মস্তিষ্ক নেই, স্নায়ুতন্ত্রও নেই। তবু জটিল গোলকধাঁধার পথ খুঁজে বের করতে পারে, খাবারের সবচেয়ে কার্যকর রুট মনে রাখতে পারে এবং সমস্যার সমাধান করতে পারে। প্রকৃতির এমনই এক বিস্ময়কর জীব হলো উজ্জ্বল হলুদ রঙের স্লাইম ছত্রাক। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এর অস্বাভাবিক আচরণের পেছনের রহস্য উন্মোচন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকদের কাছে প্রশ্ন ছিল, কীভাবে এত সাধারণ গঠনের একটি জীব এমন আচরণ করে, যা অনেক সময় বুদ্ধিমান প্রাণীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে তুলনা করা যায়। নতুন গবেষণা সেই প্রশ্নের একটি চমকপ্রদ উত্তর দিয়েছে।
পরীক্ষায় যা দেখা গেল
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ক্ষুধার্ত স্লাইম ছত্রাককে বিভিন্ন জ্যামিতিক আকৃতির ঘেরের মধ্যে রাখেন। এরপর সেখানে নীল আলো প্রয়োগ করা হয়, যা এই জীব একেবারেই সহ্য করতে পারে না।

ফলে স্লাইম ছত্রাকের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। হয় আলো সহ্য করে একই জায়গায় থাকা, নয়তো বেরিয়ে গিয়ে খাবারের সন্ধান করা। দেখা যায়, জীবটি বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করে।
এ সময় এটি চারপাশে ছোট ছোট শাখা বিস্তার করে একাধিক পথ একসঙ্গে পরীক্ষা করতে থাকে। ধীরে ধীরে এটি বের হওয়ার একটি কার্যকর পথ খুঁজে পায় এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে বারবার সেই পথই ব্যবহার করে।
তবে কি এটি সত্যিই চিন্তা করে?
প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, স্লাইম ছত্রাক হয়তো পথ মনে রাখতে পারে বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু গবেষকদের মতে, এর পেছনে প্রচলিত অর্থে কোনো চিন্তাভাবনা কাজ করে না।
স্লাইম ছত্রাকের শরীরের ভেতরে নলসদৃশ একটি জটিল জালিকা রয়েছে। সেখানে নিয়মিত ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরল পদার্থ চলাচল করে। নতুন পরিবেশ অনুসন্ধানের সময় এই প্রবাহের ধরন নিজে থেকেই পুনর্গঠিত হয়।

ফলে শরীর এমন একটি বিন্যাস খুঁজে পায়, যা সবচেয়ে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে ভর স্থানান্তর করতে পারে। এভাবেই জীবটি বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যায়।
বুদ্ধিমত্তা নয়, পদার্থবিজ্ঞানের অসাধারণ খেলা
গবেষকদের মতে, স্লাইম ছত্রাকের আচরণকে মানবীয় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। বরং এটি প্রকৃতির মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের এক অসাধারণ উদাহরণ।
নীল আলোর প্রতি তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে জীবটি দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একই সঙ্গে শরীরের ভেতরের তরল প্রবাহ সবচেয়ে কার্যকর পথ তৈরি করে। বাইরে থেকে এটি যেন চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি স্বাভাবিক ভৌত প্রক্রিয়ার ফল।
গবেষণাটি দেখিয়েছে, কোনো মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র ছাড়াও প্রকৃতির কিছু জীব অত্যন্ত জটিল সমস্যা সমাধানের মতো আচরণ প্রদর্শন করতে পারে। আর সেই আচরণের পেছনে কাজ করে জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর সমন্বয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















