মতো উদ্যোগকে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এখন বুঝতে পারছে যে শুধুমাত্র বড় ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনাই দীর্ঘমেয়াদে আস্থা তৈরি করবে। এ কারণে এখন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ধাপে ধাপে উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ভিশন ২০৩০–এর সামনে কঠিন পরীক্ষা

মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা সৌদি আরবকে বদলে দিয়েছে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য—এই তিন ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০৩৪ আয়োজনের সুযোগ পাওয়া সৌদির জন্য বড় অর্জন হলেও এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় বড় পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে। অনেক মেগা প্রকল্প হয়তো ভবিষ্যতে কেবল ডিজিটাল নকশাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।