০১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৩৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 73

শশাঙ্ক মণ্ডল

শিল্প-বাণিজ্য

তৃতীয় অধ্যায়

পলাশী যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বে এই শিল্পের অবনতি ঘটতে শুরু করে। প্রতি দশকে লক্ষ করা যাচ্ছে তাঁতের কাপড় বাইরে কম যাচ্ছে এবং উনিশ শতকের ১ম দশকের মধ্যে বিলাতি কাপড় ধীরে ধীরে আমাদের দেশের বাজার দখল করেছে এবং পরবর্তী কালে আরও বেশি বিলাতি কাপড় আমাদের দেশে আসছে। ব্রিটিশ রাজত্বের শুরুতেও গঙ্গার ব-দ্বীপ অঞ্চল বিশেষ করে যশোর, নদীয়া, ফরিদপুর, পাবনা, ঢাকা সেদিন কাপাস-উৎপাদক অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত ছিল, এখানকার উর্বর পলিমাটিতে প্রচুর কার্পাস উৎপাদিত হত।

কিন্তু কার্পাস উৎপাদনের জন্য জমিতে প্রচুর প্ররিশ্রম করতে হত এবং ৬/৭ মাস পর্যন্ত ফসলের জন্য অপেক্ষা করতে হত। উনিশ শতকের তৃতীয় দশক থেকে এই এলাকায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হয় এবং পরের যুগে পাট উৎপাদনের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেল। নীল ও পাটচাষের আর্থিক সাফল্য চাষীকে উৎসাহিত করল। অপরদিকে ইংলন্ডের শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সস্তার কাপড়ে দেশ প্লাবিত হল এবং সেই সঙ্গে আরও বিভিন্ন কারণে আমাদের কার্পাস শিল্পের তাঁতিরা পিছু হটতে বাধ্য হল। অনেকে বংশানুক্রমিক ভাবে চলে আসা ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হল।

১৮৯০ খ্রীঃ কলিনস্ তার রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন ম্যাঞ্চেস্টারের কলের কাপড় বাধ্য করল দেশিয় তাঁতিদের ব্যবসা বন্ধ করতে (৯)। অবশ্য এই শিল্পের ধ্বংসের পিছনে আরও দু-একটি কারণ অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। ১৭৬৯-৭০-এর মন্বন্তর এবং ১৭৮৪ খ্রীষ্টাব্দের বন্যা এবং তারই পরিণতিতে দুর্ভিক্ষের রেশ চলল ১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। নদীয়া যশোর খুলনা ২৪ পরগনা বাখরগঞ্জের সুন্দরবনের উত্তরে এবং মধ্যবাংলার জেলাগুলিতে এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা গেল।

খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় এই কয়েকবছরে বেশি বেশি করে মানুষ চাষের দিকে ঝুঁকছে এবং দুর্ভিক্ষ মন্বন্তর কৃষিজীবী মানুষদের একটা বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করেছিল। কৃষি ও শিল্পের জনসংখ্যা বিন্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। কৃষিতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ল আর সেই সাথে কুটিরশিল্পের বাজারে চাহিদার অভাব সূচিত হল। এর সঙ্গে আরও কতকগুলি বাইরের ঘটনা উৎপাদন-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করল। দাদনি প্রথার মাধ্যমে তাঁতিদের কাপড়ের জন্য যে মজুরি দেওয়া হতে লাগল তার মাধ্যমে তৎকালীন বাজারে খাদ্যশস্য সংগ্রহ দুর্বিষহ হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে নানা রকমের দুর্নীতি ও অত্যাচার তাঁতিদের বাধ্য করল তাঁতের কাজ ছেড়ে দিতে। এ সময়ে বিদেশের বাজারের অর্ডার (order) কমতে শুরু করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৩৮)

১২:০০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

শিল্প-বাণিজ্য

তৃতীয় অধ্যায়

পলাশী যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বে এই শিল্পের অবনতি ঘটতে শুরু করে। প্রতি দশকে লক্ষ করা যাচ্ছে তাঁতের কাপড় বাইরে কম যাচ্ছে এবং উনিশ শতকের ১ম দশকের মধ্যে বিলাতি কাপড় ধীরে ধীরে আমাদের দেশের বাজার দখল করেছে এবং পরবর্তী কালে আরও বেশি বিলাতি কাপড় আমাদের দেশে আসছে। ব্রিটিশ রাজত্বের শুরুতেও গঙ্গার ব-দ্বীপ অঞ্চল বিশেষ করে যশোর, নদীয়া, ফরিদপুর, পাবনা, ঢাকা সেদিন কাপাস-উৎপাদক অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত ছিল, এখানকার উর্বর পলিমাটিতে প্রচুর কার্পাস উৎপাদিত হত।

কিন্তু কার্পাস উৎপাদনের জন্য জমিতে প্রচুর প্ররিশ্রম করতে হত এবং ৬/৭ মাস পর্যন্ত ফসলের জন্য অপেক্ষা করতে হত। উনিশ শতকের তৃতীয় দশক থেকে এই এলাকায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হয় এবং পরের যুগে পাট উৎপাদনের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেল। নীল ও পাটচাষের আর্থিক সাফল্য চাষীকে উৎসাহিত করল। অপরদিকে ইংলন্ডের শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সস্তার কাপড়ে দেশ প্লাবিত হল এবং সেই সঙ্গে আরও বিভিন্ন কারণে আমাদের কার্পাস শিল্পের তাঁতিরা পিছু হটতে বাধ্য হল। অনেকে বংশানুক্রমিক ভাবে চলে আসা ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হল।

১৮৯০ খ্রীঃ কলিনস্ তার রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন ম্যাঞ্চেস্টারের কলের কাপড় বাধ্য করল দেশিয় তাঁতিদের ব্যবসা বন্ধ করতে (৯)। অবশ্য এই শিল্পের ধ্বংসের পিছনে আরও দু-একটি কারণ অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। ১৭৬৯-৭০-এর মন্বন্তর এবং ১৭৮৪ খ্রীষ্টাব্দের বন্যা এবং তারই পরিণতিতে দুর্ভিক্ষের রেশ চলল ১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত। নদীয়া যশোর খুলনা ২৪ পরগনা বাখরগঞ্জের সুন্দরবনের উত্তরে এবং মধ্যবাংলার জেলাগুলিতে এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা গেল।

খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় এই কয়েকবছরে বেশি বেশি করে মানুষ চাষের দিকে ঝুঁকছে এবং দুর্ভিক্ষ মন্বন্তর কৃষিজীবী মানুষদের একটা বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করেছিল। কৃষি ও শিল্পের জনসংখ্যা বিন্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। কৃষিতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়ল আর সেই সাথে কুটিরশিল্পের বাজারে চাহিদার অভাব সূচিত হল। এর সঙ্গে আরও কতকগুলি বাইরের ঘটনা উৎপাদন-ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করল। দাদনি প্রথার মাধ্যমে তাঁতিদের কাপড়ের জন্য যে মজুরি দেওয়া হতে লাগল তার মাধ্যমে তৎকালীন বাজারে খাদ্যশস্য সংগ্রহ দুর্বিষহ হয়ে উঠল। সেই সঙ্গে নানা রকমের দুর্নীতি ও অত্যাচার তাঁতিদের বাধ্য করল তাঁতের কাজ ছেড়ে দিতে। এ সময়ে বিদেশের বাজারের অর্ডার (order) কমতে শুরু করে।