০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা মাদুরো পতনের পর ওয়াশিংটনের ছায়ায় ভেনেজুয়েলা, ক্ষমতার কেন্দ্রে দেলসি রদ্রিগেজ

বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে?

বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে বিজেপি। দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক উচ্চবর্ণের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন দলেরই কয়েকজন নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নতুন সমতা-সংক্রান্ত বিধিমালা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করেছে। চলতি বছরের শুরুতে বিধিমালাগুলো প্রকাশের পর মূলত উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ এর বিরোধিতা শুরু করে। পরে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বিধিমালার কার্যকারিতা স্থগিত করে এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে।

উচ্চবর্ণের ক্ষোভ নিয়ে সতর্ক বিজেপি

বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বাঁকিপুরের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চবর্ণের অসন্তোষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটির কয়েকজন উত্তরপ্রদেশ নেতা জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণ ও ঠাকুর সম্প্রদায়ের কিছু অংশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা নিয়ে এখনও ক্ষোভ রয়েছে।

সুলতানপুরের এক বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চবর্ণের অনেক মানুষ মনে করছেন, বিজেপির কঠিন সময় এবং রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময়ে তারা দলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটের মাঠ থেকে বুথ পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তারা দলকে সহায়তা করেছিলেন। অথচ এখন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

প্রতাপগড়ের এক ব্রাহ্মণ নেতার দাবি, ব্রাহ্মণদের একটি অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে। তাদের কেউ কেউ বহুজন সমাজ পার্টির দিকে যেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টির প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম, কারণ দলটির যাদব ভোটব্যাংকের সঙ্গে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

পরীক্ষার অনিয়ম ও বিধিমালা—দুই ক্ষোভ একসঙ্গে

উচ্চবর্ণের অসন্তোষ শুধু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালাতেই সীমাবদ্ধ নেই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়েও বিজেপির ঐতিহ্যগত সমর্থকদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে।

অযোধ্যার এক উচ্চবর্ণের বিজেপি নেতার মতে, দলের স্থানীয় কর্মীদের অনেক সময় বিধিমালা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা নিয়ে বিতর্কের সময়ই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করলে উচ্চবর্ণের মধ্যে ভিন্ন বার্তা যেতে পারত।

লখিমপুর খেরির এক উচ্চবর্ণের নেতা আবার মনে করছেন, এই ক্ষোভের মূল লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কেন্দ্রের আওতাধীন।

তাঁর আশঙ্কা, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেমন ঠাকুরদের একটি অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল এবং সাম্প্রতিক বাঁকিপুর উপনির্বাচনে ব্রাহ্মণ ভোটের একটি অংশ দল থেকে সরে গিয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে দেখা দিতে পারে।

Anti-reservation rage spills onto streets in UP, Rajasthan, Maharashtra,  Andhra; Shri Rajput Karni Sena vows no vote - India Today

২০২৯-এর আগে উত্তরপ্রদেশ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিজেপি

উত্তরপ্রদেশ বিজেপির একাংশ মনে করছে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উচ্চবর্ণের ভোটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু রাজ্য সরকার গঠনের ওপর পড়বে না, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির জন্য বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

উত্তরপ্রদেশ লোকসভায় বিপুল সংখ্যক আসনের রাজ্য হওয়ায় কেন্দ্রের ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রাজ্যটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উচ্চবর্ণের ক্ষোভকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন দলের নেতারা।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়েছে। গত মাসে দলের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি বৈঠকে সভাপতি নীতিন নবীন নেতাদের নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি না দেখার পরামর্শ দেন। দলের এক নেতার দাবি, নবীন আশ্বাস দিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য ভুল ছিল না এবং সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের পথে যাবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষও উত্তরপ্রদেশের নেতাদের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বলেছেন। বিধিমালার বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত কিছু শব্দের কারণে নেতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজস্থানেও দেখা যাচ্ছে অসন্তোষের ছাপ

