০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে ব্র্যাক ও ভিশনস্প্রিং-এর ঘোষণা

  • Sarakhon Report
  • ০২:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪
  • 119

১ কোটি ২১ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সাড়ে ২৪ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা বিতরণ

সারাক্ষণ ডেস্ক

 ১০ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার “বিশ্ব দৃষ্টি দিবস”। দিনটিকে সামনে রেখে ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং একটি মাইলফলক ঘোষণা করেছে: গত ১৮ বছরে সারা দেশে ১ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ১৮৩ জনকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়েছে ব্র্যাক ও ভিশনস্প্রিং। এদের মধ্যে ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৬ জনকে সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা বিতরণ করে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০০৬ সালে যৌথ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সেবা দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চোখের যত্নের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত হয় “বিশ্ব দৃষ্টি দিবস”। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা একজন মানুষের উৎপাদনশীলতা, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। অথচ, সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের মতো একটি সহজ সমাধান মানুষের জীবনকে উন্নত ও স্বাচ্ছন্দময় করে তুলতে পারে।

ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং-এর যৌথ উদ্যোগ, রিডিং গ্লাসেস ফর ইমপ্রুভড লাইভলিহুডস (আরজিআইএল) শীর্ষক কার্যক্রম এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে এনে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষেকে একটি অর্থবহ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

মানিকগঞ্জের দুটি উপজেলায় একটি পাইলট কর্মসূচি হিসাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি ২০২৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ৬১ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমা বিতরণ এবং জটিল রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ৩২ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে চোখের সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের সেবা দিচ্ছেন।

আরজিআইএল কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের বয়স্ক মানুষদের সাশ্রয়ী মূল্যে রিডিং গ্লাস দেয়ার দীর্ঘমেয়াদী যে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে তার অংশ হিসেবে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সঙ্গে ভিশনস্প্রিং-এর যৌথ কার্যক্রম চলছে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এবং গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেয়েছেন, এদের মধ্যে স্বল্প মূল্যে চশমা পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন। উল্লেখ্য, সদস্যদের জীবন-জীবিকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাও দিচ্ছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

‘প্রেসবায়োপিয়া’ বা নিকট দৃষ্টির ত্রুটি বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৩৫ বছরের বেশি।

এই নীরব মহামারির একটি বড় অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। বাংলাদেশে নিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব একটি বড় সমস্যা, যেখানে ৪০ বছরের বেশি বয়সী দেশের প্রায় এক শতাংশ মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে ব্র্যাক ও ভিশনস্প্রিং-এর ঘোষণা

০২:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০২৪

১ কোটি ২১ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সাড়ে ২৪ লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা বিতরণ

সারাক্ষণ ডেস্ক

 ১০ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার “বিশ্ব দৃষ্টি দিবস”। দিনটিকে সামনে রেখে ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং একটি মাইলফলক ঘোষণা করেছে: গত ১৮ বছরে সারা দেশে ১ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ১৮৩ জনকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়েছে ব্র্যাক ও ভিশনস্প্রিং। এদের মধ্যে ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৬ জনকে সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা বিতরণ করে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০০৬ সালে যৌথ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সেবা দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চোখের যত্নের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার পালিত হয় “বিশ্ব দৃষ্টি দিবস”। দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা একজন মানুষের উৎপাদনশীলতা, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। অথচ, সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের মতো একটি সহজ সমাধান মানুষের জীবনকে উন্নত ও স্বাচ্ছন্দময় করে তুলতে পারে।

ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং-এর যৌথ উদ্যোগ, রিডিং গ্লাসেস ফর ইমপ্রুভড লাইভলিহুডস (আরজিআইএল) শীর্ষক কার্যক্রম এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে এনে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষেকে একটি অর্থবহ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

মানিকগঞ্জের দুটি উপজেলায় একটি পাইলট কর্মসূচি হিসাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি ২০২৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ৬১ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমা বিতরণ এবং জটিল রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর পরামর্শ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ৩২ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে চোখের সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের সেবা দিচ্ছেন।

আরজিআইএল কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের বয়স্ক মানুষদের সাশ্রয়ী মূল্যে রিডিং গ্লাস দেয়ার দীর্ঘমেয়াদী যে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে তার অংশ হিসেবে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সঙ্গে ভিশনস্প্রিং-এর যৌথ কার্যক্রম চলছে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর এবং গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেয়েছেন, এদের মধ্যে স্বল্প মূল্যে চশমা পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন। উল্লেখ্য, সদস্যদের জীবন-জীবিকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাও দিচ্ছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

‘প্রেসবায়োপিয়া’ বা নিকট দৃষ্টির ত্রুটি বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৩৫ বছরের বেশি।

এই নীরব মহামারির একটি বড় অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। বাংলাদেশে নিরাময়যোগ্য অন্ধত্ব একটি বড় সমস্যা, যেখানে ৪০ বছরের বেশি বয়সী দেশের প্রায় এক শতাংশ মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে ব্র্যাক এবং ভিশনস্প্রিং।