লাওসের মধ্যাঞ্চলের একটি পাহাড়ি গুহায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আটকা পড়ে আছেন সাত গ্রামবাসী। প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বের হতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন চলছে উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাইসোমবুন প্রদেশের কয়েকজন গ্রামবাসী গত বুধবার গুহার ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। তারা মূলত সোনা ও বন্য প্রাণীর খোঁজে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ভারী বৃষ্টি শুরু হলে গুহার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে এবং প্রবেশপথ ধসে যায়।
উদ্ধারে যোগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ ডুবুরিরা

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দলগুলো জানিয়েছে, গুহার ভেতরের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ ও কাদায় ভরা। অনেক জায়গা প্রায় পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। উদ্ধারকারীদের হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ডুবুরিরা সরু ও অন্ধকার পথ পেরিয়ে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। উদ্ধার অভিযানে এমন কিছু বিশেষজ্ঞও অংশ নিয়েছেন, যারা ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবল দলের নাটকীয় উদ্ধার অভিযানে কাজ করেছিলেন।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তির তথ্যেই শুরু অভিযান
দলের একজন সদস্য কোনোভাবে গুহা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনিই পরে কর্তৃপক্ষকে ভেতরে আটকে থাকা অন্যদের বিষয়ে জানান। এরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, গুহাটির ভেতরের কিছু অংশ এতটাই সরু যে কোথাও কোথাও মাত্র আধা মিটার চওড়া পথ রয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পানি সরাতে চলছে চেষ্টা
গুহার ভেতরে জমে থাকা পানি বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা আশা করছেন, পানির স্তর কিছুটা কমলে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
স্থানীয়দের কাছে গুহাটি পরিচিত একটি জায়গা। অনেকেই সেখানে সোনার খোঁজে বা শিকার করতে যান। তবে বর্ষাকালে গুহার ভেতরে পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও উদ্ধারকারীরা আশাবাদী যে দ্রুতই আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















