০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাহুল গান্ধী বললেন তিনি জিমের সদস্য হবেন: মোহাম্মদ দীপকের সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী বৈঠক নড়াইলে সংঘর্ষে পিতা-পুত্রসহ ৪ জনের মৃত্যু, উত্তপ্ত গ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে হঠাৎ আগুন: হাজারীবাগে গ্যাস লিক ফাটল, এক পরিবারের সবাই দগ্ধ  শুল্কে ধাক্কা, মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিপূর্ণ: অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে বাধা স্থানীয় নির্বাচন সময়মতো হবে: ফখরুলের আশ্বাস প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা বিরোধী লবি কার্যক্রম জোরালো হলো এআই প্রযুক্তিতে জনমতের আস্থা কমেছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৯ আহত ট্রাম্পের আগাছানাশক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ‘মাহা মমস’, ভেঙে যাচ্ছে সমর্থনের জোট চুয়াডাঙ্গায় যুবদলের নেতা ছুরিকাঘাতে আহত

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 115

শ্রী নিখিলনাথ রায়

এই হুমায়ু মঞ্জিল পূর্ব্বে কোম্পানীর বিচারালয় ছিল। মোবারকমঞ্জিল সুন্দর উদ্যান-মধ্যস্থিত একটি রমণীয় প্রাসাদ। তাহার ন্যায় মনোহর স্থল মুর্শিদাবাদে অতি অল্পই আছে। এই স্থানে কষ্টিপ্রস্তরনির্ম্মিত একখানি গোলাকার মসনদ আভ্যন্তরীণ চত্বর প্রাঙ্গণে অবস্থিত ছিল। এই মসনদ শা সুজার সময়ে নির্মিত হয়। ইহা রাজমহল হইতে ঢাকায়, পরে তথা হইতে মুর্শিদাবাদে আনীত হইয়াছিল। নবাব নাজিমগণ পূর্ব্বে ইহাতে উপবেশন করিতেন; এক্ষণে তাহা কলিকাতায় ভিক্টোরিয়া স্মৃতি-মন্দিরে অবস্থিতি করিতেছে।

হুমায়ুজা ১৮৩৮ খৃঃ অব্দে প্রাণত্যাগ করেন। হুমায়ু’জার পর তাঁহার পুত্র মনসুর আলি বা ফেরুছজা নিজামতের গদীতে উপবেশন করিয়াছিলেন। মনসুর আলিই বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব-নাজিম। তাঁহার সময়ে মুর্শিদাবাদের বর্তমান এমামবারা নিৰ্ম্মিত হয়। এই এমামবারা হুগলীর বিখ্যাত এমামবারা অপেক্ষাও বৃহৎ। বর্তমান এমামবারা পুরাতন এমামবারার নিকটেই নিম্মিত হইয়াছে। পুরাতন এমামবারা সিরাজ উদ্দৌলা-কর্তৃক নির্মিত হয়। সিরাজের এমামবারা মুর্শিদাবাদের মধ্যে একটি সুন্দর অট্টালিকা বলিয়া বিখ্যাত ছিল।

মহরমের সময় তথায় দশ দিবস মহা ধুমধাম হইত; মীরজাফর প্রভৃতিও মহরমের সময় তথায় গমন করিতেন। সিরাজের এমামবারার অনুকরণে মুর্শিদাবাদের অনেক সম্ভ্রান্ত লোকের বাটীতে এমামবারা নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। সিরাজের এমামবারা নষ্ট হইয়া যাওয়ার, নবাব নাজিম মনসুর আলি খাঁ ১৮৪৭ খৃঃ অব্দে নূতন এমামবারা নির্মাণ করেন। কথিত আছে যে, নূতন এমামবারা ৮।১০ মাস মধ্যে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। কেবল মুসলমানদিগের দ্বারা ইহার নির্মাণক্রিয়া সম্পাদিত হয়। মনসুর আলি খাঁর সময় হইতেই মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরবের অন্তর্ধান ঘটে।

তাঁহার সময়ে গবর্ণমেন্ট নিজামতের সম্মানের অনেক লাঘব করিয়া দেন। নবাব নাজিমের ১৯ তোপ ১৩ তোপে পরিণত হয়। মোবারক উদ্দৌলার সময় হইতে যে ১৬ লক্ষ টাকা নিজামত বৃত্তির জন্য চলিয়া আসিতেছিল, তন্মধ্যে নবাব নিজ ব্যয়ের জন্য ৭ লক্ষ টাকা পাইতেন। উক্ত ১৬ লক্ষ টাকা গবর্ণর জেনারেল ইচ্ছা করিলে কমাইতে পারিবেন বলিয়া প্রকাশ করা হয়; কিন্তু মনসুর আলির জীবনে গবর্ণমেন্ট তাহার লাঘব করিতে ইচ্ছা করেন নাই। পূর্ব্বে কেল্লামধ্যে নবাবের অনুমতি ব্যতীত কেহ প্রবেশ করিতে পারিত না; গবর্ণমেন্ট নবাব-নাজিমকে সে ক্ষমতা হইতেও বঞ্চিত করেন।

