০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
সরকারি সহায়তা ছাড়া কি ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারতেন ইলন মাস্ক? চিয়ংসামের ভাঁজে লুকানো অভিবাসী জীবনের ইতিহাস, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিরল প্রদর্শনী মিশেলিন গাইডের নতুন দিগন্ত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংস্কৃতির মানচিত্রে যুক্ত হতে পারে ভারত ও আফ্রিকার দেশগুলো কাতারের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট, শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প ঘিরে আলবেনিয়ায় জমি বিতর্ক, বিক্ষোভে উত্তাল উপকূল নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির গুলিতে আহত কথিত ভারতীয় চোরাকারবারি চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, যোগাযোগ রাখছে বিজিবি স্কটল্যান্ডের ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে হাইতিকে হারিয়ে দারুণ সূচনা ঢাবিতে বিশাল পর্দায় ব্রাজিলের ম্যাচ, ভোররাতে সমর্থকদের ঢল

নরম্যান্ডির ছোট্ট গ্রামে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে সরব বাসিন্দারা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের একটি ছোট উপকূলীয় গ্রাম হঠাৎই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ, ডি-ডে বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকাশ্য আপত্তি। তাদের দাবি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তিকে এমন ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো উচিত নয়।

ডি-ডে স্মৃতির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক

প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাসের এই গ্রাম বহু বছর ধরে ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে আসছে। স্থানীয়দের অনেকের পরিবার সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব বহন করেছে। ফলে তাদের কাছে এই স্মরণ অনুষ্ঠান শুধু ইতিহাস নয়, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও মূল্যবোধেরও অংশ।

স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তির উপস্থিতির খবর তাদের বিস্মিত করেছে, যাঁর বক্তব্য ও অবস্থান গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তারা মনে করেন না। এ কারণেই গ্রামের একটি নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা যৌথ বিবৃতিতে সফর বাতিলের আহ্বান জানান।

ছোট্ট উদ্যোগ থেকে বিশ্বজুড়ে আলোচনায়

A point of resistance': the Normandy village that said 'non' to Pete  Hegseth | France | The Guardian

প্রথমে এই বিবৃতিকে অনেকেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই দেখেছিলেন। কারণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত উচ্চপদস্থ অতিথির উপস্থিতির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিলে গ্রামের প্রতিবাদ নতুন গুরুত্ব পায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি তুলে ধরে এবং স্থানীয়দের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রতিবাদকারীদের মতে, তারা মূলত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে ডি-ডে শুধু অতীতের একটি সামরিক অভিযান নয়; এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থন

প্রতিবাদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনটির কাছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত বার্তা পৌঁছাতে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

In D-Day speech, Hegseth urges Europe to counter 'invasion' of migrants |  South China Morning Post

সংগঠনের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন প্রবীণ যুদ্ধসেনার পাঠানো বার্তা তাদের বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি লিখেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে মূল্যবোধ রক্ষার জন্য তারা লড়াই করেছিলেন, সেই মূল্যবোধের পক্ষেই আজ গ্রামের মানুষ দাঁড়িয়েছেন।

বিতর্কিত বক্তব্যে নতুন সমালোচনা

ডি-ডে উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য আরও বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধস্মৃতির অনুষ্ঠানে অভিবাসন ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মতো বিষয় টেনে আনা ছিল অনুপযুক্ত।

এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের আত্মত্যাগকে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠল গ্রাম

স্থানীয় সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, তাদের অবস্থান অন্যদেরও কথা বলার সাহস জুগিয়েছে। তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

তারা বলছেন, আজকের পৃথিবীতে প্রতিরোধ মানে সব সময় বড় আন্দোলন নয়; কখনও কখনও এটি কেবল সমাজকে তার মৌলিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর সেই কাজটিই করেছে নরম্যান্ডির এই ছোট্ট গ্রাম।

French village rejects US defence chief over D-Day speech

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি সহায়তা ছাড়া কি ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারতেন ইলন মাস্ক?

নরম্যান্ডির ছোট্ট গ্রামে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, গণতন্ত্রের পক্ষে সরব বাসিন্দারা

১২:০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের একটি ছোট উপকূলীয় গ্রাম হঠাৎই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ, ডি-ডে বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকাশ্য আপত্তি। তাদের দাবি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তিকে এমন ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো উচিত নয়।

ডি-ডে স্মৃতির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক

প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাসের এই গ্রাম বহু বছর ধরে ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে আসছে। স্থানীয়দের অনেকের পরিবার সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব বহন করেছে। ফলে তাদের কাছে এই স্মরণ অনুষ্ঠান শুধু ইতিহাস নয়, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও মূল্যবোধেরও অংশ।

স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তির উপস্থিতির খবর তাদের বিস্মিত করেছে, যাঁর বক্তব্য ও অবস্থান গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তারা মনে করেন না। এ কারণেই গ্রামের একটি নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা যৌথ বিবৃতিতে সফর বাতিলের আহ্বান জানান।

ছোট্ট উদ্যোগ থেকে বিশ্বজুড়ে আলোচনায়

A point of resistance': the Normandy village that said 'non' to Pete  Hegseth | France | The Guardian

প্রথমে এই বিবৃতিকে অনেকেই প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই দেখেছিলেন। কারণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত উচ্চপদস্থ অতিথির উপস্থিতির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিলে গ্রামের প্রতিবাদ নতুন গুরুত্ব পায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি তুলে ধরে এবং স্থানীয়দের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

প্রতিবাদকারীদের মতে, তারা মূলত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে ডি-ডে শুধু অতীতের একটি সামরিক অভিযান নয়; এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থন

প্রতিবাদের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনটির কাছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত বার্তা পৌঁছাতে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

In D-Day speech, Hegseth urges Europe to counter 'invasion' of migrants |  South China Morning Post

সংগঠনের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন প্রবীণ যুদ্ধসেনার পাঠানো বার্তা তাদের বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি লিখেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে মূল্যবোধ রক্ষার জন্য তারা লড়াই করেছিলেন, সেই মূল্যবোধের পক্ষেই আজ গ্রামের মানুষ দাঁড়িয়েছেন।

বিতর্কিত বক্তব্যে নতুন সমালোচনা

ডি-ডে উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য আরও বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধস্মৃতির অনুষ্ঠানে অভিবাসন ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মতো বিষয় টেনে আনা ছিল অনুপযুক্ত।

এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের আত্মত্যাগকে বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠল গ্রাম

স্থানীয় সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন, তাদের অবস্থান অন্যদেরও কথা বলার সাহস জুগিয়েছে। তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

তারা বলছেন, আজকের পৃথিবীতে প্রতিরোধ মানে সব সময় বড় আন্দোলন নয়; কখনও কখনও এটি কেবল সমাজকে তার মৌলিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর সেই কাজটিই করেছে নরম্যান্ডির এই ছোট্ট গ্রাম।

French village rejects US defence chief over D-Day speech