০২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস বিজেপি মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমা পুনর্নির্ধারণ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল: কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপাল এআইএডিএমকেকে বিজেপির  নিয়ন্ত্রণে : ওদের ভোট দেবেন না -কেজরিওয়াল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে এলসি পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক চাপ—বাংলাদেশের ব্যবসা এখন বহুমুখী সংকটে যুদ্ধবাজরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে জেমস কনোলি: এডিনবরার সন্তান থেকে আইরিশ বিদ্রোহের সমাজতান্ত্রিক মুখ শীতল যুদ্ধের শিশুদের চোখে ভয়, প্রতিবাদ আর বেড়ে ওঠার গল্প—নতুন গবেষণায় উঠে এলো অজানা ইতিহাস

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 129

শ্রী নিখিলনাথ রায়

এই হুমায়ু মঞ্জিল পূর্ব্বে কোম্পানীর বিচারালয় ছিল। মোবারকমঞ্জিল সুন্দর উদ্যান-মধ্যস্থিত একটি রমণীয় প্রাসাদ। তাহার ন্যায় মনোহর স্থল মুর্শিদাবাদে অতি অল্পই আছে। এই স্থানে কষ্টিপ্রস্তরনির্ম্মিত একখানি গোলাকার মসনদ আভ্যন্তরীণ চত্বর প্রাঙ্গণে অবস্থিত ছিল। এই মসনদ শা সুজার সময়ে নির্মিত হয়। ইহা রাজমহল হইতে ঢাকায়, পরে তথা হইতে মুর্শিদাবাদে আনীত হইয়াছিল। নবাব নাজিমগণ পূর্ব্বে ইহাতে উপবেশন করিতেন; এক্ষণে তাহা কলিকাতায় ভিক্টোরিয়া স্মৃতি-মন্দিরে অবস্থিতি করিতেছে।

হুমায়ুজা ১৮৩৮ খৃঃ অব্দে প্রাণত্যাগ করেন। হুমায়ু’জার পর তাঁহার পুত্র মনসুর আলি বা ফেরুছজা নিজামতের গদীতে উপবেশন করিয়াছিলেন। মনসুর আলিই বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব-নাজিম। তাঁহার সময়ে মুর্শিদাবাদের বর্তমান এমামবারা নিৰ্ম্মিত হয়। এই এমামবারা হুগলীর বিখ্যাত এমামবারা অপেক্ষাও বৃহৎ। বর্তমান এমামবারা পুরাতন এমামবারার নিকটেই নিম্মিত হইয়াছে। পুরাতন এমামবারা সিরাজ উদ্দৌলা-কর্তৃক নির্মিত হয়। সিরাজের এমামবারা মুর্শিদাবাদের মধ্যে একটি সুন্দর অট্টালিকা বলিয়া বিখ্যাত ছিল।

মহরমের সময় তথায় দশ দিবস মহা ধুমধাম হইত; মীরজাফর প্রভৃতিও মহরমের সময় তথায় গমন করিতেন। সিরাজের এমামবারার অনুকরণে মুর্শিদাবাদের অনেক সম্ভ্রান্ত লোকের বাটীতে এমামবারা নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। সিরাজের এমামবারা নষ্ট হইয়া যাওয়ার, নবাব নাজিম মনসুর আলি খাঁ ১৮৪৭ খৃঃ অব্দে নূতন এমামবারা নির্মাণ করেন। কথিত আছে যে, নূতন এমামবারা ৮।১০ মাস মধ্যে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। কেবল মুসলমানদিগের দ্বারা ইহার নির্মাণক্রিয়া সম্পাদিত হয়। মনসুর আলি খাঁর সময় হইতেই মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরবের অন্তর্ধান ঘটে।

তাঁহার সময়ে গবর্ণমেন্ট নিজামতের সম্মানের অনেক লাঘব করিয়া দেন। নবাব নাজিমের ১৯ তোপ ১৩ তোপে পরিণত হয়। মোবারক উদ্দৌলার সময় হইতে যে ১৬ লক্ষ টাকা নিজামত বৃত্তির জন্য চলিয়া আসিতেছিল, তন্মধ্যে নবাব নিজ ব্যয়ের জন্য ৭ লক্ষ টাকা পাইতেন। উক্ত ১৬ লক্ষ টাকা গবর্ণর জেনারেল ইচ্ছা করিলে কমাইতে পারিবেন বলিয়া প্রকাশ করা হয়; কিন্তু মনসুর আলির জীবনে গবর্ণমেন্ট তাহার লাঘব করিতে ইচ্ছা করেন নাই। পূর্ব্বে কেল্লামধ্যে নবাবের অনুমতি ব্যতীত কেহ প্রবেশ করিতে পারিত না; গবর্ণমেন্ট নবাব-নাজিমকে সে ক্ষমতা হইতেও বঞ্চিত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫১)