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি রাজস্থানেও উচ্চবর্ণের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। ৩ আগস্ট জয়পুরে রাজপুত করণী সেনা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালার বিরুদ্ধে সমাবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা বিজেপি কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বলপ্রয়োগ করে।

করণী সেনার এই আন্দোলন থেকে বিজেপির জন্য আরেকটি সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে। তবে রাজস্থানে এখনও এই অসন্তোষ মূলত করণী সেনার কিছু অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতারা এখনও ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হননি।

তবে করণী সেনার মুখপাত্র বিজেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সংগঠনটি এবার হরিয়ানাতেও প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে।

ভোটের সমীকরণে নতুন চাপ

বিজেপির দীর্ঘদিনের নির্বাচনী শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল উচ্চবর্ণের সমর্থন। সময়ের সঙ্গে দলটি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের সমর্থনভিত্তি বিস্তৃত করেছে। কিন্তু সেই বিস্তারের সঙ্গে পুরনো সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে যদি বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে তা বিজেপির জন্য জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

বিহারের বাঁকিপুরের ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা নিয়ে ক্ষোভ, পরীক্ষার অনিয়ম এবং ২০২৪ সালের ভোটে কিছু উচ্চবর্ণের ভোটের পরিবর্তন—এই সবকটি বিষয় এখন বিজেপির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ভোট পুরোপুরি বিজেপির কাছ থেকে সরে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি। ক্ষোভ কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধনমূলক পদক্ষেপ, বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা এবং বিরোধী দলগুলো এই অসন্তোষকে কতটা ভোটে রূপান্তর করতে পারে তার ওপর।

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন তাই শুধু সরকারবিরোধী মনোভাবের পরীক্ষা নয়; বিজেপির পুরনো উচ্চবর্ণের সমর্থনভিত্তি কতটা অটুট রয়েছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে।

বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের অসন্তোষ বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা, পরীক্ষার অনিয়ম ও ভোটের পুরনো সমীকরণ ঘিরে ২০২৭ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব?

বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে?

০৮:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে পরাজয়ের পর উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে পড়েছে বিজেপি। দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক উচ্চবর্ণের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন দলেরই কয়েকজন নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নতুন সমতা-সংক্রান্ত বিধিমালা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এই অসন্তোষকে আরও তীব্র করেছে। চলতি বছরের শুরুতে বিধিমালাগুলো প্রকাশের পর মূলত উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ এর বিরোধিতা শুরু করে। পরে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বিধিমালার কার্যকারিতা স্থগিত করে এবং এর সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে।

উচ্চবর্ণের ক্ষোভ নিয়ে সতর্ক বিজেপি

বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বাঁকিপুরের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চবর্ণের অসন্তোষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটির কয়েকজন উত্তরপ্রদেশ নেতা জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণ ও ঠাকুর সম্প্রদায়ের কিছু অংশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা নিয়ে এখনও ক্ষোভ রয়েছে।

সুলতানপুরের এক বিজেপি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চবর্ণের অনেক মানুষ মনে করছেন, বিজেপির কঠিন সময় এবং রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময়ে তারা দলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটের মাঠ থেকে বুথ পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই তারা দলকে সহায়তা করেছিলেন। অথচ এখন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

প্রতাপগড়ের এক ব্রাহ্মণ নেতার দাবি, ব্রাহ্মণদের একটি অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে। তাদের কেউ কেউ বহুজন সমাজ পার্টির দিকে যেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টির প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম, কারণ দলটির যাদব ভোটব্যাংকের সঙ্গে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

পরীক্ষার অনিয়ম ও বিধিমালা—দুই ক্ষোভ একসঙ্গে

উচ্চবর্ণের অসন্তোষ শুধু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালাতেই সীমাবদ্ধ নেই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়েও বিজেপির ঐতিহ্যগত সমর্থকদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে।

অযোধ্যার এক উচ্চবর্ণের বিজেপি নেতার মতে, দলের স্থানীয় কর্মীদের অনেক সময় বিধিমালা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা নিয়ে বিতর্কের সময়ই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করলে উচ্চবর্ণের মধ্যে ভিন্ন বার্তা যেতে পারত।

