০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৭)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
  • 127
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

যশোর খুলনা ২৪ পরগনা বাখরগঞ্জ সহ অন্যান্য জেলায় শীতকালে খেজুর গাছ থেকে রস বের করার পদ্ধতি প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ছিল। প্রতিটি গ্রামে গাছ থেকে রস বের করার কাজে শিউলিরা নিয়োজিত থাকত। কার্তিক মাসের দিকে খেজুর গাছের এক পাশের পাতা ছেটে গাছ পরিষ্কার করে অগ্রহায়ণ মাস থেকে রস বের করে সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় করার পদ্ধতি।

কৃষক পরিবার জানত। গুড় জ্বাল দেবার জন্য জালা ও মাটির ভাড় তৈরি এলাকার কুমাররা পটু ছিল। বিভিন্ন গ্রামের কুমাররা শীতকালে গৃহস্থদের রস জ্বালিয়ে গুড় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র সরবরাহ করত। গ্রামে গঞ্জে অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছিল। কোট চাঁদপুর, কেশবপুর, চাঁদুড়িয়া, চৌগাছা, গোবরডাঙ্গা, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, টাকী, খুলনা জেলার দেবহাটা, কুশলিয়া, বড়দল, নবেকী, বাঘের হাট পটুয়াখালি গুড়ের গঞ্জ হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছিল।

বড় বড় চিনির কারখানাগুলি তাদের এজেন্ট বা ব্যাপারীর মারফত বিভিন্ন হাট থেকে গুড় কিনত সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকে। অনেক সময় চাষিদের কাছ থেকে গুড় সংগ্রহের জন্য আশ্বিন কার্তিক মাসে চাষিদের কিছু টাকা অগ্রিম হিসাবে দিত। ব্যাপারীরা নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের দূরতম প্রান্তে খুলনার বিভিন্ন অংশে গুড় সংগ্রহ করার জন্য হাটে যেত এবং চাষিদের কাছ থেকে গুড় সংগ্রহ করত। খুলনার বড়দল, নবেকি সে যুগে গুড়ের হাট হিসাবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিল।

শিবসা নদীর তীরে বড়দল হাট সপ্তাহে একদিন বসত। দূরদূরান্ত থেকে নৌকায় গুড় নিয়ে আসত ব্যাপারীরা। এই গুড় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বড় ব্যাপারীরা চালান দিত। যশোরের চিনিকলের মালিকরা তাদের এজেন্ট মারফত এসব হাট থেকে গুড় সংগ্রহ করত। শীতকালে গুড়কে কেন্দ্র করে কুমারদের ব্যবসা তেজী হয়ে উঠত।

নানা রকমের মাটির পাত্র নিয়ে তারা হাটে যেত। গুড় বিক্রয় করে চাষিরা তাদের প্রয়োজনমতো মাটির ভাড়, জ্বালা ইত্যাদি কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরত। খেজুর গাছ থেকে রস ধরবার জন্য ভাড় থেকে শুরু করে রস জলা দেবার পাত্র, গুড় রাখার পাত্র নানা রকমের মাটির পাত্রের প্রচলন সে যুগে ছিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৭)

১২:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

যশোর খুলনা ২৪ পরগনা বাখরগঞ্জ সহ অন্যান্য জেলায় শীতকালে খেজুর গাছ থেকে রস বের করার পদ্ধতি প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত ছিল। প্রতিটি গ্রামে গাছ থেকে রস বের করার কাজে শিউলিরা নিয়োজিত থাকত। কার্তিক মাসের দিকে খেজুর গাছের এক পাশের পাতা ছেটে গাছ পরিষ্কার করে অগ্রহায়ণ মাস থেকে রস বের করে সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় করার পদ্ধতি।

কৃষক পরিবার জানত। গুড় জ্বাল দেবার জন্য জালা ও মাটির ভাড় তৈরি এলাকার কুমাররা পটু ছিল। বিভিন্ন গ্রামের কুমাররা শীতকালে গৃহস্থদের রস জ্বালিয়ে গুড় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র সরবরাহ করত। গ্রামে গঞ্জে অসংখ্য কারখানা গড়ে উঠেছিল। কোট চাঁদপুর, কেশবপুর, চাঁদুড়িয়া, চৌগাছা, গোবরডাঙ্গা, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, টাকী, খুলনা জেলার দেবহাটা, কুশলিয়া, বড়দল, নবেকী, বাঘের হাট পটুয়াখালি গুড়ের গঞ্জ হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছিল।

বড় বড় চিনির কারখানাগুলি তাদের এজেন্ট বা ব্যাপারীর মারফত বিভিন্ন হাট থেকে গুড় কিনত সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকে। অনেক সময় চাষিদের কাছ থেকে গুড় সংগ্রহের জন্য আশ্বিন কার্তিক মাসে চাষিদের কিছু টাকা অগ্রিম হিসাবে দিত। ব্যাপারীরা নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের দূরতম প্রান্তে খুলনার বিভিন্ন অংশে গুড় সংগ্রহ করার জন্য হাটে যেত এবং চাষিদের কাছ থেকে গুড় সংগ্রহ করত। খুলনার বড়দল, নবেকি সে যুগে গুড়ের হাট হিসাবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিল।

শিবসা নদীর তীরে বড়দল হাট সপ্তাহে একদিন বসত। দূরদূরান্ত থেকে নৌকায় গুড় নিয়ে আসত ব্যাপারীরা। এই গুড় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বড় ব্যাপারীরা চালান দিত। যশোরের চিনিকলের মালিকরা তাদের এজেন্ট মারফত এসব হাট থেকে গুড় সংগ্রহ করত। শীতকালে গুড়কে কেন্দ্র করে কুমারদের ব্যবসা তেজী হয়ে উঠত।

নানা রকমের মাটির পাত্র নিয়ে তারা হাটে যেত। গুড় বিক্রয় করে চাষিরা তাদের প্রয়োজনমতো মাটির ভাড়, জ্বালা ইত্যাদি কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরত। খেজুর গাছ থেকে রস ধরবার জন্য ভাড় থেকে শুরু করে রস জলা দেবার পাত্র, গুড় রাখার পাত্র নানা রকমের মাটির পাত্রের প্রচলন সে যুগে ছিল।