রাহুল গান্ধী বললেন তিনি জিমের সদস্য হবেন: মোহাম্মদ দীপকের সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী বৈঠক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৫১)

১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

এই হুমায়ু মঞ্জিল পূর্ব্বে কোম্পানীর বিচারালয় ছিল। মোবারকমঞ্জিল সুন্দর উদ্যান-মধ্যস্থিত একটি রমণীয় প্রাসাদ। তাহার ন্যায় মনোহর স্থল মুর্শিদাবাদে অতি অল্পই আছে। এই স্থানে কষ্টিপ্রস্তরনির্ম্মিত একখানি গোলাকার মসনদ আভ্যন্তরীণ চত্বর প্রাঙ্গণে অবস্থিত ছিল। এই মসনদ শা সুজার সময়ে নির্মিত হয়। ইহা রাজমহল হইতে ঢাকায়, পরে তথা হইতে মুর্শিদাবাদে আনীত হইয়াছিল। নবাব নাজিমগণ পূর্ব্বে ইহাতে উপবেশন করিতেন; এক্ষণে তাহা কলিকাতায় ভিক্টোরিয়া স্মৃতি-মন্দিরে অবস্থিতি করিতেছে।

হুমায়ুজা ১৮৩৮ খৃঃ অব্দে প্রাণত্যাগ করেন। হুমায়ু’জার পর তাঁহার পুত্র মনসুর আলি বা ফেরুছজা নিজামতের গদীতে উপবেশন করিয়াছিলেন। মনসুর আলিই বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব-নাজিম। তাঁহার সময়ে মুর্শিদাবাদের বর্তমান এমামবারা নিৰ্ম্মিত হয়। এই এমামবারা হুগলীর বিখ্যাত এমামবারা অপেক্ষাও বৃহৎ। বর্তমান এমামবারা পুরাতন এমামবারার নিকটেই নিম্মিত হইয়াছে। পুরাতন এমামবারা সিরাজ উদ্দৌলা-কর্তৃক নির্মিত হয়। সিরাজের এমামবারা মুর্শিদাবাদের মধ্যে একটি সুন্দর অট্টালিকা বলিয়া বিখ্যাত ছিল।

মহরমের সময় তথায় দশ দিবস মহা ধুমধাম হইত; মীরজাফর প্রভৃতিও মহরমের সময় তথায় গমন করিতেন। সিরাজের এমামবারার অনুকরণে মুর্শিদাবাদের অনেক সম্ভ্রান্ত লোকের বাটীতে এমামবারা নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। সিরাজের এমামবারা নষ্ট হইয়া যাওয়ার, নবাব নাজিম মনসুর আলি খাঁ ১৮৪৭ খৃঃ অব্দে নূতন এমামবারা নির্মাণ করেন। কথিত আছে যে, নূতন এমামবারা ৮।১০ মাস মধ্যে নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। কেবল মুসলমানদিগের দ্বারা ইহার নির্মাণক্রিয়া সম্পাদিত হয়। মনসুর আলি খাঁর সময় হইতেই মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরবের অন্তর্ধান ঘটে।

তাঁহার সময়ে গবর্ণমেন্ট নিজামতের সম্মানের অনেক লাঘব করিয়া দেন। নবাব নাজিমের ১৯ তোপ ১৩ তোপে পরিণত হয়। মোবারক উদ্দৌলার সময় হইতে যে ১৬ লক্ষ টাকা নিজামত বৃত্তির জন্য চলিয়া আসিতেছিল, তন্মধ্যে নবাব নিজ ব্যয়ের জন্য ৭ লক্ষ টাকা পাইতেন। উক্ত ১৬ লক্ষ টাকা গবর্ণর জেনারেল ইচ্ছা করিলে কমাইতে পারিবেন বলিয়া প্রকাশ করা হয়; কিন্তু মনসুর আলির জীবনে গবর্ণমেন্ট তাহার লাঘব করিতে ইচ্ছা করেন নাই। পূর্ব্বে কেল্লামধ্যে নবাবের অনুমতি ব্যতীত কেহ প্রবেশ করিতে পারিত না; গবর্ণমেন্ট নবাব-নাজিমকে সে ক্ষমতা হইতেও বঞ্চিত করেন।