লখিমপুর খেরির এক উচ্চবর্ণের নেতা আবার মনে করছেন, এই ক্ষোভের মূল লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কেন্দ্রের আওতাধীন।

তাঁর আশঙ্কা, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেমন ঠাকুরদের একটি অংশ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল এবং সাম্প্রতিক বাঁকিপুর উপনির্বাচনে ব্রাহ্মণ ভোটের একটি অংশ দল থেকে সরে গিয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে দেখা দিতে পারে।

Anti-reservation rage spills onto streets in UP, Rajasthan, Maharashtra,  Andhra; Shri Rajput Karni Sena vows no vote - India Today

২০২৯-এর আগে উত্তরপ্রদেশ হারানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিজেপি

উত্তরপ্রদেশ বিজেপির একাংশ মনে করছে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উচ্চবর্ণের ভোটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু রাজ্য সরকার গঠনের ওপর পড়বে না, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির জন্য বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

উত্তরপ্রদেশ লোকসভায় বিপুল সংখ্যক আসনের রাজ্য হওয়ায় কেন্দ্রের ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রাজ্যটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উচ্চবর্ণের ক্ষোভকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন দলের নেতারা।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হয়েছে। গত মাসে দলের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি বৈঠকে সভাপতি নীতিন নবীন নেতাদের নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি না দেখার পরামর্শ দেন। দলের এক নেতার দাবি, নবীন আশ্বাস দিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য ভুল ছিল না এবং সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের পথে যাবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষও উত্তরপ্রদেশের নেতাদের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বলেছেন। বিধিমালার বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত কিছু শব্দের কারণে নেতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

রাজস্থানেও দেখা যাচ্ছে অসন্তোষের ছাপ

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি রাজস্থানেও উচ্চবর্ণের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। ৩ আগস্ট জয়পুরে রাজপুত করণী সেনা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালার বিরুদ্ধে সমাবেশ করে। বিক্ষোভকারীরা বিজেপি কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বলপ্রয়োগ করে।

করণী সেনার এই আন্দোলন থেকে বিজেপির জন্য আরেকটি সতর্কবার্তা দেখা যাচ্ছে। তবে রাজস্থানে এখনও এই অসন্তোষ মূলত করণী সেনার কিছু অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতারা এখনও ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হননি।

তবে করণী সেনার মুখপাত্র বিজেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, সংগঠনটি এবার হরিয়ানাতেও প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে।

ভোটের সমীকরণে নতুন চাপ

বিজেপির দীর্ঘদিনের নির্বাচনী শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল উচ্চবর্ণের সমর্থন। সময়ের সঙ্গে দলটি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের সমর্থনভিত্তি বিস্তৃত করেছে। কিন্তু সেই বিস্তারের সঙ্গে পুরনো সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে যদি বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে তা বিজেপির জন্য জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

বিহারের বাঁকিপুরের ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা নিয়ে ক্ষোভ, পরীক্ষার অনিয়ম এবং ২০২৪ সালের ভোটে কিছু উচ্চবর্ণের ভোটের পরিবর্তন—এই সবকটি বিষয় এখন বিজেপির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে সামনে এসেছে।

তবে উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ভোট পুরোপুরি বিজেপির কাছ থেকে সরে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি। ক্ষোভ কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধনমূলক পদক্ষেপ, বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা এবং বিরোধী দলগুলো এই অসন্তোষকে কতটা ভোটে রূপান্তর করতে পারে তার ওপর।

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন তাই শুধু সরকারবিরোধী মনোভাবের পরীক্ষা নয়; বিজেপির পুরনো উচ্চবর্ণের সমর্থনভিত্তি কতটা অটুট রয়েছে, তারও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে।

বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের অসন্তোষ বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিধিমালা, পরীক্ষার অনিয়ম ও ভোটের পুরনো সমীকরণ ঘিরে ২০২৭ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।