১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

এই হুমায়ু মঞ্জিল পূর্ব্বে কোম্পানীর বিচারালয় ছিল। মোবারকমঞ্জিল সুন্দর উদ্যান-মধ্যস্থিত একটি রমণীয় প্রাসাদ। তাহার ন্যায় মনোহর স্থল মুর্শিদাবাদে অতি অল্পই আছে। এই স্থানে কষ্টিপ্রস্তরনির্ম্মিত একখানি গোলাকার মসনদ আভ্যন্তরীণ চত্বর প্রাঙ্গণে অবস্থিত ছিল। এই মসনদ শা সুজার সময়ে নির্মিত হয়। ইহা রাজমহল হইতে ঢাকায়, পরে তথা হইতে মুর্শিদাবাদে আনীত হইয়াছিল। নবাব নাজিমগণ পূর্ব্বে ইহাতে উপবেশন করিতেন; এক্ষণে তাহা কলিকাতায় ভিক্টোরিয়া স্মৃতি-মন্দিরে অবস্থিতি করিতেছে।

হুমায়ুজা ১৮৩৮ খৃঃ অব্দে প্রাণত্যাগ করেন। হুমায়ু’জার পর তাঁহার পুত্র মনসুর আলি বা ফেরুছজা নিজামতের গদীতে উপবেশন করিয়াছিলেন। মনসুর আলিই বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব-নাজিম। তাঁহার সময়ে মুর্শিদাবাদের বর্তমান এমামবারা নিৰ্ম্মিত হয়। এই এমামবারা হুগলীর বিখ্যাত এমামবারা অপেক্ষাও বৃহৎ। বর্তমান এমামবারা পুরাতন এমামবারার নিকটেই নিম্মিত হইয়াছে। পুরাতন এমামবারা সিরাজ উদ্দৌলা-কর্তৃক নির্মিত হয়। সিরাজের এমামবারা মুর্শিদাবাদের মধ্যে একটি সুন্দর অট্টালিকা বলিয়া বিখ্যাত ছিল।

মহরমের সময় তথায় দশ দিবস মহা ধুমধাম হইত; মীরজাফর প্রভৃতিও মহরমের সময় তথায় গমন করিতেন। সিরাজের এমামবারার অনুকরণে মুর্শিদাবাদের অনেক সম্ভ্রান্ত লোকের বাটীতে এমামবারা নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। সিরাজের এমামবারা নষ্ট হইয়া যাওয়ার, নবাব নাজিম মনসুর আলি খাঁ ১৮৪৭ খৃঃ অব্দে নূতন এমামবারা নির্মাণ করেন। কথিত আছে যে, নূতন এমামবারা ৮।১০ মাস মধ্যে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। কেবল মুসলমানদিগের দ্বারা ইহার নির্মাণক্রিয়া সম্পাদিত হয়। মনসুর আলি খাঁর সময় হইতেই মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরবের অন্তর্ধান ঘটে।

তাঁহার সময়ে গবর্ণমেন্ট নিজামতের সম্মানের অনেক লাঘব করিয়া দেন। নবাব নাজিমের ১৯ তোপ ১৩ তোপে পরিণত হয়। মোবারক উদ্দৌলার সময় হইতে যে ১৬ লক্ষ টাকা নিজামত বৃত্তির জন্য চলিয়া আসিতেছিল, তন্মধ্যে নবাব নিজ ব্যয়ের জন্য ৭ লক্ষ টাকা পাইতেন। উক্ত ১৬ লক্ষ টাকা গবর্ণর জেনারেল ইচ্ছা করিলে কমাইতে পারিবেন বলিয়া প্রকাশ করা হয়; কিন্তু মনসুর আলির জীবনে গবর্ণমেন্ট তাহার লাঘব করিতে ইচ্ছা করেন নাই। পূর্ব্বে কেল্লামধ্যে নবাবের অনুমতি ব্যতীত কেহ প্রবেশ করিতে পারিত না; গবর্ণমেন্ট নবাব-নাজিমকে সে ক্ষমতা হইতেও বঞ্চিত করেন।