লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে “চূর্ণবিচূর্ণ আঘাত” দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা পাল্টা হিসেবে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক, ব্যারাক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়েও থামছে না সংঘাত

চলতি মাসের শুরুতে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হলেও সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইসরায়েল এখন হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে এবং হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত শত শত যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দেন।
ইসরায়েলের কট্টরপন্থি কয়েকজন মন্ত্রী রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। এতে পুরো অঞ্চলে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেকা উপত্যকায় নতুন হামলা
সোমবার রাতে বেকা উপত্যকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হয়। সিরিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই অঞ্চলকে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর পর্যন্ত শোনা গেছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলছে, তারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনার প্রস্তুতি, তবুও উত্তেজনা
দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননেই বেশিরভাগ হামলা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার বেকা উপত্যকায় হামলা চালানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন পক্ষ। বিশেষ করে ইরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সব ফ্রন্টে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন।
সংঘাতে বাড়ছে প্রাণহানি
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সংঘাতে প্রাণহানি থামেনি। ইসরায়েলের দাবি, এই সময়ের মধ্যে তাদের ১০ সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















